একটি দেশের উন্নয়নে আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান উভয়ের ক্ষেত্রে সমগুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠান অধিক হারে প্রতিষ্ঠা করলে কেবল রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হয় না বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্র সুস্পষ্ট উন্নয়নের সুযোগ পায়। অন্যদিকে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়লে এবং উত্পাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা গেলে তা থেকে লাভ সরাসরি দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে থাকে। এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসংস্থানের চালিকাশক্তি হিসাবে সুনাম কুড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু বেশ গুরুত্বের সাথে রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন ও আমদানি বিকল্পায়ন শিল্পের ক্ষেত্রে সমনীতি-নির্ধারণী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।
ছিয়ানব্বইয়ের সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার অর্থনীতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের পাশাপাশি আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সমগুরুত্ব দেন। একটি দেশের উন্নয়নে উভয় খাতকেই সমগুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ দু’টো খাত একে অন্যের পরিপূরক হিসাবে কাজ করে থাকে। গত বিশ বত্সরে অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। ছিয়ানব্বইতে অর্থনীতিতে একটি চমত্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। দেশের সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিক ভিত্তি যথেষ্ট মজবুত হয়েছিল। সে সময়ে বহির্বিশ্বেও অর্থনৈতিক পরিবেশ মোটামুটিভাবে স্থিতিশীল ছিল। বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতায় আসেন তখন বৈশ্বিক মন্দা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যা ২০০৭ খ্রিঃ শুরু হয়েছিল ধীরে ধীরে তা অন্য দেশসমূহে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপ এখনো বৈশ্বিক মন্দায় আক্রান্ত। এদিকে গত দু’বত্সর যাবত্ আরব স্প্রীং-এ আক্রান্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ। বাংলাদেশের পণ্যের সিংহভাগ
ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরণ করা হয়। মন্দাকালীন অবস্থায় রপ্তানিলব্ধ আয় বেড়েছে। চলতি অর্থ বত্সরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিলব্ধ আয় হচ্ছে মার্কিন ডলার ১২.৬০ বিলিয়ন। বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও রপ্তানিলব্ধ আয় অবশ্যই দেশের জন্য সন্তোষজনক। তবে জিএসপি ফ্যাসিলিটিজ তুলে দেয়ার কথা বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে চাপ দিতে চাচ্ছে তা আসলে আমাদের পোশাক শিল্প খাতের জন্যে দুঃখজনক বার্তা বয়ে আনবে। এদিকে আমাদের পোশাক শিল্প খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তাদের অবশ্যই বাংলাদেশের শ্রমিক আইন অনুসারে কারখানায় শ্রমিকদের জান-মালের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা যদি আগে থেকেই প্রিভেনটিভ ম্যাজারাস নিতাম তাহলে কোন অসুবিধা হতো না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নও নড়েচড়ে বসেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারের উদ্যোগ সত্ত্বেও অনেক সময়ে কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ী যথাযথ ভূমিকা পালন করেন না। এই স্বল্পসংখ্যক ব্যবসায়ীর জন্য অধিকাংশ ব্যবসায়ী-শিল্পপতি যারা দেশের সুনাম বাড়াচ্ছেন তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে এবং দেশের উন্নয়নে যারা শরিক হচ্ছেন তারা সমস্যায় পড়ছেন। এ অস্বস্তিকর অবস্থা কেবল সিংহভাগ রপ্তানি আয় উপার্জনকারী পোশাক খাতেই নয় অন্যান্য শিল্পখাতেও বিরাজ করছে। চামড়াজাত শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মব্যবস্থাপনার উপর ইউরোপীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা ঠিক কোরবানী হওয়ার পূর্বেই বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার এবং বাংলাদেশ থেকে চামড়া না কেনার অনুরোধ করেছিল। অথচ আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় ট্যানারী মালিকেরা হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী না সরিয়ে বরং অস্বস্তিকর পরিবেশে তাদের পণ্য উত্পাদন প্রক্রিয়া সংগঠিত করে আসছে। মাঝখান থেকে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তা মন্তব্য করলেন যে, সরকারের দায়িত্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা নয়। আসলে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কিন্তু এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা করা হয় না। বস্তুত ১৯২৯ সালে যখন ‘লেসিজ ফেয়ার পলিসি’র কবর রচিত হয় এবং জাতীয় আয়ের হিসাব পদ্ধতিতে যখন