বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৩
উদারতা ছাড়া গণতন্ত্র আর মাঝি ছাড়া নৌকার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি মাধ্যম যে মাধ্যম নিশ্চিত করে মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিত্সা লাভের অধিকার। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক রাজনীতি হচ্ছে সেই রাজনীতি, যে রাজনীতিতে কেউ কারো ব্যাপারে অনধিকার হস্তক্ষেপ করবে না এবং সবাই সত্যের আদর্শকে বুকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আর এই রাজনীতির আসল চালিকাশক্তি জনগণ নিজে। অন্যদিকে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির পূর্বশর্ত হচ্ছে- জনগণ হবে সকল ক্ষমতার অধিকারী এবং সকল রাজনৈতিক দল ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করে শুধুমাত্র জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে এবং দরকার হলে নেতাকর্মীরা নিজেদের রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনবে সাধারণ মানুষের শান্তি, আর যে কথাটি বলা বেশি দরকার তা হচ্ছে- গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নেতৃবৃন্দ হিংসাপরায়ণ হয়ে কেউ কারো বিরোধিতা করবে না, শুধুমাত্র যুক্তিসঙ্গত কারণেই বিরোধিতা করবে, কেননা এতেই ফিরে আসবে সত্যিকার শান্তি। তাই আমার বলতে বাধা নেই যে ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যক কারণ রাজনীতিতে উদারতার অভাবেই আমাদের দেশটি দিন-দিন নিম্নগামী হচ্ছে। এখানে প্রশ্ন হতে পারে বাংলাদেশ কোন-কোন দিকে নিম্নগামী হচ্ছে? জবাব পেতে খুব বেশি দেরি হবে না, কেননা আমরা একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাই যে, দিন-দিন আমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সবদিক থেকেই পিছিয়ে পড়ছি। তাই আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে,‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ই পারে বাংলাদেশকে সাফল্যের মুকুট উপহার দিতে এবং ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ই দিতে পারে বাংলাদেশকে শান্তির বার্তা। সবশেষে বলতে কোন বাধা নেই উদারতা ছাড়া রাজনীতি আর মাঝি ছাড়া নৌকার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কারণ মাঝি ছাড়া নৌকা যেমন নদীর গতিপথ হারিয়ে উল্টো পথে চলতে-চলতে কোন এক সময় নৌকাভর্তি যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় নদীর গভীরে, ফলস্বরূপ নৌকা ও যাত্রী সবার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, ঠিক তেমনি উদারতাহীন গণতন্ত্রও টিকিয়ে রাখতে পারে না সত্যিকারের গণতন্ত্র। তারেক রহমান স্নাতক সম্মান (বাংলা) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর বাংলাদেশ। সকল দলের উচিত হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঠিক চর্চা করা গণতন্ত্র একটি দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আমরা ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও দেশের চলমান রাজনীতি হিংসা-বিদ্বেষের মাঝে রয়ে গেছে। হিংসা-বিদ্বেষের জন্য একশ্রেণীর লোক তাদের ফায়দা হাতিয়ে নিচ্ছে, অপরপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সর্বত্র আজ হত্যা, গুম, ছিনতাই, রাহাজানি, মানুষ কুপিয়ে হত্যা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মারামারি, টেন্ডার ও চাঁদাবাজি, কল-কারখানায় শ্রমিকের অসন্তোষ, গার্মেন্টস সেক্টরে নৈরাজ্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সকল দলের উচিত দেশ ও জাতির কল্যাণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। কিন্তু এই নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন বিরোধ ও পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সংকট। এই সংকট কিভাবে সমাধান হবে তা আজ দেশের মানুষ চিন্তিত। উদার গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। আমাদের দেশ আজ চরম বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের ইচ্ছা তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। অপরপক্ষে বর্তমান সরকারের ইচ্ছা দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হোক। তাই আমি বলব,‘‘দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখার জন্য প্রধান দুই নেত্রীকে একসাথে কাজ করতে হবে”। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সকল রাজনৈতিক দল যদি নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে তাহলে উদার ও সহানুভূতির মাধ্যমে সঠিক সময়ে ও যোগ্য নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। তাই আসুন আমরা দেশকে ভালবাসি এবং দেশের মানুষকে ভালবাসি। তাই সকল দলের উচিত হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঠিক চর্চা করা। মো. আব্দুল লতিফ এমবিএ (৪র্থ সেমিষ্টার) দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ উত্তরা ক্যাম্পাস, সেক্টর # ১১, রোড # ১৯, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। আমরা সাধারণ মানুষ কার কথা বিশ্বাস করব বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত। আমাদের রাজনীতি খাই খাই রাজনীতি। মানুষ খেলো কী না খেয়ে থাকলো সে বিষয়ে ভাবেন না অনেক নেতা। যতই দিন অতিক্রম হচ্ছে আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনতির পথে যাচ্ছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল একে অন্যের বিরোধিতা করছেন প্রতিটা কাজে, প্রতিটা বক্তব্যে। সহিংসতার ঘটনাগুলোতে একে অন্যের কাঁধে দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন। আমরা সাধারণ মানুষ কার কথা বিশ্বাস করব? কেউ কারো সাথে সামনা-সামনি বসে আলোচনা করছেন না। বিরোধী দল সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে তাদের মতামত জানাচ্ছেন না। যে কারণে বিরোধী দলের মতামত ছাড়াই সব বিল পাস হচ্ছে। রাজনীতি তো দেশের মানুষের জন্যই, তাহলে আপনারা কেন মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন? আপনারা একটু উদারতার পরিচয় দিলেই তো আমরা মুক্তি পাই, একটু শান্তিতে থাকতে পারি। রফিকুল ইসলাম সাগর আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড পয়েন্ট একাডেমি, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া। মূল্যবোধ, উদারতা ও জনগণের মতামতের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪১টি বছর পেরিয়ে গেলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অর্জন না করার পিছনে রয়েছে রাজনীতিবিদদের প্রতিহিংসার আগুন। তবে আমাদের দেশে নির্বাচনের আগে দেশের দু’দলের রাজনীতিবিদরা অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন দেশ ও জনগণের উন্নয়নের জন্য। যখন তারা ক্ষমতায় যান, তখন তারা ভুলে যান দেশ ও জনগণের উপকারের কথা। তারা ব্যস্ত থাকেন অঢেল সম্পত্তি গড়া এবং একে অপরের কুত্সা রটনা নিয়ে। তবে এভাবে চললে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কখনো সম্ভব হবে না। আমরা জানি, রাজনীতি হচ্ছে জনসেবামূলক কাজ, দেশের উন্নয়ন এবং বিশ্বের কাছে শান্তির মডেল দেশ হিসেবে পরিচিত করানো। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদরা কোথায় গিয়েছে তা আমরা নিজেরাই জানি না। তবে আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমত আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দ্বিতীয়ত তাদেরকে উদার মনের হতে হবে এবং তৃতীয়ত জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। তখনই সম্ভব হবে “বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্” প্রতিষ্ঠা করা। শিমন মার্ডী বিবিএ, লেভেল-৩, সেমিস্টার-১ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।