পরিস্থিতি ক্রমাগত জটিল হচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্লগার স্থপতি রাজীব হায়দার শোভন আততায়ীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়ে যাবার পর শাহবাগ থেকে শুরু হওয়া সামপ্রতিক এই আন্দোলন একেবারে উত্তুঙ্গ মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশে আমাদের জীবনযাপনের যে সুবন্দোবস্ত আছে তাতে মানুষজন ক্রমাগত মৃত্যুসহিষ্ণ হয়ে উঠছেন। ঢাকা ও বাংলাদেশে এত অজস্রভাবে মানুষ খুন হয় যে, মৃত্যুর বেদনা কিংবা ভয়াবহতা নিয়ে ক্রমশ ভোঁতা একটা অনুভূতি মানুষজনের মাথাকে গ্রাস করেছে। লঞ্চ ডুবে শ’খানেক মানুষ মরে যাওয়া, কারখানার আগুনে শ’দুয়েক মানুষ মরে যাওয়া কিংবা বুলডোজার বা আগুনে বস্তিবাসীর মারা পড়া—এগুলো হয়তো বিশেষ ধরনের ঘটনা। কিন্তু প্রাত্যহিক সড়কপথেও কম মানুষ মরে না আমাদের। যে কারণেই হোক, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেও কম কিছু মানুষ মরে না। শুক্রবার, ঠিক একই দিনে কক্সবাজারে পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষে মারা গেছেন ৪ জন। কিন্তু সকল মৃত্যু সকল পক্ষে একইরকম অনুভূতির সঞ্চার করে না। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে তীব্র দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। নিহত রাজীব যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইছে যে জনগণ, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে, সেই জনগণের প্রতিনিধি। রাজীব নতুন এক জাগরণের প্রতিনিধি। সর্বোপরি, তার সহযোদ্ধারা নিশ্চিত জানেন যে, রাজীব খুন হয়েছেন জামায়াতী সন্ত্রাসে। রাজীবকে খুন শাহবাগের জাগরণকে ধমকি দেবার খুন, সন্ত্রস্ত করবার বার্তা।
রাজীব যদি সত্যি সত্যিই জামায়াত-শিবিরের ক্রোধের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকারীদের ঘোষিত যুদ্ধ প্রকৃতপক্ষেই যুদ্ধের রূপ পেয়ে গেল। আমরা আশা করতে পারি আরেকজন রাজীব বলি হবেন না; কিন্তু জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাসের দিকে বিবেচনা করলে সহিংস হয়ে উঠবার সামর্থ্য আর ইচ্ছা দুই-ই তাদের অনেক তীব্র সেটা বিস্মৃত হবার কারণ নেই। জামায়াত কৌশলীও বটে। যুদ্ধাপরাধের বিচার নস্যাত্ করতে নানানভাবে প্রপাগান্ডা এবং পাল্টা জনমতামত গঠনের কাজ করে চলেছে তারা। জামায়াতী প্রপাগান্ডায়, বিশেষত ডিজিটাল পরিসরে, খুব চাতুর্যের সঙ্গে একটা প্রশ্ন করা হচ্ছে যে, ‘এতদিন কেন যুদ্ধাপরাধের বিচার করা হয়নি?’। প্রশ্নটা বাংলাদেশের অনেক মানুষের, আর সামপ্রতিক আন্দোলন শুরু করা নতুন প্রজন্মের বিক্ষুব্ধ তরুণদেরও। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতা-ইতিহাস এত মসৃণ নয়। জিয়াউর রহমান যেভাবে জামায়াতী তথা পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটিয়েছেন সেটার প্রভাব এতগুলো বছর পরেও কিছুমাত্র পাতলা হয়নি। বাংলাদেশের ঘটনাপরম্পরায় অনেকগুলো জায়গা খালি পড়ে আছে, যেখানে জামায়াত পক্ষ চাতুর্যের সঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন করবার সুযোগ পাচ্ছে।
যদি ৯২-এর গণআদালত সফল হতো, যদি ‘ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলন’ তার লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারতো তাহলে অবশ্যই আজকে যুদ্ধাপরাধীদের এই ধৃষ্টতার কোনো নজির তৈরি হতো না। আজকের একটি রাজনৈতিক দল যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে ত্রাস সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত না। কেন ও কীভাবে সেই আন্দোলন সফল হয়নি সেটা অবশ্যই খতিয়ে দেখার দরকার আছে, জনারণ্যে না হলেও আড়ালে-আবডালে লোকজন এ নিয়ে ভেবে-চিন্তে নানানরকম ফয়সালা করে থাকেনও বটে। এরশাদের পতনের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনে জেতেনি সেটা বিশ্লেষকদের হতভম্ব করে থাকতে পারে; কিন্তু দুশ্চিন্তার কথা হলো, হতভম্ব করেছিল খোদ আওয়ামী লীগকেই। কোনো হতভম্ব অবস্থাতেই আন্দোলনের দায়-দায়িত্ব নেয়া সমূহ অসম্ভব কাজ। বিএনপি’র উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যে কোনো মূল্যে গণআদালত কিংবা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির তত্পরতাকে অকার্যকর করার চেষ্টা যে করবেন সেটা তো সহজ বোধগম্য বিষয় ছিল; কিন্তু মাঠ পর্যায়ের বিএনপি’র প্রচুর সমর্থক ছিলেন গণআদালত তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে। এরকম একটা বাস্তবতাতেও নির্বাচনী রাজনীতি আর প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষার একান্ত মারপ্যাঁচে সেই আন্দোলন পড়ে গিয়েছিল। প্রত্যয় হিসেবে ‘যুদ্ধাপরাধ’ তখনও চালু হয়নি। একটা স্থূল বর্গ হিসেবে ‘জামায়াত-শিবির’ বলা হতো। সেই ‘জামায়াত-শিবির’ বর্তমান আন্দোলনকারীদের জন্য একইরকম হিংস্র ও ক্ষতিকর প্রতিপক্ষ হয়ে থাকতে পারছে, একইভাবে ধূর্ত কলা-কৌশল নিতে পারছে সেটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য একটা রূঢ় বাস্তবতা। শাহবাগের যে উত্থানকে তারুণ্যের জাগরণ বলা হচ্ছে সেই জাগরণ এই বাস্তবতার শাসন প্রত্যাখ্যান করেছে।
কাদের মোল্লার বিচারের রায় প্রকাশিত হলে ১৫-২০ জন ব্লগার তথা ক্ষুব্ধ তরুণ যে জমায়েত শুরু করেছিলেন তা ক’দিনের মধ্যে মানুষের ঢলে পরিণত হয়। জমায়েত এমনিতেই আমাদের আপ্লুত করে। বিশেষ করে তা যখন নানাবিধ বর্গের মানুষজনের নানাবিধ অভিব্যক্তি ধারণ করে তখন। প্রথম রাত্রিটি পার হবার পরই প্রজন্ম চত্বরে জড়ো হওয়া মানুষজন নানান ছোট ছোট জমায়েতে স্বতঃস্ফূর্ত সব শ্লোগান শুরু করেন, তাত্ক্ষণিক পার্ফম্যান্স করতে শুরু করেন। এই পরিসরটা যে তারা ছাড়বেন না সেটা সহজেই বোঝা যায়। তাদের এই মাটি কামড়ে থাকাটা খুব দ্রুত মিডিয়াকে আগ্রহী করে তোলে, সেসব মানুষকে আগ্রহী করে তোলে যারা সেখানে যাননি। মধ্যপ্রাচ্য ও মাগরিবি রাষ্ট্রগুলোতে নিকট অতীতে যেসব জাগরণ ঘটেছে সেগুলো বাংলাদেশের মিডিয়াভোক্তা মানুষজন ইলেকট্রনিক ও ইন্টারনেট মিডিয়া থেকে জেনেছেন। শাহবাগের জমায়েতটিকে সেই ‘আরব বসন্ত’-এর সমার্থক হিসেবে দেখার উত্তেজনাসমেত মানুষজন সমবেত হয়েছেন। কোনো সন্দেহ নেই যে, মধ্যপ্রাচ্যের জাগরণের সঙ্গে বাংলাদেশের জাগরণের গুণগত পার্থক্য এত বেশি যে, এই তুলনাটি বড়জোর উচ্ছ্বাস হিসেবেই দেখা চলে। কিন্তু এই তুলনাটি আমাদের বুঝতে হবে নতুন জমানার এই আন্দোলনটিতে সংযুক্ত হবার বাসনা হিসেবে। যে দ্রোহ ও ক্ষোভ স্বাধীনতার এতগুলো বছর পর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজনের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় ছিল সেটা প্রকাশিত হবার একটা ভাষা সরবরাহ করেছে শাহবাগের জমায়েত। শাহবাগের জমায়েত সেই অমীমাংসিত ক্ষোভকে সারাদেশে প্রবাহিত হবার উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষজন টেলিভিশনে শাহবাগের জমায়েত দেখেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের কর্তব্য নিধারণ করেছেন নিজ শহরে আরেকটি সমরূপ জমায়েত তৈরি করবার। এই অর্থেও এটি জাগরণই বটে।
