চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির এই বেহাল দশা কেন

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির যেই বৃত্তান্ত গত বুধবারের ইত্তেফাকে প্রকাশিত হইয়াছে তাহাতে বিচলিত না হইয়া উপায় নাই। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি কতোখানি গুরুত্বপূর্ণ তাহা নামেই স্পষ্ট। কিন্তু নামের সাথে বাস্তবতার ফারাক দুস্তর। দেশে উত্পাদিত ওষুধের মান যাচাই করাই প্রতিষ্ঠানটির কাজ। কিন্তু কাজটি যাহারা করিবেন সেই রসায়নবিদ, জীবাণুবিদ ও টেকনিশিয়ানদের ২২টি পদই শূন্য। তন্মধ্যে রহিয়াছে এনালিস্টের ৫টি পদও। একজন জীবাণুবিদ ছিলেন। কয়েকমাস আগে তাহাকেও ঢাকায় বদলি করা হইয়াছে। অথচ ঢাকায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় এই ল্যাবরেটরিটিতে দক্ষ জনবলের প্রাচুর্য রহিয়াছে বলিয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়াছে। চট্টগ্রামের ল্যাবরেটরিতে এলোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথিকসহ সবধরনের ঔষধের মান যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকিলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেইগুলির অবস্থা আরও শোচনীয়। দুই বত্সর অন্তর সংস্কারের কথা থাকিলেও গত ৮-১০ বত্সর কোনো সংস্কারই হয় নাই। ফলে এইসব যন্ত্রপাতির কার্যকারিতাও হ্রাস পাইতেছে। ফলে যাহা হইবার তাহাই হইতেছে। শুধু যে মান যাচাইয়ের অপেক্ষায় থাকা ঔষধের স্তূপ জমিয়া উঠিয়াছে তাহাই নহে, সেইসাথে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইতেছে ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণের অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজটিও। বাড়িতেছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি। সর্বাপেক্ষা উদ্বেগজনক তথ্যটি হইল—দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটিতে বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া এই অচলাবস্থা চলিয়া আসিতেছে। ইত্তেফাকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি দফায় দফায় অবহিত করিয়াও কোনো ফল হয় নাই। চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক হইলেও ইহা যে বিচ্ছিন্ন কিছু নহে তাহাও বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন যাবত্ একই ধরনের নৈরাশ্যজনক অবস্থা বিরাজমান। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে চিকিত্সক সংকট একটি নৈমিত্তিক বিষয় হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সংবাদপত্রে নিয়মিত লেখালেখিও হইতেছে। বিষয়টি নীতিনির্ধারক মহলও ভালো করিয়াই জানেন। এমনকী জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত আলোচনাও হয় মাঝেমধ্যে। কিন্তু পরিস্থিতির খুব একটা হেরফের হয় না। কেন হয় না সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলই তাহা ভালো বলিতে পারিবেন। তবে দিনের পর দিন যে এই অবস্থা চলিতে পারে না তাহা লইয়া দ্বিমত নাই। খাদ্য ও ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এমনিতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদুপরি, এই ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা এককথায় ভয়াবহ। সবধরনের খাদ্যে প্রাণঘাতী রাসায়নিকসহ বিভিন্ন প্রকার বিপজ্জনক ভেজাল মিশানোর বিষয়টি সর্বজনবিদিত। জীবন রক্ষাকারী ঔষধও রক্ষা পায় নাই আত্মঘাতী এই ব্যাধি হইতে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকেই স্বীকার করা হইয়াছে যে, বাজারে এখন নিম্নমানের, নকল ও ভেজাল ঔষধের ছড়াছড়ি। ভেজাল প্যারাসিটামলের কারণে বেশকিছু শিশুমৃত্যুর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতাটিও বেশিদিন আগের নয়। এ রকম একটি নাজুক প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির যেই চিত্রটি ইত্তেফাকে তুলিয়া ধরা হইয়াছে তাহা আতঙ্কিত হইবার মতো। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে অনতিবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন