০০০০০০০০০
গণতন্ত্রের আড়ালে লালন করে অগণতান্ত্রিক
মনোভাব
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশ। এ দেশ ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এ দেশের সরকার ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি সকল নেতা এবং রাজনৈতিক নেতারা মনেপ্রাণে গণতন্ত্র বিশ্বাস করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ বিশ্বাস শুধু তাদের মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ বিশ্বাসকে কর্মে রূপ দিতে তারা অপারগ। গণতন্ত্র, নীতি-নৈতিকতার কথা সব মুখের বুলি, কিন্তু বাস্তবে সবকিছু উল্টো। গণতন্ত্র বিশ্বাস করলেও অন্তরে লালন করে অগণতান্ত্রিক মনোভাব। দেশ ও জনগণের স্বার্থের চেয়ে বড় করে দেখে নিজের ও দলের স্বার্থটাকে।
তাহলে এখন প্রশ্ন—এই দেশের কি কখনো উন্নয়ন হবে না? হ্যাঁ হবে। যদি উন্নয়নের সদিচ্ছা রাখে এমন জনপ্রতিনিধি পাওয়া যায়। যে কর্মে বিশ্বাসী থাকবে, মুখের বুলিতে নয়। যে গণতন্ত্রকে অন্তর থেকে লালন করবে। দেশ ও দেশের জনগণের জন্য নিজের সবকিছু উত্সর্গ করবে। আমাদের জনগণ উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব পোষণ করলেও নেতা-নেত্রীরা তা করতে পারেন না। দিনের পর দিন আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতময় আকার ধারণ করছে। বাড়ছে জনগণের মনে নানা রকমের উত্কণ্ঠা। এই মুহূর্তে এমন এক ব্যক্তিকে দরকার যিনি শক্ত হাতে এই সকল সমস্যার সমাধান করবেন। আর অগণতান্ত্রিক চেতনা নয়, গণতান্ত্রিক চেতনায় দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখবেন।
সনেট দেব
বি.এস.এস. (সম্মান) ৩য় বর্ষ
অর্থনীতি বিভাগ
চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।
০০০০০০০০০০০
আগামী নির্বাচন হতে হবে সর্বদলীয় সরকারের
অধীনে!
নির্বাচন নাগরিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম একটি প্রধান অধিকার। বিষয়টি আরো স্পষ্ট করলে বলা যায় যে, নির্বাচন হচ্ছে যেকোন নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার। আমাদের সকলেরই উচিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে অথবা নির্বাচনে প্রার্থীদের ভোট দিয়ে এই রাজনৈতিক অধিকার উপভোগ করা আর কখনো কোন বাধা আসলে তার সমাধানও করতে হবে নাগরিকদেরই। আমরা সহজেই দেখতে পাচ্ছি যে, বর্তমানে আমাদের দেশেও নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে আর এই শঙ্কার কারণ হচ্ছে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া। নির্বাচন নিয়ে দেশের এই সংকটময় সময়ে একজন নাগরিক হিসাবে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আগামী সংসদ নির্বাচন হতে পারে সর্বদলীয় সরকারের অধীনে। এখন প্রশ্ন হতে পারে সর্বদলীয় সরকারের সদস্য সংখ্যা হবে কতজন? হয়তোবা এটাও প্রশ্ন হতে পারে, সর্বদলীয় সরকার প্রধান হবেন কে? সর্বদলীয় সরকারের জন্য সংবিধান স্বীকৃত প্রত্যেকটি দল থেকে প্রয়োজনমতো নির্বাচিত প্রতিনিধি বাছাই করতে হবে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে আলোচনা হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। সর্বদলীয় সরকারের প্রধান কে হবেন? এ প্রশ্নের জবাবে বলা যেতে পারে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার সমর্থনে এমন একজনকে এই গুরুদায়িত্ব দেয়া হোক যে ব্যক্তি থাকবেন সকলের আস্থাভাজন এবং যাকে নিয়ে অস্বচ্ছতার কোন প্রশ্ন উঠবে না আর যে কথাটা বলা বেশি জরুরি তা হচ্ছে, সর্বদলীয় সরকারের প্রধান হবেন অবশ্যই সরকারি ও বিরোধী দলের বাইরে থাকা কোন ব্যক্তি; কেননা এর বিপরীত কিছু হলে সরকার ও বিরোধী দল প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ দল থেকে সর্বদলীয় সরকার প্রধান চাইতে পারে। প্রয়োজন হলে সর্বদলীয় সরকার প্রধান কে হবে, এই বিষয়টি নিয়ে গণভোট চালানো যেতে পারে। এখানে আরো বলা দরকার যে, আগামী সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে।
তারেক রহমান
স্নাতক সম্মান (বাংলা)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ।
০০০০০০০০০০০
গণভোট হতে পারে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের অন্যতম সমাধান
বাংলাদেশের অনেক জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতি বিশ্লেষকের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন ব্যবস্থা। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার এর পতনের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু অগ্রযাত্রায় অনন্য ভূমিকা পালন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার অধীনে ইতিমধ্যে কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যদিও প্রতিবারই পরাজিত পক্ষ কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।
সর্বশেষ ২০০৭ সালে যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল তখনি ইয়াজউদ্দীন আহমেদের ব্যর্থতার সুযোগে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের চক্রান্তে ১/১১ এর সৃষ্টি হয়। পুনরায় যাতে ১/১১ এর সৃষ্টি না হয় এই যুক্তিতেই বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধাচরণ করছে।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, কোনো ব্যবস্থার অপপ্রয়োগ হলে আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে তা ঐ ব্যবস্থার কোনো দোষ নয় তা ঐ ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর দোষ। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহালে ১/১১ এর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে পারলে, বাংলাদেশেও ক্ষমতাসীন দলের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হওয়া সম্ভব। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মত বাংলাদেশে তো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো তেমন বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়নি যে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হবে। তাই রাজনৈতিক সংঘাত এড়াতে হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহাল অতীব জরুরি।
তবে সংবিধানমতে, যেহেতু রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ, তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হবে নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে হবে এর উপর গণভোটের আয়োজন করে জনগণের মতামত নিয়ে সে অনুসারে যদি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হয়, আমার মনে হয় সেটিই হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের উপযুক্ত নির্বাচন পদ্ধতি। কেননা এক্ষেত্রে জনগণের মতামতই প্রাধান্য পাবে। আর তখনই জনগণের শাসন তথা গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ, ‘‘Democracy is the government of the people, by the people and for the people.’’
মো. আব্দুল হাকিম নাঈম
ফার্মেসী বিভাগ, ৩য় বর্ষ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
