আমরা মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার কল্যাণ সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্যগণ প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে এবং ১৬ ডিসেম্বরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে অন্তরের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য সেখানে যাই।
বাঙালিরা বীরের জাতি। তাই বলে তো আমাদের সোনার ছেলেরা সব সময় ছিনিয়ে এনেছে কত বিজয়গাথা কত বিজয়ের কথা।
মনে হয় এই তো সেদিন ’৫২ সালে সোনার ছেলেরা মাতৃভাষার জন্য ঢাকার রাজপথ রক্তাক্ত করে বিনিময়ে নিয়ে এলো আমাদের রাষ্ট্রভাষা। তাদের রক্তভেজা অবদানকে শুধু আমরাই স্মরণ করছি না। আজ সারা বিশ্ব তাদের রক্তভেজা অবদানকে শ্রদ্ধা করছে। আজ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে। এটা বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ ২য় অর্জন, যার মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল মহান মুক্তি সংগ্রামের জয়গান তথা বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ ১ম অর্জন আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। আরো মনে হয় এ মহান মুক্তি সংগ্রামকে বেগবান করতে ৬ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর অগ্নিঝরা আন্দোলন ও ’৭০-এর বাঙালির গণজাগরণের গণরায়, যা সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন তথা প্রিয় স্বাধীনতা পেতে কত না বলিষ্ঠ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকা রেখেছে। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মূল্যবোধের ধারাবাহিকতায় দেশ শাসন থেকে শুরু করে সামাজিক সব কর্মকাণ্ড আমরা যদি সেইভাবে পরিচালিত করতে পারি তাহলে দেশে অবশ্যই সুশাসন ফিরে আসবে আশা করি। পাকিস্তানে তাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও তার অর্জন সম্পর্কে সে দেশের জনসাধারণের দ্বিমত নেই বলে তারা তাদের জাতির পিতাকে সবাই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। এই তো সেদিন টিভিতে দেখলাম সে দেশের নারী শিক্ষা আন্দোলনের দুনিয়া কাঁপানো কিশোরী মালালা ইউসুফজাই পড়ার ঘরে তাদের দেশের জাতির পিতা সম্পর্কিত একটি বই পড়ছে। ভারতেও আমরা এরকম চিত্র কত দেখতে পাই। আমরা জানি তাদের দেশের জাতির পিতা স্বাধীনতা আন্দোলনে তাদের ভূমিকার চেয়ে আমাদের দেশের জাতির পিতার ভূমিকা অনেক বর্ণাঢ্যময়। অথচ আমরা অনেকে বঙ্গবন্ধুকে “বঙ্গবন্ধু”, কেউ শেখ মুজিবুর রহমান, আবার কেউ কেউ ভারতের দালাল বলে আখ্যায়িত করি। একথা আমরা অনেকে স্বীকার করতে চাই না যে, বঙ্গবন্ধু ছাড়া দেশ স্বাধীন হতো না। তিনি আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিলেও দেশের কতিপয় উর্দিপরা বেঈমানের ব্রাশফায়ারে তিনি শাহাদতবরণ করেন। তিনি হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। আমাদের জাতির পিতা। তাই অন্যান্য দেশের জাতির পিতার মতো আমাদের সবাইকে দলমত নির্বিশেষে তাকে শ্রদ্ধা করতে হবে। কারণ আমাদের একতা ও দেশ সুশাসনের জন্য তা অপরিহার্য বটে।
তাই একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে দেশে সুশাসন, বিদ্যমান রাজনীতির সংস্কৃতি ও সেবায় আশু পরিবর্তন চাই এবং আমিও বলতে চাই যে, ১। আমরা কোন দলের লোক নই। আমরা বাঙালি। ২। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হোক আমাদের ঐক্য এবং গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র। ৩। দুর্নীতিবাজরা গণতন্ত্রের বড় শত্রু। ৪। দেশ পরিচালিত হোক দেশপ্রেমিকদের দ্বারা, সুবিধাভোগীদের দ্বারা নয়। ৫। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান।
লেখক : ডাইরেক্টর, কো-অর্ডিনেশন
এন্ড হেড অব ডেভলপমেন্ট