জামায়াতের জন্য এই জাগরণের তাত্ক্ষণিক অর্থ অনুমান করা যায়। তবে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের জন্যও এই জমায়েতের অর্থ নানাবিধ উত্কণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। তা হচ্ছে রাজনৈতিক জমিন হারানোর প্রসঙ্গ, কিংবা রাজনৈতিক জমিন আরও করায়ত্ত করবার সম্ভাবনা। আপাতগ্রাহ্যে বিএনপি’র উত্কণ্ঠাটি এতই উত্কট ধরনের যে, সেটা কোনোমতেই না বুঝে থাকা সম্ভব নয়। আন্দোলনটি শুরু হবার কয়েকদিনের মধ্যে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই জাগরণ নিয়ে বারতিনেক অবস্থান বদল করে উত্কটভাবে নিজেদের উত্কণ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। রাজনৈতিক কর্তব্য নির্ধারণে নিজেদের দ্বিধাদ্বন্দ্বের দীর্ঘমেয়াদি আলামতগুলোকে আরও পরিষ্কারভাবে হাজির করেছে জনদরবারে। বিএনপি’র নিবিড় ভক্তকুলের পক্ষেও দলের এই ল্যাজে-গোবরে অবস্থা নিয়ে খুশি থাকতে পারা কঠিন। বিপরীতে উত্কণ্ঠা কিংবা অনিরাপদ বোধ করবার কিছু লক্ষণ সরকারি দলও দেখিয়েছে, তা বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনটিকে যতই ‘সরকার-নির্মিত’ বলে চালানোর চেষ্টা করুক। এই জমায়েত বৃহদায়তন টের পাবার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি দলের একাধিক মুখ্য নেতা সমাবেশে এসে বক্তৃতা দেবার চেষ্টা করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তড়িঘড়ি প্রধানমন্ত্রী তারুণ্যের প্রতি তার সমর্থন দেখিয়েছেন এবং সংসদে সরকারি দলের সমর্থকেরা সংসদীয়ভাবে এই আন্দোলনের প্রতি আস্থাজ্ঞাপন করেছেন। উপরন্তু একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল যেন এই আন্দোলনস্থলে গিয়ে সংহতি জ্ঞাপন করে তার প্রস্তাবও পাস করা হয়। এটা ঠিকই যে, গণজাগরণ মঞ্চের বহুবিধ স্বর ও বহুবিধ অবস্থান থাকলেও যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি এর প্রধান অবস্থান। লক্ষণীয় যে, সরকার পক্ষ থেকেও ভারি সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অধিকন্তু এই জমায়েতের সৃষ্ট আর কোনো বার্তা ছড়িয়ে না পড়ে। প্রজন্ম চত্বর আসলেই নানান হিসেবে হানা দিয়ে ফেলেছে।
আন্দোলনটি দুই সপ্তাহ অতিক্রম করবার পর প্রধান দল দুটির উত্কণ্ঠার জমিন গুরুতরভাবে বদলেছে। বিএনপি’র দলগত অবস্থানসমূহ এলোমেলো মনে হতে বাধ্য। নানান নেতা নানান সময়ে নানান কিছু বলে চলেছেন আন্দোলনটি নিয়ে। একদিকে বিএনপি কাগজে-কলমে ‘তরুণ’দের এই আন্দোলনের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে, প্রায় সংহতির মতো করেই লিখিত হয়েছে তাদের সেই দলিল, অন্যদিকে এই জমায়েত যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি’র দাবি এবং বর্তমান সরকারের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ ধারণ করে সেই পরামর্শ দেয়াও চলছে। শহুরে শিক্ষিত মানুষজন মনে করছেন যে, বিএনপি শাহবাগের উত্থানের প্রতি দোনোমনা করে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি করছে। কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণে বোঝা যায়, বিএনপি’র নীতি-নির্ধারণী নেতৃবৃন্দ আন্দোলনটি নিয়ে একমত হতে পারছেন না এবং মিডিয়া জমিনের তুলনায় নিরাপদ-নিশ্চিত ভোটার ধরে রাখা তারা মোটের উপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন’ সংশোধনের বিল পাস হবার পর সরকারি দল একটা পর্যায় অতিক্রম