উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ক্ষেত্রে সবার জন্য সবার উদার মনোভাব থাকা চাই
আজ বাংলাদেশের রাজনীতি কোনদিক থেকেই উদার নয়। তবে এদেশকে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির দেশ হিসেবে গড়া অবশ্যই সম্ভব। যদি আমরা মনে-প্রাণে সে দেশ দেখতে চাই তবে প্রথমেই আমাদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা যদি দেশ ও জনগণের রাজনীতি করি, তবে সন্ত্রাসীরা কেন আমাদের দলের আশ্রয়ে থাকবে ? প্রশ্নটা থেকেই যায়। সন্ত্রাসের পরেই দুর্নীতি হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাধা এদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্য। আমি বিশ্বাস করি, নতুন প্রজন্মই পারবে সেই উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির দেশ গড়তে। তবে আমরা তরুণদের চিন্তাশক্তির মধ্যে আরও গভীরতা থাকা উচিত। কোন খুন , কোন ধর্ষণ , কোন দুর্নীতি হওয়ার সাথে সাথেই জেগে উঠতে হবে তার সঠিক বিচারের জন্য। অন্যায়ের ক্ষেত্রে কোন আপোষ নয় কোন দলের সাথে। আর প্রত্যেক সরকারকে করতে হবে সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজদের কঠোর বিচার। সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক না কেন, কোন আপোষ নয় তাদের সাথে।
পরিশেষে যদি বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যেক উজ্জ্বল দেখতে চাই তবে সন্ত্রাস, দুর্নীতিকে ছেড়ে দিতে হবে, সেইসাথে এর বিরুদ্ধে রুখেও দাঁড়াতে হবে। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ক্ষেত্রে সবার জন্য সবার উদার মনোভাব থাকা চাই।
যাইদ বিন আবদুল কুদ্দুস
কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এন্ড টেকনোলজি মিরপুর-২, ঢাকা-১২১৬।
‘স্বৈরাচার নিপাত
যাক, গণতন্ত্র
রক্ষা পাক’
“গণতন্ত্র রক্ষা পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক”, এক সময়কার কালজয়ী শ্লোগান থেকে বর্তমান গণতন্ত্রের সৃষ্টি হলেও এই গণতন্ত্রের অন্তরালেই যদি স্বৈরাচারী মনোভাব লুকিয়ে থাকে তাহলে দুঃখ শুধু তাদের জন্য যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে রক্ত ঝরিয়েছিল, প্রাণ হারিয়েছিল। তাদের আত্মা আজও খুঁজে ফিরে সেই দিনকে, যা সত্যিকারের সাধারণ মানুষের জীবন ও অধিকার রক্ষার গণতন্ত্র হবে। গণতন্ত্র নামধারী প্রেতাত্মা আজও সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসবাস করছে, যার প্রমাণ পাওয়ার জন্য এখন আর পরের দিনের খবরের কাগজ কিংবা টেলিভিশনের প্রতি ঘণ্টার খবরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না, প্রতি সেকেন্ডের ইন্টারনেটই সেই প্রমাণের জন্য যথেষ্ট, যার মধ্যে প্রতি সেকেন্ডের তাজা খবরগুলোর মধ্যে হত্যা, গুম, সন্ত্রাস, রাহাজানি, চাঁদাবাজি আর নতুন ডিজিটাল সংযোজন হওয়া ধর্ষণ খবরের হেডলাইন হয়ে থাকে। মানুষ মেরে লাশের উপর নৃত্য করেও তারা আইন-আদালত থেকে ছাড় পায় শুধু এই কারণেই যে, ওরা হলো সরকারি দলের লোক, আর অপরদিকে বিরোধী দলের কেউ মিছিল, সমাবেশ করতে গেলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়, পুলিশ দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়। এটা কখনো গণতন্ত্রের নমুনা হতে পারে না। গণতন্ত্রের চর্চা দেখাতে হবে সরকারকে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যারাই করুক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করলেই তবে গণতন্ত্রের স্বার্থ কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। আবারও বাজুক সেই সুর একসাথে একতালে “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র রক্ষা পাক”।
রাশেদুল হায়দার
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)
গাজীপুর-১৭০০।
সুষ্ঠু গণতন্ত্র বিকাশে উদার রাজনীতির কোন
বিকল্প নেই
আমরা যত দ্রুত বিশ্ব দরবারে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়েছি, সে অনুপাতে
