অসুস্থ রাজনীতি আজকের বাংলাদেশের সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান সমস্যা
দুটি সামরিক শাসন অতিক্রম করে নব্বই-এর দশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত সাংঘর্ষিকই রয়ে গেছে। আর এই সাংঘর্ষিক রাজনীতির মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের আপামর জনসাধারণকে। বাংলাদেশের সর্বত্র আজ অস্থিরতা বিদ্যমান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংঘাত, কারখানাগুলোতে শ্রমিকের সংঘর্ষ, গার্মেন্টস সেক্টরে নৈরাজ্য, প্রশাসনে সীমাহীন দুর্নীতিসহ মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ঘোষণার ফলে দেশে একটি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটের উত্তরণ কিভাবে হবে তা নিয়ে দেশের মানুষ আজ অত্যন্ত চিন্তিত। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া পুরোটাই বিতর্কিত এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোন মানেই এ বিচার নিরপেক্ষ নয়, এ সত্য আজ দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। এ নিয়ে গোটাজাতি আজ চরম হতাশায় ভুগছে। রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনসেবা। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি অনেকের জন্য একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। অসুস্থ রাজনীতি আজকের বাংলাদেশের সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান সমস্যা। সংঘাত এবং প্রতিশোধের এ রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া এ সংকট উত্তরণের কোন উপায় নেই। খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ১৬ কোটি মানুষের ছোট্ট এই দেশটি যে একটি সম্ভাবনাময় দেশ তাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রয়োজন শুধু সঠিক নেতৃত্বের।
মো.সাইফউদ্দিন আবির
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
উদার গণতন্ত্র বলতে যা বুঝায় তা আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের খুব ভালো করেই বুঝতে হবে
আমাদের দেশের যে ১৬ কোটি মানুষ রয়েছে তা এখন অনেকাংশেই নির্ভর করছে রাজনীতিবিদদের ওপর। তাদের বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের ওপর দেশ তথা আজকের বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ অনেকাংশেই নির্ভরশীল। কিন্তু যাদের ওপর আমাদের জনসাধারণের বিশ্বাস বা আস্থার জায়গা সেটিই যদি নষ্ট হয় তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে কাদের নিয়ে। উদার গণতন্ত্র বলতে যা বুঝায় তা আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের খুব ভালো করেই বুঝতে হবে।
রাকিবুল হাসান রাসেল,
অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,
সাভার, ঢাকা-১৩৪২।
আমরা এমন কোন রাজনীতি দেখতে চাই না যেখানে স্বাভাবিক গণতন্ত্র ভুলুণ্ঠিত হয়
আমাদের আগামী প্রজন্ম যেখানে স্বপ্ন দেখবে সোনার বাংলাদেশ গড়বার সেখানে আজকের রাজনীতির হানাহানি ও পারস্পরিক অনাস্থা দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে তা ভেবে দেখবার সময় এসেছে। সময় এসেছে নতুন করে ভাববার। আমাদের দেশ যে মহান উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল তা আজ অনেকাংশেই পূরণ হয়নি। আজও আমরা দেখি হরতালের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়। মানুষের স্বাভাবিক জীবনের নিরাপত্তা দেয়ার যেন কেউ নেই। কিন্তু বাস্তবে এর উল্টো হবার কথা ছিলো। গণতান্ত্রিক ধারায় এখানে সবার অংশগ্রহণের কথা ছিল। সবার সমান অংশগ্রহণে দেশকে সামনে এগিয়ে নেবার কথা ছিল সবার। বাস্তবতা আমাদের সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা এমন কোন রাজনীতি দেখতে চাই না যেখানে স্বাভাবিক গণতন্ত্র ভুলুণ্ঠিত হয়। মানুষের অধিকার হরণ করা হয়। চাই সুষ্ঠু স্বাভাবিক রাজনীতি।
আলী হোসাইন রাকিব
সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,
সাভার, ঢাকা-১৩৪২।
উদার গণতন্ত্রের আসল রূপ আমরা তখনই দেখতে পাব যখন কিনা দেশের রাজনীতি জনগণের কথা বলছে
ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। যেখানে নির্বাচন নাগরিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম একটি প্রধান অধিকার। আর এ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে চলছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে টানাপোড়েন। সেখানে আজকে সাধারণ মানুষের মতামত বা মূল্যায়নের সুযোগ শুধু ব্যালেট বাক্স পর্যন্তই রাখা হয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক ধারায় মানুষের অংশগ্রহণটা ছিলো অনেকাংশেই জরুরি। তাই উদার গণতন্ত্রের আসল রূপ আমরা তখনই দেখতে পাব যখন কিনা আমরা দেখবো দেশের রাজনীতি পরিবার বা ক্ষমতার ঊর্ধ্বে বিবেচিত হচ্ছে।
দিদারুল হক
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,সাভার, ঢাকা-১৩৪২।
নীতির পরিবর্তন ঘটলেই উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল হবে
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ ৪২ বছর। কিন্তু এই ৪২ বছরে বাংলাদেশের আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। যে আকাঙ্ক্ষা, যে লক্ষ্য নিয়ে দেশটির জন্ম হলো আজ তার কতটুকু পূরণ হয়েছে? পৃথিবীর অন্যান্য দেশ স্বাধীন হওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যে উন্নতির শিখরে পৌঁছে গেছে। আমরা আজও পৌঁছাতে পারিনি। আজও আমরা পড়ে আছি দাতা দেশগুলোর আনুকূল্যের জন্য! এর প্রধান কারণ আমাদের দেশে সুস্থ রাজনীতির চর্চা নেই। দলাদলি, হানাহানিতে আজ আমরা অতিষ্ঠ। রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের নামে চলে হরতাল—চলে ধ্বংসযজ্ঞ। অথচ মুখে ‘গণতন্ত্র’ বলে চিত্কার করে রাজনীতিকরা।
এই ছাত্র রাজনীতির কথাই ধরুন। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং মনে হয় এখন ছাত্র রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরেছে। এর থেকে বের হওয়ার পথ আজ বের করতে হবে। সবার নীতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। নীতিগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সুস্থ রাজনীতির চর্চা করতে হবে। যারা ছাত্রদের লিড দেয়, যারা কর্মীদের লিড দেয় যদি তাদের নীতিই ঠিক না থাকে তবে কর্মীরা কি শিখবে? কথায় আছে-সামনের চাকা যে পথে যায় পেছনের চাকাও সে পথে যায়। আমরা যদি আমাদের নীতিগত পরিবর্তন করতে পারি তবে আমরাও পৌঁছে যাব স্বর্ণযুগে। সেদিন হয়তো আর বেশি দূরে নয়।
নূরুল ইসলাম
৮ম সেমিস্টার, ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি,
চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম।
