সিরিয়ার শাদ্দাদেহ থেকে পালিয়ে গেছে ৪০ হাজার মানুষ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪৩
সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর আল-শাদ্দাদেহে তিনদিন যাবত্ ভয়াবহ সংঘর্ষের পর সেখান থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে। বিশ্ব খাদ্যসংস্থা (ডব্লিউএফপি) শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে সিরিয়ায় ২৫ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, দেশটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ব খাদ্যসংস্থা বলেছে, সাম্প্র্রতিক সময়ে ঐ এলাকায় অতিরিক্ত রেশন দেয়া হতো। কিন্তু সংঘর্ষের পর খাদ্য সংস্থার একটি দল সেখানে সফর করে ৪০ হাজার মানুষের পালিয়ে যাওয়ার তথ্য জানতে পারে। এরা আল-শাদ্দাদেহ শহর থেকে হাসসাখেহ শহরে পালিয়ে গেছে। বিশ্ব খাদ্যসংস্থার মুখপাত্র এলিজাবেথ বায়ার্স বলেন, চার বছর আগে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ঐ এলাকায় খরা দেখা দেয়। গত প্রায় দুই বছর ধরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধী আন্দোলন-যুদ্ধ চলার ফলে সেখানে শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতার হার অনেক বেড়ে যায়। এই সপ্তাহে অতিরিক্ত রেশন পাঠানোর কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ এবং স্থানচ্যুতি শুধুমাত্র এই মানুষদের দুর্ভোগের প্রকোপ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, নতুন করে স্থানচ্যুতির ঢেউ শুরু হওয়ার পর সব মিলিয়ে তা প্রায় ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এদের অনেকেই স্কুল এবং অন্যান্য সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের পর সিরিয়ার তেল উত্পাদনকারী শহর আল-শাদ্দাদেহ’র নিয়ন্ত্রণে বিদ্রোহীদের হাতে চলে যায়। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ বিদ্রোহী যোদ্ধা এবং ১০০ সরকারি সেনা নিহত হয়। আল-শাদ্দাদেহ’র নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের প্রাদেশিক রাজধানী হাসসাখেহ’র মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেছে। বিদ্রোহীদের একজন সামরিক কমাণ্ডার ওমর আবু লায়লা টেলিফোনে জানিয়েছেন, ‘‘আল-শাদ্দাদেহ এবং ঘাসবা আমাদের দখলে রয়েছে। আগামী অল্প কিছু দিনের ভিতরে আমরা হাসসাখেহ নগরীর দিকে অগ্রসর হবো। এদিকে, সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আলেপ্পোয় নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দখল করতে গিয়ে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের অন্তত ১৫০ জন নিহত হয়েছে।