করতে পেরেছে বলে মনে হয়। আন্দোলনের শুরুতে যে ধরনের অনিশ্চয়তাতেই দলটি ভুগুক না কেন, আন্দোলন বেগবান হবার পর সরকারি দল নিজেদের কর্তব্যগুলো নির্ধারণ করতে পেরেছে এবং সংসদে নিজেদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগগুলো হাতছাড়া করেনি। যুদ্ধাপরাধী তথা জামায়াতকে চূড়ান্ত প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করবার ক্ষেত্রে কৌশলগত কোনো ঢিলেমি যদি আওয়ামী লীগের থেকেও থাকে, শাহবাগের জমায়েত সেই ঢিলেমিকে সুচারু লক্ষ্যে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, অন্তত এই মুহূর্তে।
শহুরে শিক্ষিত অংশের মধ্যে এই আন্দোলনের তৃতীয় পক্ষ নেই কিংবা তৃতীয় পক্ষ বলতে যাদেরকে হাজির করা যায় তারা খোদ বহুপক্ষ। একেবারে নিরুত্তাপ-নিষ্ক্রিয় দূরে থাকা একাংশ। যুদ্ধাপরাধের সর্বাত্মক বিচার চান; কিন্তু চূড়ান্ত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান না একাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার হোক; কিন্তু অন্তত ৭১-এর অমীমাংসা মীমাংসিত হবার পর থেকে তা হোক এমন ভাবেন একাংশ। পাশ্চাত্যের বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের দ্বৈতনীতির সমালোচনা করার একাংশ। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে কোনো কিছুতেই ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয় বলে ভাবেন একাংশ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে চলমান অপরাপর গণতন্ত্রহীনতা আর লুটেরা নীতির বিপক্ষে একই মঞ্চ থেকে আন্দোলন গড়ে তুলতে আকাঙ্ক্ষা করেন এমন একাংশ। এই অংশগুলো বিস্তর বিযোজিতও নয়। পরস্পর প্রোথিত অবস্থায় আছেন। ফলে রাজনৈতিক তত্পরতার ইতিহাস বিচারে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। ঠিক দু’চারদিনের মধ্যে নানাবিধ এই রাজনৈতিক অবস্থানের নিষ্পত্তি ঘটে যাবে সেই আশা করাও অবান্তর। এমনকি, উষ্মাবিহীন দীর্ঘকালীন একটা ঐক্যের জন্য তা যে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে সেটাও অনুমান করতে পারা আমাদের সকলের জন্য কাজের হবে। শাহবাগে ‘তারুণ্যে’র উত্থান আমাদের সকলকে এই রাজনৈতিক মানচিত্রের দিকে দৃকপাত করতেও বাধ্য করেছে। আবেগপ্রবণ তারুণ্যের জয়গানের বিপরীতে প্রখর প্রজ্ঞাবান এই ‘তারুণ্য’ দারুণ এক নয়া নেতৃত্বের সূচনা ঘটিয়েছে। বাংলাদেশ এটা হরহামেশা দেখেনি এর আগে।
রাজীব প্রথম নিহত নন। তিনি জামায়াত-শিবিরেরও প্রথম বলি নন। তিনি বাংলাদেশে বিচারপ্রত্যাশী মানুষজনের মধ্যেও প্রথম শহীদ নন। কিন্তু যে মৌসুম ও পরিস্থিতিতে, যে ধরনের তত্পরতার কারণে তিনি খুন হলেন বলে তার সহযোদ্ধারা নিশ্চিত হয়েছেন সেগুলোর স্বতন্ত্র গুরুত্ব রয়েছে। তার মৃত্যুটি একটা বার্তা দিয়ে গেল। যদি নয়া নেতৃত্ব কিছু জরুরি বদল এনে দিতে পারে বাংলাদেশে, অন্তত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো পর্যন্ত, তাহলে কিছু মূল্য চুকানোও লাগতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে যে তীক্ষ মেরুকরণ হয়েছে সেটি অতীব জরুরি ছিল।
বাংলাদেশে বহু স্বপ্নদ্রষ্টার লাশ আমাদের চোখেই পড়ে না। আমরা দেখবার সুযোগ পাই না, ভাববার অনুপ্রেরণা পাই না, আমাদের সংশ্লিষ্টতার সুতোগুলো চিনে উঠতে পারি না। চলমান আন্দোলনটি রাজীবের লাশটিকে সুবিশাল করে দিয়েছে। এই লাশটিকে না দেখে থাকবার সুযোগ আমাদের নেই। সবাই প্রস্তুত তো?
[ লেখক : শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ]