ডিজিটাল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সম্মুখ পানে অগ্রসর হতে পারছি না। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের দেশের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও কর্দতার সংস্কৃতি। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী তীর্যক বাক্য বিনিময় শুনলে মনে হয় এদেশের উদার রাজনীতির পথ যেন চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় ইস্যুগুলোতেও আমরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারছি না। একপক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করছে না। এই অবস্থা অবলোকন করে জাতি আজ শঙ্কিত। আর এই ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ র্নিবিশেষে সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা অত্যাবশ্যকীয়। অন্যথায় যে কোন মুহূর্তে মুক্ত গণতন্ত্রের পথ চলা হোঁচট খেতে পারে। কেননা, অশুভ কালো শক্তি তো সব সময়ই জাগ্রত গণতন্ত্রের জ্বলন্ত প্রদীপ নিভিয়ে অমাবশ্যার কালো আঁধারে জাতির সোনালী ভবিষ্যত্ ঢেকে দিতে।
মাকসুদুল হাসান (রিয়াদ)
একাদশ শ্রেণি, শাখা:ক, বিজ্ঞান বিভাগ,
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ।
আমাদের সবার চলা
হোক গণতন্ত্রের
সড়কপথে
আজ যেটি বর্তমান অতীতে সেটি ছিল ভবিষ্যত্। সৃষ্টির সূচনালগ্নে একটি সোনালী গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ৪১ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের অর্জন-একদলীয় শাসন, স্বৈরতন্ত্র আর পরিবারতন্ত্র। বিগত দিনের ভবিষ্যত্ চিত্রে আগামী রাজনীতির ভবিষ্যত্ কতটা সুখকর হবে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। জাতিকে এটি নতুন করে ভাবতে হবে। আরব বিশ্বে যখন গণতন্ত্রের বসন্ত বয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে চলছে চৈত্রের খরা। আর বিভাজনের রাজনীতি গণতন্ত্রের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রক্রিয়া থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করা। রাজনীতির ক্ষমতাকেন্দ্রিক চর্চার পরিবর্তে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। জনগণের প্রতি আস্থাহীনতার পরিবর্তে জনগণের অংশীদারিত্ব বজায় রাখা এবং যোগ্যতার মাপকাঠিতে নেতৃত্ব নির্বাচন। তা না হলে বিশ্বায়নের ছদ্মাবরণে ধনী দেশগুলোর যে কারসাজি চলছে তাতে আমরা অচিরেই হারিয়ে যাব। অতএব, আমাদের সবার চলা হোক গণতন্ত্রের সড়কপথে। ভিন্ন কোন পথে নয়।
মো. নজরুল ইসলাম রনি
মাস্টার্স অধ্যয়নরত মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা কলেজ।
প্রতিহিংসার রাজনীতি
থেকে দূরে সরে
আসতে হবে
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে সরে আসতে হবে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার হীন মনমানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণের মতো অপচেষ্টা ও অপতত্পরতা বন্ধ করতে হবে। ভিন্ন দল, ভিন্ন মত, ভিন্ন গণমাধ্যমকে সত্য প্রকাশে বাধা দেয়া যাবে না। কারণ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মাত্রই একাধিক মতাবলম্বী গণতান্ত্রিক দল থাকবে। কিন্তু ভিন্ন মত প্রকাশের ন্যূনতম অধিকার যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের নাই থাকে, তবে তা হবে ক্ষমতাসীনের চরম অগণতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ, ক্ষমতাসীনের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ক্ষমতাসীনের ক্ষমতাকে দীর্ঘদিনের জন্য কুক্ষিগত করার অপপ্রয়াস। নামেমাত্র এই গণতন্ত্র তখন জাতির কাছে হবে প্রশ্নবিদ্ধ। দেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না থাকলে প্রতিদিন ঘটবে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি; এমনকি গুম, খুনের মতো ভয়াবহ অন্যায়। দেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নতুবা ইভটিজিং, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌতুক আদায় ও বিবাহ বিচ্ছেদের মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটবে। সর্বোপরি রাজতন্ত্র বা পরিবারতন্ত্রের পরিবর্তে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করতে হবে। উচ্ছৃঙ্খল, অজ্ঞ ও ক্ষমতালোভীদের পরিবর্তে রাজনীতিতে সত্, দক্ষ মেধাবী ও দেশপ্রেমিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
রুমি সারওয়ার
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।