সরকারি খরচের অন্তর্ভুক্তি ঘটে তখনই আশা করা হয় যে, সরকার উত্পাদনশীল কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন। যখনই কোন দেশের সরকার স্বীয় দায়িত্ব পালন না করে বরং অপ্রতিরোধ্য বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিযুক্ত পরিবেশে উত্পাদন ও বন্টনের ব্যবস্থা করে থাকেন, তখনই মন্দা সৃষ্টি হয়। আপাতদৃষ্টিতে বৈশ্বিক মন্দা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাব প্রাইম মর্টগেজের কারণে ২০০৭ খ্রিঃ-এ শুরু হলেও বাজার ব্যবস্থাপনাতে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও ত্রুটিমুক্ত না করার জন্য কোনরূপ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় এমনটি ঘটেছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো-অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা নতুন করে সব শুরু করতে চান। বাংলাদেশ ব্যাংক দক্ষভাবে স্মল এবং মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজসমূহের (SMES) সংজ্ঞা যথাযথভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন। দেশের তফসিলী ব্যাংকসমূহও এই সংজ্ঞা মেনে চলেছে। কিছু কিছু এনজিও অবশ্য নিজস্ব ব্যাখ্যা দ্বারা চলছে। তারপরও যখন কথা ওঠে বাংলাদেশের এসএমইএস -এর গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা নেই এবং নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা দরকার তখন দুঃখ লাগে। এদেশের শিল্পায়নের প্রায় ৯০ শতাংশ এসএমইএসের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আবার এসএমইএসের ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিভিন্ন তফসিলী ব্যাংকের পাঠানো বিবরণী থেকে সংগ্রহ করা যায়। নিঃসন্দেহে এই তথ্য-উপাত্তে কোন বড় ধরনের ভুল থাকার কথা নয়। অথচ দোহাই দেয়া হয় এসএমইএসের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরসমূহের কোন বাস্তব তথ্য নেই। এ ধরনের ভুল মতামত হয়ত বিদেশি দাতা গোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং তারা এ জন্য বিশাল অংকের কন্সালটেন্সীও দেবেন। সমস্যা হলো যারা সঠিকভাবে ডাটা প্রণয়ন করছেন তারা তাদের পরিশ্রম থেকে সুফল পাবেন না বরং ডাটার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে যাবে। আসলে যে কোন গবেষণা কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রয়োজন হয়। এ ধরনের অনৈতিকতা ক্রমশ গবেষণায় বাড়ছে এবং দেশের জন্যে সমস্যা করছে । এক্ষেত্রে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যয় নিয়ে মিথ্যে দোষারোপ আসলে দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হলেও একটি সুবিধাপ্রত্যাশী গোষ্ঠী নিজের স্বার্থে এমন অভিযোগ করে ফায়দা তুলতে চাচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বৈদেশিক রিজার্ভের সদ্ব্যবহার করতে হবে। যেখানে বৈদেশিক রিজার্ভ চৌদ্দ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে সেখানে এর একটি অংশ যদি বড় ধরনের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় আনা যায় তবে দেশের জন্য মন্দ হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে তা কিছুটা হলেও সম্প্রসারণমুখী। সম্প্রসারণমুখী মুদ্রানীতি হওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা যেমন পালন করবে তেমনি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিরও আশংকা রয়েছে। আর মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পাবে। দেশের মুদ্রা প্রসারণ ক্ষমতা যাতে সরকারি ও বেসরকারি উভয়খাত কর্তৃক উত্পাদনশীলখাতে ব্যয় হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।
দেশে রেলের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে একটি সুসমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। সমস্যা হলো এই খাতে দাতাগোষ্ঠীরা অর্থায়ন করতে তেমন আগ্রহী নয়। অথচ দেশেই যদি রেলের ইঞ্জিন-বগি তৈরির উদ্যোগ নেয়া যায় এবং কোন বন্ধুরাষ্ট্র এ প্রকল্পে অর্থায়ন করে তবে তা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রভূত ভূমিকা রাখতো। বর্তমান রেলমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তবে অর্থায়নের ব্যবস্থা ছাড়া কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা তেমন কার্যকর হবে না। এদিকে ইদানীং রেল ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটছে তা রোধকল্পে স্থানীয় জনসাধারণের ভূমিকা জোরালো হওয়া দরকার। রেল পুলিশের সংখ্যা যেমন বাড়ানো দরকার তেমনি দুর্নীতির গহ্বরে নিমজ্জিত রেল কর্মকর্তারা চোরাচালানি ও দুষ্কৃতকারীদের সাথে আঁতাত করলে তাদের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া দরকার। অবশ্য রেল পুলিশ বাড়াতে হলে যে অর্থের প্রয়োজন, আর তা অর্থ মন্ত্রণালয় ছাড় দিবেন কিনা তা বোধগম্য নয়।
একটি দেশে যখন বাণিজ্যনীতি কিভাবে পরিচালিত হবে তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে না থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক দীর্ঘ বছরের পর বছর নির্ধারিত হচ্ছে, তখন বাণিজ্যনীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ঘটে না। অথচ বাণিজ্যনীতির সুস্পষ্ট বাস্তবায়ন না ঘটলে দেশের মোট দেশজ উত্পাদন ব্যবস্থায় তেমন সুফল বয়ে আনা যায় না। বাণিজ্যনীতির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মোট জাতীয় উত্পাদনের প্রবৃদ্ধি ঘটানো যায়। আসলে বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক চেষ্টায় সামষ্টিক অর্থনীতির চলকসমূহ অনেক সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। অপরিকল্পিত প্রকল্পসমূহ থেকে আগে যেভাবে অর্থ নয়-ছয় হতো, তা বর্তমানে তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানুয়ারি মাসে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আবার বৃদ্ধি পেয়েছে যার পরিমাণ হচ্ছে ১৩১ কোটি ৪৭ লক্ষ মার্কিন ডলার। দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকায় এ রেমিট্যান্সের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে রাষ্ট্রকে কোন বিশেষ দল স্বইচ্ছায় ধাবিত করেন তবে সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবেশও নষ্ট হতে বাধ্য। এদিকে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যমান পূর্বের তুলনায় হ্রাস পাওয়াকে অর্থনীতির জন্য মজবুত অবস্থায় উপনীত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসাবে বিবেচনা করা যায়। এক ইউএস ডলারের সমান হচ্ছে ৭৯.৭৫ টাকা। এটি কয়েক মাস পূর্বে আরো বেশি ছিল।
দেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বিবেচনা করে আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিল্প উদ্যোক্তাদের অধিকহারে এগিয়ে আসতে হবে। দেশি পণ্য উত্পাদন করলে প্রাথমিকভাবে দেশের চাহিদা মিটানো সম্ভব হবে এবং এক্ষেত্রে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পণ্যের গুণগত মান উন্নত হলে উত্পাদিত পণ্য আবার বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব হবে। স্বাবলম্বী অর্থনীতির দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে হলে আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই। অন্যদিকে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করলে দেশের অর্থনীতিতে স্বল্প ও মধ্যমকালীন অবস্থায় অবশ্যই লাভ হয়। কিন্তু বিশ্বের যে সমস্ত দেশে পণ্য প্রেরণের কথা বিবেচনা করে প্রেরণ করা হয় সে দেশের চাহিদা হ্রাস পেতে পারে আবার প্রতিযোগীরা সক্ষমতা অর্জন করে আরো সাশ্রয়ীভাবে পণ্য প্রেরণ করতে পারে। তীব্র প্রতিযোগিতার জন্য অনেক সময় বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও টাকার মূল্যমানকে কম রাখতে হয়। আবার সবদেশই যদি রপ্তানিকে মূল টার্গেট করে তবে আমদানি করবে কে? বারাক ওবামা ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আউটসোর্সিং-এর কাজ কমানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আসলে অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্রে উত্পাদন খরচ বেশি হওয়ায় অনেক সময় আউটসোর্সিং-এর কাজ দেশের বাইরে দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে এটি উত্পাদন খরচ কমাতে শুরু করলেও এক সময় এটি সেদেশের অভ্যন্তরীণ আয় প্রবাহে নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। কেননা অর্থ যখন সঠিক বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় পরিবর্তন আনে তখন তা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে।
বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশে আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমগুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সামিল হয়েছে তা সরকারের সঠিক দিক-নির্দেশনার কারণে সম্ভব হয়েছে। হেরেড-ডোমার গ্রোথ মডেলের ‘নাইফ-এজার রোজে’র মত অবস্থায় রয়েছে অর্থনীতি। এই অবস্থায় যেকোন অসদুপায় প্রত্যাশী দল নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে তবে অর্থনীতির ক্ষতি হবে, রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে, সর্বোপরি দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে। বেগবান অর্থনীতির গতিধারা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা দরকার—নারীর প্রতি সহিংসতা ও পুরুষের বর্বরোচিত আক্রমণ বন্ধ হওয়া উচিত। জাতীয় উত্পাদন ব্যবস্থায় সমগুরুত্বের সাথে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পুরানো বিতর্ক গৃহবধূদের মোট জাতীয় আয়ের গণনায় আনার জন্য তাদের সংসার থেকেই স্বীয় স্ট্যাটাস মেইনটেইন করে বেতন দেয়ার ব্যবস্থা চালু করার পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নিতে হবে।
লেখক : প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান, স্কুল অব বিজনেস, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাক্রো ও ফাইন্যান্সিয়াল ইকনোমিস্ট)
ই-মেইল:[email protected]
