আলোকপাত

নারী নির্যাতন ও হত্যা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫০
নারী নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা নিবারণার্থে যা কিছু প্রয়োজন সবই আমাদের রয়েছে:— মন্ত্রী, আমলা, পুলিশ। তথাপি দুঃখের বিষয় এ অপরাধ অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়েই চলেছে। কারণ আমাদের উদাসীনতা ও আইনের ফাঁক-ফোকর। মন্ত্রীর কাজ প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রণা দেয়া (কুমন্ত্রণা নয়)। উপরোক্ত বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা কতে পারেন। মন্ত্রণালয়ের সুনাম-দুর্নাম অনেকাংশে সচিবের উপর বর্তায়। দেশের সর্বাপেক্ষা মেধাবী ও গুণী ব্যক্তিরা এই পদে আসীন। সচিব কি পারেন না নিজ উদ্যোগে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রীকে দিতে? মন্ত্রী হয়ত ফাইলে ‘দেখলাম’ লিখে সই করে দায়িত্ব সারলেন। কিন্তু এতে হতোদ্যম না হয়ে সচিব তার প্রতিবেদনের একটি কপি চীফ সেক্রেটারিকে দিতে পারেন, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাত্ করে তার মতামত নিতে পারেন। এতে সচিবের অনেক ঝুঁকি থাকতে পারে, কৈফিয়ত তলব করা হতে পারে কেন তিনি মন্ত্রীকে ডিঙ্গিয়ে উপরে গেলেন ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট হলে তার ভয়ের কিছু থাকবে না। যাকে মনে রাখতে হবে তিনি রাষ্ট্রের এবং মানবতার একটি মহত্ কাজে নেমেছেন। তারপর রয়েছে আমাদের দক্ষ পুলিশবাহিনী যাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে দুষ্কৃতকারী আসামিরা। এই পুলিশকেও ধর্ষণকারীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে আরও তত্পর হতে হবে,— প্রয়োজনীয় তাদের প্রচলিত কর্মধারা ছাড়িয়ে গিয়ে আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। পত্র-পত্রিকায় দেখা যায় থানা থেকে বলা হয় এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি— পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। না, এ ধর্ষণের কথা শোনামাত্রই দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পূরতে হবে। কোনক্রমেই তাকে জামিন দেয়া যাবে না। বর্তমান সংসদ অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা যেতে পারে। ধর্ষিতাকে হত্যা করা হোক বা না হোক ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ডসহ দশ লাখ টাকা জরিমানা করে ঐ টাকা ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে দিয়ে দিতে হবে। এবং সকল প্রকার নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচার করতে হবে দ্রুত বিচার আদালতে। ধর্ষকের ছবি টিভি ও সংবাদপত্রে দেখাতে হবে। এ ব্যাপারে কোন গ্রাম্য সালিশ চলবে না। কোন মন্ত্রীর, এমপির অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ চলবে না। ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণকারী পুলিশকে যথোপযুক্ত পুরস্কৃত করতে হবে। মানববন্ধন, মিছিল, বুদ্ধিজীবীদের সংবাদ সম্মেলন, আলোচনা সভা এ রূপ কার্যাবলির ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা সোনার বাংলা গড়তে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা অসাধ্য সাধন করতে পারি। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনী রূপে গর্বিত পাক-সেনাবাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে মাত্র নয় মাসে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমরা কি না করতে পারি। আমাদের শ্লোগান হোক: ধর্ষণের পরিসমাপ্তিই আমাদের ধর্ম-কর্ম, ধ্যান-ধারণা। লেখক :অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন