প্রিয় শিক্ষার্থীরা, ঝত্রলড়হংযরষ.পড়স রচিত সৃজনশীল লেসনে তোমাদের স্বাগতম। আজ আমরা গত রবিবারে প্রকাশিত সৃজনশীল প্রশ্নটির নমুনা উত্তর আলোচনা করবো এবং সেই সাথে অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের অনুশীলনের জন্য কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ের একটি সৃজনশীল প্রশ্ন প্রকাশ করবো। এই লেসনটি তোমরা একযোগে পাবে .িঝত্রলড়হংযরষ.পড়স ওয়েবসাইট ও তোমাদের পছন্দের দৈনিক ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায়।
আজকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (কৃষি বিজ্ঞান)
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
তারেক সাহেব তার বাড়ির একটি দোচালা ঘরের মেঝেতে আবদ্ধ অবস্থায় মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঐ ঘরটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ৩৫ মিটার ও ১৫ মিটার। তার দেখাদেখি তার মেয়ে তুশিও দশ বারোটি দেশি মুরগি পালন করে, তবে ছাড়া অবস্থায়। তারেক সাহেব মুরগির অনেক যত্ন করেন। কিন্তু সে হিসেবে তুশি কিছুই করেনা। তারপরও তার মুরগিগুলো খুব সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠছে দেখে সে ভাবে তার বাবাও যদি তার মতো করে মুরগি পালন করতো তবে এত খাবার-দাবার, যত্নআত্মি করতে হতো না।
ক. দেশি মুরগি বছরে গড়ে কতটি ডিম দেয়?
খ. ডিপ লিটার পদ্ধতিতে ঘরের মেঝে ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হয় না কেন?
গ. তারেক সাহেব দোচালা ঘরটিতে কতটি বাড়ন্ত মুরগি পালন করতে পারবেন?
ঘ. মুরগি পালনের পদ্ধতি নিয়ে তুশির ভাবনাটি মূল্যায়ন করো।
নমুনা উত্তঃ
ক. দেশি মুরগি বছরে গড়ে ৪৫টি ডিম দেয়।
খ. ডিপ লিটার পদ্ধতিতে মুরগি পালনের ক্ষেত্রে ঘরের মেঝেতে ১৫-২০ সে.মি. পুরু বিছানা তৈরি করা হয়। এই বিছানা তৈরিতে ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া, খড় বা পাতা চূর্ণ ব্যবহার করা হয়। এই পুরু বিছানা মুরগির পায়খানার জলীয় অংশ শোষণ করে নেয়। ফলে মেঝে শুকনো থাকে। বিছানার পুরুত্বের জন্য মুরগির পায়খানা মেঝের সাথে লেগে যায় না। সপ্তাহে একবার লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে খড়ের কুচি, কাঠের গুঁড়া ওলট পালট করে দিলেই মুরগি থাকার জায়গা অনেক দিন পর্যন্ত বসবাসের উপযোগী থাকে। তাই ডিপ লিটার পদ্ধতিতে ঘরের মেঝে ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হয়না।
গ. দেওয়া আছে, তারেক সাহেব একটি দোচালা ঘরের মেঝেতে আবদ্ধ অবস্থায় মুরগি পালন করেন। আর সেই ঘরটির
দৈর্ঘ্য = ৩৫ মিটার = (৩৫ ী ১০০) সে.মি. = ৩৫০০ সে.মি.
ও প্রস্থ = ১৫ মিটার = (১৫ ী ১০০) সে.মি. = ১৫০০ সে.মি.
সুতরাং, ঘরটির ক্ষেত্রফল = (৩৫০০ ী ১৫০০) বর্গ সে.মি. = ৫২৫০০০০ বর্গ সে.মি.
আমরা জানি, মেঝেতে মুরগি পালনের ক্ষেত্রে ১ টি বাড়ন্ত মুরগির জন্য ১৮০০ বর্গ সে.মি. জায়গা দরকার।
তাহলে, ৫২৫০০০০ বর্গ সে.মি. জায়গায় বাড়ন্ত মুরগি পালন করা যাবে = ৫২৫০০০০/১৮০০ টি = ২৯১৭ টি (প্রায়)।
সুতরাং তারেক সাহেব ঐ দোচালা ঘরে প্রায় ২৯১৭ টি বাড়ন্ত মুরগি পালন করতে পারবেন।
ঘ. তুশি ছাড়া অবস্থায় মুরগি পালন করাতে তাঁর হয়তো শ্রম ও খরচ দুই-ই কম লাগে। কিন্তু, এই পদ্ধতিতে অনেকগুলো অসুবিধা আছে যা তারেক সাহেবের পদ্ধতিতে (মেঝেতে মুরগি পালন পদ্ধতি) নেই। যেমনঃ
খোলা পদ্ধতিতে মুরগি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে বলে চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু মেঝেতে মুরগি পালনে মুরগি আবদ্ধ অবস্থায় থাকে বলে চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় থাকেনা।
খোলা পদ্ধতিতে মুরগি যেখানে সেখানে মলত্যাগ করে ও ডিম পাড়ে। এতে পরিবেশ নষ্ট হয় এবং অনেক ডিম হারিয়ে যায়। কিন্তু মেঝেতে মুরগি পালনের ক্ষেত্রে মুরগি ঘরের বাইরে যেতে পারেনা বলে এই সমস্যাগুলো থাকেনা।
ছাড়া অবস্থায় মুরগি পালনে মুরগি খাবারের জন্য মুক্তভাবে বিচরণ করে বলে সবজি বাগান নষ্ট হয় এবং প্রবিবেশীদের বিরক্ত করে। মেঝেতে মুরগি পালনের ক্ষেত্রে এই সব সমস্যা থাকেনা।
ছাড়া অবস্থায় সর্বোচ্চ ১৫-২০ টি মুরগি পালন করা যায়। এর বেশি পালন করলে উপরোক্ত অসুবিধাগুলো আরও বাড়তে থাকে এবং মুরগি পালন অসম্ভব হয়ে পড়ে। তুশি যেহেতু দশ বারোটি মুরগি পালন করে সেহেতু তার সমস্যাগুলো কম। কিন্তু সে যদি তাঁর বাবার মতো কয়েক হাজার মুরগি পালন করতে যেতো তবে তাঁর এই পদ্ধতিতে এটি সম্ভব হতোনা।
এইছাড়া, তারেক সাহেব মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই তাকে ব্যবসায়িক কথা মাথায় রাখতে হয়। আমরা জানি, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে দেশি মুরগি পালন করা যায়না। কারণ দেশি মুরগি অনুন্নত এবং অনেক কম ডিম দেয়। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে উন্নত বা সংকরজাত মুরগি পালন করতে হয়। ছাড়া অবস্থায় শুধুমাত্র দেশি মুরগি পালন করা যায়, উন্নত বা সংকরজাত মুরগি পালন করা যায়না। তাই,ব্যবসায়িক কথা চিন্তা করলে তারেক সাহেবের জন্য ছাড়া অবস্থায় মুরগি পালন উপযুক্ত নয়।
এসব কারণে বলা যায় মুরগি পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে তুশির ভাবনাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। তাঁর পদ্ধতিতে অল্প পরিসরে কিছু দেশি মুরগি কোনো খাবার-দাবার ও যত্নআত্মি ছাড়া পালন করা যেতে পারে। কিন্তু তাঁর বাবার মতো ব্যবসায়িক চিন্তা মাথায় রেখে বড় আকারে খামার গড়ে তুলতে গেলে তাঁর পদ্ধতিটি উপযুক্ত হবেনা।
আজকের সৃজনশীল প্রশ্ন (কৃষি বিজ্ঞান)
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো ও প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
স্বপন সাহেব একটি ৪৭ শতাংশের পুকুরে মাছ চাষ করেন। এইবার তার কিছু মাছের পাখনায় এবং কিছু মাছের লেজে সাদা সাদা দাগ পড়েছে। অন্যদিকে তার প্রতিবেশি বেলাল সাহেবের পুকুরের পানির রং বাদামী বণের্র হয়ে গেছে। তার মাছগুলোর শরীরে ক্ষত দেখা দিয়েছে এবং মাছগুলো দ্রুত গতিতে ছোটাছুটি করে।
ক. মাছের উকুনজাত রোগ কোন পরজীবীর আক্রমণে দেখা দেয়?
খ. একটি মাছ রোগাক্রান্ত কিনা, তা কিভাবে বুঝা যায়?
গ. স্বপন সাহেব তার মাছের রোগগুলো কিভাবে প্রতিরোধ করবে, ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “স্বপন ও বেলাল সাহেবের মাছগুলোর রোগে আক্রান্ত হওয়ার পিছনে মূল কারণ প্রায়ই একই” - উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই প্রশ্নটির সমাধান পাওয়া যাবে .িঝত্রলড়হংযরষ.পড়স ওয়েবসাইট এবং মঙ্গলবারে দৈনিক ইত্তেফাকে। কিন্তু তোমার জানো, জাতীয়ভাবে নেয়া পরীক্ষাগুলোতে সৃজনশীল প্রশ্ন কখনো কমন পড়বে না। এই ক্ষেত্রে দরকার পর্যাপ্ত অনুশীলন। সুতরাং পরীক্ষায় ভালো করতে হলে এরকম সৃজনশীল প্রশ্নের সমাধান না দেখে নিজেই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করো এবং আমাদের দেয়া উত্তরের প্রেক্ষিতে নিজের উত্তরটি যাচাই করো।
তোমাদের মতামত
এই লেসনের ওপর তোমাদের মতামত লিখে পাঠাও নিচের ঠিকানায়
ইমেইল:ংঁঢ়ঢ়ড়ত্ঃ—ঝত্রলড়হংযরষ.পড়স
মোবাইল :০১৬৮১০৩৫৭৯৭
