ফুলের মূল্য

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৪
সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষের কাছে ফুলের কদর অনাদিকালের। সকল বাঙালির জীবনে সব সময় না হইলেও, উত্সব-আয়োজনে ফুল ছাড়া চলে না। বাঙালি হিন্দুর পূজায়-পার্বণে ফুল অপরিহার্য। ফুল চাই বিবাহ অনুষ্ঠানেও। ফুল সাফল্যের প্রতীক, সম্মানের প্রতীক, ভালবাসার তো বটেই। একটি কিংবা একমুঠো ফুল যাহাকে উপহার দেওয়া হয় এবং যিনি দেন মুগ্ধতায় আপ্লুত হন উভয়ই। ফুলের শোভা ও ঘ্রাণ আকুল করে মন। প্রস্ফুটিত কুসুম আনিয়া দেয় চিত্ত প্রশান্তি, সৃষ্টি করে অনাবিল আবহ, যদিও ফুল কীটদুষ্ট হইয়া থাকে। ফুল লইয়া এ যাবত্ কত গান আর কত কবিতা রচিত হইয়াছে তাহার কোনো ইয়ত্তা নাই। তাহা হইলেও এখন হইতে তিরিশ বত্সর আগে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল চাষের কথা খুব কম লোকই চিন্তা করিতে পারিয়াছে। মাঠে মাঠে ফুলের সমারোহ— এ কোনো সহজ কল্পনা ছিল না সেইকালে। কিন্তু আজ মাঠ জুড়িয়া ফুটিয়া আছে ফুল- এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য বিরল নয়। যশোরের কমপক্ষে পাঁচটি উপজেলার মাঠে মাঠে ফুলের সমারোহ দেখিয়া চক্ষু জুড়ায় যে কাহারও। জানা যায়, ওই জেলার সহস্রাধিক একর জমিতে ফুলের আবাদ হইতেছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে। দেশি ও বিদেশি মিলাইয়া সেখানে পুষ্পের চাষ হয় বার ধরনের। যশোরে প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হয় ১০ লাখ টাকার ফুল। আর বিভিন্ন পর্যায়ে ইহার সাথে জড়াইয়া আছে দশ লাখ নারী ও পুরুষের জীবন ও জীবিকা। ফুলের বাগানে, ফুলের বাজারে কাজ করিয়া অনেকেই আয়-রোজগারের বেশ একটা পথ করিয়া লইয়াছেন। সমপ্রতি ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা সফর করিয়া আসেন ফুলপ্রধান ওই এলাকা। তিনি গিয়াছিলেন গদখালি গ্রামে। সেই খানে নানান ফুলের সমারোহ দেখিয়া তিনি মুগ্ধ-বিমোহিত। এই গ্রামেই উত্পন্ন হইয়া থাকে সবচাইতে বেশি ফুল। মর্কিন রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করিয়া বলেন, এই গদখালির ফুল শুধু বাংলাদেশে নয়, একদিন ইউরোপ-আমেরিকায়ও যাইবে। এই আশাবাদ অমূলক নহে। ফুলের চাহিদা রহিয়াছে কমবেশি সব দেশেই। ইউরোপ-আমেরিকায় ফুলের চাহিদা যত তাহার তুলনায় উত্পাদন কম। তাহাদের ফুল আমদানি করিতে হয়। এশিয়ার দেশসমূহেও ফুলের চাহিদা রহিয়াছে। অন্যদিকে বাংলাদেশেও ফুলের বাজার ক্রমেই প্রসারিত হইয়া চলিয়াছে। জাতীয় ভিত্তিক বিভিন্ন উত্সব উপলক্ষে এই খানে ফুলের চাহিদা বিপুলভাবে বাড়িয়া যায়। ইহাছাড়া প্রতিদিনই লোকে ফুল কিনিয়া থাকেন। প্রিয়জনকে ফুল উপহার দিবার রেওয়াজ এই কালে বলিতে গেলে সর্বজনীন হইয়া গিয়াছে। জন্মদিনে, বিবাহবার্ষিকীতে, সাধারণ সৌজন্য-সাক্ষাতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরসমূহে, এমনকি অনেক উপজেলা সদরেও আজকাল ফুলের দোকান হইয়াছে। কাজেই বাংলাদেশে ফুলের চাষ সম্প্রসারণের সমূহ সম্ভাবনা যে রহিয়াছে, তাহাতে কোনোই সন্দেহ নাই। ইতোমধ্যে অনেক জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের আবাদ শুরু হইয়াছে। ঢাকার অদূরে সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে ফুলের আবাদ হইতেছে। উদ্যোক্তারা লাভবান হইতেছেন। তবে, ফুলচাষের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা-সীমাবদ্ধতাও রহিয়াছে। আছে বীজের সমস্যা। ফুল সংরক্ষণেরও ভাল ব্যবস্থা নাই। এইসব সমস্যার সমাধান করিতে হইবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন