বিসিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির সংকট

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫০
‘বরিশালের বিসিকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি হুমকির মুখে’। ইহা গত শনিবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম। খবর অনুযায়ী এখানকার প্রধান সমস্যা বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। শীত কমিবার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা দিন দিন প্রকট হইয়া উঠিতেছে। চাহিদার অর্ধেকও বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হইতেছে না। তাহার উপর জাতীয় গ্রিডের ‘স্ক্যাডা’ (বিশেষ পদ্ধতিতে ফিডার সংযোগ বন্ধ করা) সমস্যায় দুর্ভোগ বাড়িয়াছে। এই বিসিক শিল্প এলাকাটি কাশিপুর ফিডারের অধীনে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিড পরিচালনায় দায়িত্বরত ঢাকার প্রকৌশলীরা যে কোন সময় ঢাকায় বসিয়া যে কয়েকটি ফিডারে স্ক্যাডা পদ্ধতিতে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ করিতে পারেন, এই ফিডারটিও তাহার অন্তর্ভুক্ত। এইখানে গড়ে অফপিক আওয়ারে ২৮ ও পিকআওয়ারে ৪২ হইতে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হইয়া থাকে। অথচ চাহিদা যথাক্রমে ৪৫ ও ৭৫ মেগাওয়াট। ঠিকমত বিদ্যুত্ না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হইতেছে। শ্রমিকদের সার্বক্ষণিক কাজে লাগানো সম্ভব হইতেছে না। তাহাদের বেতন-ভাতা অনিশ্চিত হইয়া পড়িতেছে। এমনকি উপর্যুপরি লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্যাক্টরির যন্ত্রপাতি ও মালামাল নষ্ট হইয়া যাইতেছে। দ্রুত শিল্পায়ন, সুষম উন্নয়ন, আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেকার সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বা বিসিক অনবদ্য অবদান রাখিয়া যাইতেছে। ঐতিহ্যবাহী ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান আমলে ১৯৫৭ সালে। তখন ইহার নাম ছিল ইস্ট পাকিস্তান স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাষ্ট্রিজ করপোরেশন বা ইপসিক। বর্তমানে সারা দেশে ৭৯টি বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিসিকের অধীনে ৯৮,৭৫০টি ক্ষুদ্র ও ৬,৪০,৯৩৯টি কুটির শিল্প রহিয়াছে। ইহাতে সব মিলাইয়া ৩২ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হইয়াছে। কিন্তু আজ অনেক বিসিক শিল্পনগরীরই ভগ্নদশা। কোনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। আবার কোনটি পরিত্যক্ত হইয়া পড়িয়াছে। বরিশালসহ যেসব এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু আছে সেখানেও সমস্যার অন্ত নাই। তাই বিসিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রাণশক্তি সঞ্চার করা আজ খুবই জরুরি। বিসিক শিল্পনগরীসহ যে কোন শিল্পের জ্বালানি চাহিদা সর্বাগ্রে মিটানো অত্যাবশ্যক। বিদ্যুত্ দিতে না পারিলে বিকল্প জ্বালানি শক্তির কথাও ভাবিতে হইবে। তাহাছাড়া বিসিক শিল্প নগরীর অন্যান্য সমস্যারও সমাধান করা প্রয়োজন। যেমন- সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান, সুদের হার তুলনামূলকভাবে হ্রাস, এই শিল্পের পরিধি বাড়াইতে নানা প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান ইত্যাদি। তবে বিসিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের দুর্দশার প্রধান কারণ হইল, বিশ্বায়নের প্রভাবে ঐতিহ্যগত পণ্য উত্পাদনের বাজার ক্রমশ সংকুচিত হইয়া আসে। এখন নূতন করিয়া বাজার সম্প্রসারণ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকিয়া থাকিতে হইলে ভোক্তা সাধারণের চাহিদা ও রুচির দিকে খেয়াল রাখিতে হইবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও বাড়াইতে হইবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন