তরুণদের আন্দোলন পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৯
শুধু যুদ্ধাপরাধে গঠিত ট্রাইব্যুনালের রায় কাঙ্ক্ষিত হয়নি বলে, তরুণরা শাহবাগে ফাঁসির দাবিতে দুর্বার আন্দোলনের একপর্যায়ে ‘প্রজন্ম চত্বর’ অস্তিত্ব গড়তে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে পর্যবেক্ষক মহল ধারণা করছেন, তরুণদের এই আন্দোলন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতির পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কোন আন্দোলনই ব্যর্থ হয় না, যদি সে আন্দোলন মাটি ও মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারে। আমাদের অভিমত হলো, যে দেশের রাজনীতি বুড়ো খোকারা নিয়ন্ত্রণ করে, এবং তাদের স্বার্থ কেন্দ্রিক মঞ্জিলে পৌঁছার জন্য তরুণদের ব্যবহার করে সে দেশের ক্ষয়ে যাওয়া সমাজব্যবস্থা, ঘুণেধরা ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির খোলনলচে পাল্টানো কি এতই সহজ? আমরা মনে করি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে, তরুণদের এই দ্রোহ সামাজিক ও রাজনীতির মন্দ দিকগুলো চিহ্নিত করে, কোন দলের প্রতি মোহ না দেখিয়ে, দেশের প্রতি মোহাবিষ্ট হলে পর্যবেক্ষকদের নেতিয়ে পড়া পালে কিছুটা বাতাস লাগতো। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাউকে শ্রীঘরে বা কাউকে বাসরঘরে রেখে আন্দোলন করে কাঙ্ক্ষিত পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, এই উপলব্ধিবোধ যত তাড়াতাড়ি লালন করে তরুণরা তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগাতে পারবে তত তাড়াতাড়ি ষোল কোটি জনগণের বাংলাদেশে সামাজিক, রাজনীতি ও সংস্কৃতির জরাগ্রস্ততা দূর, তাহলে শাহবাগের এই দ্যুতি ষোল কোটি জনগণের হাতছাড়া হয়ে যাবে। স্বাধীনতা-উত্তর বিয়াল্লিশ বছর করা সম্ভব হবে। তরুণরা ষোল কোটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা থেকে সরে এসে, দলকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্ব করে পরে পাওয়া টার্নিং পয়েন্টটা কোনক্রমেই যেন হাতছাড়া না হয় সে বিষয়ে তরুণদের কড়া নজর রাখতে হবে। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর। তরুণরা যে প্লাটফর্ম তৈরি করেছে সেখান থেকে আমাদের অনেক কিছু ভাবতে হবে। তরুণ প্রজন্মদের জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা। মুজিব, উত্তরা, ঢাকা। দেশের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের অনেক কিছু শেখার আছে শাহবাগ থেকে। মাসুম আহাম্মদ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। তরুণদের এ আন্দোলন নিঃসন্দেহে আগামী বাংলাদেশকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে; তবে তাদের শুধু অতীতে পরে থাকলে চলবে না। বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও যাতে আর কোন কলংকের দাগ না লাগে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতসহ সকল দলের যুদ্ধাপরাধীদের সনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তরুণদের ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের এ মঞ্চ যেন কোন রাজনৈতিক দল কুক্ষিগত করে না রাখতে পারে সেদিকে কড়া দৃষ্টি রেখে তরুণদের এগিয়ে যাওয়া উচিত। মো.আব্দুল্লাহ আল মামুন সারিয়াকান্দী, বগুড়া। প্রতিদিনই এ চত্বরে আগমন ঘটছে নতুন মানুষের। বিরামহীন আন্দোলনের কিছু সুফলও পাওয়া গেছে ইতিমধ্যে। তাই তরুণদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতির ইঙ্গিত বহন করে। মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল ডায়লগ এইড ফাউন্ডেশন, সাভার। একটি মাত্র স্ফুলিঙ্গ যে কখনো কখনো প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে শাহবাগ আন্দোলন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। হোসনে আরা, এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা। নতুন প্রজন্ম উদ্ভাসিত চলমান আন্দোলনের আজ অনেকদিন। স্বাগত জানাই তারুণ্য প্রজন্মকে। রমিজ, কাজীপাড়া, ঢাকা। প্রজন্ম চত্বর নামক শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বাংলার তরুণ সমাজের অভূতপূর্ব গণজাগরণ ও শ্লোগানের মাধ্যমে অহিংস প্রতিবাদ অতীতের সকল গণআন্দোলনের ইতিহাসের হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়েছে। পক্ষকালের অধিককাল ধরে চলমান এই আন্দোলনের ফলাফল সম্পর্কিত সমীকরণে পৌঁছতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের চিন্তাবিদরা হিমশিম খাচ্ছেন। এই আন্দোলনের ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই ব্যাপক পরিবর্তনের হাওয়া বয়ে গেছে এবং আরো পরিবর্তনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের যথোপযুক্ত শাস্তি বিধানের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদ কর্তৃক সামান্যতম বিরোধিতা ব্যতিরেকে গৃহীত হয়েছে এবং উক্ত সংশোধনীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতিরও অনুমোদন পাওয়া গেছে। অপরদিকে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা-ভাবনা সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক করা হচ্ছে। কাজেই আন্দোলনের শতভাগ বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত। কারণ আন্দোলনকারীরা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক আব্রাহাম লিংকনের বাণী “জয়ের জন্য আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্ত অন্য যেকোন কিছু থেকে গুরুত্বপূর্ণ” বলে ভাল করেই জানে। ধাপে ধাপে আন্দোলনকারীদের বিজয় সূচিত হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়াশীল ও বিরুদ্ধবাদীরা মরণ কামড় দেয়া শুরু করেছে। তারা ইতিমধ্যে আন্দোলনের অন্যতম একজন সংগঠককে নির্মমভাবে খুন করেছে। অন্যদের প্রাণনাশের হুমকি প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া আন্দোলনের নামে বিভিন্ন কুত্সা, নির্জলা মিথ্যা, কুসংস্কারপূর্ণ ধর্মীয় অপবাদ ও নানাবিধ প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এতে এই মহান অহিংস আন্দোলন স্তিমিত না হয়ে দিনে দিনে নবযৌবন লাভ করছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল উক্ত অহিংস আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। সফররত বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথি ও প্রতিনিধিরা এ ধরনের অহিংস আন্দোলনকে নিয়ে উচ্চাশা পোষণ করছেন। কাজেই এই অভূতপূর্ব অহিংস আন্দোলনের ইতিবাচক প্রভাব সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির অঙ্গনে পড়তে বাধ্য এবং এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সর্বক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধিত হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী আরমান ভূঁইয়ার বাড়ী, চৌমুহনী হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী। ইতিহাস বলে দেয়, যুগে যুগে সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের মূলে ছিল তারুণ্যের শক্তি। আজকের শাহ্বাগ প্রজন্ম চত্বর থেকেও বাংলাদেশ তথা বিশ্ববাসী সেটাই আশা করছে। তরুণদের দাবি প্রথমে একটি থাকলেও পরে তা ফুলে ফেঁপে সাতটিতে পরিণত হয়। অত্যন্ত দুঃখের সাথে এবং নিরপেক্ষভাবে লক্ষ্য করছি, তাদের প্রতিটি দাবি সরকারের পক্ষে এবং একটি নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে। মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার পরামর্শ নিশ্চয় কোন ডাক্তার দেবেন না। কোন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ভুল সিদ্ধান্ত হতেই পারে। এই বিষয়টিকে পুঁজি করে কোন জাতিতে ভাঙ্গনের চিন্তা কোন উদার গণতান্ত্রিক পন্থার মধ্যে পড়ে না। আজ থেকে ৪০ বছর পূর্বে বঙ্গবন্ধু এ সত্যটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বলেই তিনি চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেন এবং অন্য সহযোগিদেরকে নিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ জাতিকে দু’ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। তরুণ ভাইয়েরা আবারও ভাবুন, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন একটি জাতিকে মেরুকরণ করলে আমরা আরো পিছিয়ে যাব। তাই ভাঙ্গার নীতি পরিহার করুন, সব দলকে গণতান্ত্রিক পন্থায় এক লাল সবুজের পতাকাতলে আনুন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে সবাইকে হাতে হাত ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে বাধ্য করুন, তবেই আপনারা সঠিক ইতিহাস গড়তে পারবেন। ডা. মর্জিনা আক্তার বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার গুলশান, ঢাকা। শাহবাগ নিয়ে মনের আবেগ দিয়ে কত যে গল্প তৈরি করা হচ্ছে তার শেষ নেই। অনেকের মতে, সরকারের পাতানো এই ফাঁদে সরকার নিজেই আটকে যাবে বলে মনে হচ্ছে। সাইফুল ইসলাম তানভীর, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট। আমি মনে করি, তরুণদের এই আন্দোলন আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। সুবিধাবাদী, দুর্নীতিবাজ এবং রাজাকার-আল শামসমুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। যে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা। জয় হোক তরুণদের এই আন্দোলন। পূরণ হোক আমাদের প্রত্যাশা। ফওজিয়া মুন্নী, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা। বর্তমান মুহূর্তে আমাদের জাতীয় ঐক্য একান্ত প্রয়োজন। কোনো অশুভ শক্তি তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করছে। জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হলে আমাদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। বিদেশিরা আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করবার সুযোগ পাবে। আমরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। মো. খোরশেদ আলম, কানকিরহাট, সেনবাগ, নোয়াখালী। রাজধানীর শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন চলছে। রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্মের এ ঐতিহাসিক আন্দোলন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখালেও তাতে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের দেশ বিরোধী রাজনীতির পরিবর্তন হয়নি। তারা গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতি করে জনগণকে বেকায়দায় ফেলছে ঘন ঘন হরতাল দিয়ে। জামায়াত-শিবির মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর পক্ষ নিয়ে জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। বিএনপি এখন জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে যখন এদেশে তরুণ প্রজন্ম রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করছে। তাই তাদের পরিবর্তন আশা করা যায় না। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতেই হবে। তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবর্তন এনে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে সরকারি দল জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সাড়া দিলেও বিরোধী দল বিএনপি দূরে সরে আছে। তারা জনগণের মনের কথা বলতে সংসদে যায় না। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগই পারবে জনগণের ও দেশের উন্নয়ন করতে। পরিবর্তন আসবে জনগণের আন্দোলনের ফলে। এই আন্দোলনই এদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও রাজাকারের ফাঁসি কার্যকর করে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে। পরিবর্তন আসবেই। ফারুক আহমেদ, বাগমারা, রাজশাহী। ঢাকার শাহবাগের তরুণদের আন্দোলন শুধু তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা সবাই চাচ্ছি—এতে কোনো সন্দেহ নেই। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী ইফজু, হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে ১৬ দিন পার করেছে আন্দোলনরত সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তরুণদের এই আন্দোলন সুস্পষ্ট ইংগিত দিচ্ছে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের। তরুণদের আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ এখন গণজোয়ারে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামী দলকে বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছে; একই সাথে বর্তমান সরকারও চাচ্ছে জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা হরতাল, ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। জামায়াত ইসলামীর দেয়া হরতাল দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হয়ে একাত্বতা ঘোষণা করেছে। দেশের মানুষ হঠাত্ ফুসে উঠেছে। শাহবাগের তারুণ্যের প্রতিবাদ চলছেই। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই এই প্রতিবাদী, শ্লোগান, কবিতা আর গান এবং নানা আয়োজনের মাধ্যমে আগুন ঝরছে তারুণ্যের কণ্ঠে। কোন অবস্থাতেই আন্দোলনকারী ছেলে-মেয়েরা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির রায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছড়বে না। মো. লিটন গাজী দক্ষিণ টেংরা, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা-১২০৫। জুলুমের প্রতিরোধ গড়ে তোলে আমরা আমাদের প্রজন্মকে শাণিত করে আমাদের বিবেকের দ্বায়মুক্তির মাধ্যমে যথাযথ মূল্যবোধের বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ করে, পাকিস্তানি জুলুমবাজদের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করেছি। সেই রক্তের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে আমাদের সন্তানদের মাঝে, যারা বর্তমান প্রজন্ম। পাকিস্তানি পেতাত্মারা এবং তাদের দেশীয় দোসররা তাদের হীনউদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার মানসে দেশে রাজতন্ত্র কায়েম করতে চায়। তাদের ঘৃণ্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এদেশের মাটিতে কায়েম হবে না, গতানুগতিক রাজনৈতিক গতি প্রকৃতির গড্ডালিকা প্রবাহ থেকে বেরিয়ে বর্তমান প্রজন্ম দেশকে রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবে ইনশাল্লাহ। আমরা তোমাদের সাথে আছি, থাকবো। তোমরা এগিয়ে যাও রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত অঙ্গীকারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাওয়া এটাই হোক সবার একমাত্র আরাধনা। নাসির উদ্দিন সিদ্দিকী ৩৬১, খন্দকার রোড পশ্চিম জুরাইন মাজার শরীফ এলাকা, শ্যামপুর, ঢাকা-১২০৪ পর্যবেক্ষক মহলের চিন্তার সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করেই যুক্ত করছি প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা মূলত এ আন্দোলন বহুমাত্রিক। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বিরোধী রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক এবং সরাসরি জড়িতদের ফাঁসি হোক। অন্য দিকে এ প্রজন্ম রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, পারিবারিক, নষ্ট বাতিল নৈতিক আস্ফাালন, অন্যায় সনাতন ধ্যান ধারণা ভেঙ্গেচুড়ে নতুন নিয়ম-নীতি চালু হোক এটা তাদের সত্যিকারের চাওয়া। আমি তাদের সর্বত্র ভদ্র ও স্বার্থক আন্দোলন জয়যুক্ত করবার একজন কর্মী হিসাবে নিজেকে ঘোষণা করছি এবং সৃষ্টি কর্তার নিকট প্রার্থনা করছি বাংলার ঘরে ঘরে প্রত্যেক অভিভাবক যেন তাদের সন্তানদের সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার কাজে সম্পৃক্ত হোন। আমিনুল ইসলাম আমির অধ্যক্ষ, জিঞ্জিরা পিএম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ, জিঞ্জিরা, ঢাকা। শাহবাগের প্রজন্ম তরুণদের আন্দোলন সুস্পষ্ট ইংগিত দিচ্ছে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের। তরুণদের আন্দোলনে জনগণের একাত্বতা এখন গণজোয়ারে পরিণত হয়েছে। এদেশের মানুষ যেন হঠাত্ জেগে উঠেছে। তারা নারা দিয়েছে ভ্রষ্ট রাজনীতির ভিত্তিকে, জাগ্রত করেছে জাতির বিবেককে। কাপিয়ে দিয়েছে হরতাল, সন্ত্রাস, নৈরাজ্যবাদ আর মানবতাবিরোধী শক্তিকে। প্রজন্মের তরুণদের এই ইংগিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে গণতন্ত্র আর ন্যায় বিচার। দূর করতে পারে সন্ত্রাস, অপরাধ এবং অশুভ শক্তিকে। প্রজন্মের তরুণদের এই ইংগিত তাই বহন করে। শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো কালিহাতি, টাঙ্গাইল। তরুণদের আন্দোলন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ২ দিন কর্মসূচি ঘোষণা দেয় তারা। এই কর্মসূচির প্রথমদিন বুধবার ছিল তাদের বেলুনে চিঠি উড়ানো ও আর বৃহস্পতিবার ছিল মহান ভাষা আন্দোলনের দিন মহাসমাবেশ। তরুণদের এই আন্দোলন হোক আরো বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী এই আজকের প্রত্যাশা। ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা। শাহবাগের তারুণ্যের প্রতিবাদ চলছেই। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ফাঁসির দাবিতে ১৬ দিন পার করেছে এই আন্দোলন। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই এই প্রতিবাদী শ্লোগান, কবিতা আর গানের মাধ্যমে আগুন ঝরছে তারুণ্যের কণ্ঠে। নেই তাদের ক্লান্তি। আমার আহ্বান হচ্ছে এগিয়ে যাও হে তারুণ্য, তোমরাই করবে জয়, করবে এই আন্দোলন। তোমাদের জন্য রইল রক্তিম শুভেচ্ছা। আবদুল মালেক মিয়া মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬। তারুণ্যই শক্তি, একটি রাষ্ট্রের অসংগতি, বৈষম্য দূর করতে তরুণরা ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন আরব বসন্ত। আমাদের দেশে রাজনীতি, সামাজিক, অর্থনীতি, ধর্মীয় অসংগতি দূর করতে ও দুর্নীতি রুখতে তরুণরা ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে তরুণদের লোভ-লালসা ও দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করে জাতীয় স্বার্থে একত্রিত হতে হবে। মুসা আমান খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯। শাহবাগে তরুণদের আন্দোলন সত্যিকার অর্থে সঠিক গন্তব্যে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা চাই তরুণদের এই আন্দোলন আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাক— এই প্রত্যাশা রইল। মোস্তানসিরুন করিম ধানমন্ডি, ঢাকা। ৪২ বছরের অনেক ক্ষোভ জেগে উঠেছে তরুণদের, এ জাগরণ মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার চেতনায়। আমরা চাই এই আন্দোলনে বেগবান হয়ে সত্যিকারের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তি হোক। বিপ্লব আলম উর্দ্দু রোড. লালবাগ, ঢাকা। প্রবাদ আছে মানুষ হয় দেখে শিখে নয়তো ঠেকে শিখে। শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের চেতনা সমগ্র জাতিকে স্পর্শ করেছে যা দৃশ্যমান। সচেতনতা যেন কোন ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার। এ আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। মো. ফখরুল ইসলাম টিপু, ছাত্র, সেনবাগ, নোয়াখালী। সারাদেশে তরুণদের বজ্র কণ্ঠের কঠিন প্রতিবাদে সমাজের সকল স্তরের মানুষের চেতনা শক্তি সাহস ও মনোবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণদের প্রতিবাদে আদর্শ ভ্রষ্ট রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি বন্ধ করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য করবে। আর সাংস্কৃতিতে বাস্তব চিত্র প্রদর্শনে দেশবাসীকে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় মনোবল নিয়ে সাহস শক্তি বাড়াবে। জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশে তরুণগণ সহায়তা করবে। নিজেদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা তরুণদের কর্তব্য। এতে অপসংস্কৃতি বন্ধ হবে। তরুণরা দেশের শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়ে দেশের উন্নয়ন সাধনে দায়িত্ব পালন করছে বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করে। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর হলেও তরুণগণ একত্রিত হয়েছে এটাই মহা আনন্দের বিষয়। ন্যায় বিচার না পেলে শাহবাগের তরুণরা যে মহাআন্দোলনের ইঙ্গিত করেছেন পর্যবেক্ষক মহলে অনেকেই তা বুঝতে পারছেন। কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন “তরুণ নামে জয় মুকুট শুধু তাহার, যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঙ্কার ন্যায়, ত্যাজ নিমেঘ আষাঢ় মধ্যাহের মাতণ্ড প্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তি যাহার উত্সাহ, বিরাট ঔদার্য অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে”। তরুণ প্রজন্মের প্রতি ভবিষ্যত্ প্রজন্ম অনেক অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। পর্যবেক্ষক মহলও এই ইংগিত করছে। আশা এলিজাবেথ গোমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ৬ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচার আন্দোলন, তাতে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ বা ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আজকের শাহবাগের তারুণ্য চত্বরের এক নতুন ইতিহাস হয়ে থাকবে। জাহাঙ্গীর খান বাবু, দৈনিক জনতা, মতিঝিল, ঢাকা। দেশব্যাপী শুরু হয়েছে এ প্রজন্মের দাবি। কাউছার আকন্দ, টাইমস আই বেঙ্গলি ডট কম, মতিঝিল, ঢাকা। রাজধানী শাহবাগ চত্বর এখন প্রতিবাদের আগ্নেয়গিরির স্থান। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিটিই যেখানে মুখ্য। নার্গিস, হাজারীবাগ, ঢাকা। সারাদেশে তারুণ্যের জোয়ার সঠিক সময়ই হয়েছে। তবে আমরা চাই সব বিষয়ের উপর আন্দোলন। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও দেশের চলমান অবস্থান থেকে এই প্রতিবাদ করতে হবে। লাডলা, পিলখানা, ঢাকা। শাহবাগের এবং সারাদেশের অপারাজেয় তারুণ্য জানিয়ে দিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কোন আপস চলবে না। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মেজবাহউদ্দিন সেলিম, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা। হে তারুণ্য তোমাকে বিজয় আনতে হবে। বিজয় না নিয়ে ঘরে ফেরা ঠিক হবে না। নিলুফার আক্তার, টোলারবাগ মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬। পর্যবেক্ষক মহলের ধারণার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। তবে প্রধান যে ইস্যুতে শাহবাগ বিস্ফোরণ সেই বিস্ফোরণের মাধ্যমে রাজনীতিকদের অসত্ পথে ক্ষমতায় টিকে থাকা বা আশার পথে অগ্নেয় গিরির গলিত জ্বলন্ত লালা ঢেলে দিতে সচেষ্ট থাকে তবেই ৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মা ১০০ ভাগ শান্তি পাবে। ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে বার বার আন্দোলনের ডাক মানুষের ধৈর্য্যের কারণে পথ হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই যা কিছু করার তা এক গর্জনই করলে তা হবে দেশের জন্য মঙ্গলময়। তরুণ সমাজের সত্ উদ্দেশ্য সফল কর হে করুণাময়। মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা। তরুণ প্রজন্ম চিরকালই চিরসজীব—তাদের দিয়ে আগামী প্রজন্মকে ঘিরে রাখতে হবে। শাহবাগের তারুণ্য চত্বরের আন্দোলনকে ইতিহাস করে রাখার মত। পারভীন সুলতানা, আরাপপুর, ঝিনাইদহ। তরুণদের আন্দোলনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত এটার সঙ্গে আমি একমত। সোহাগ, ভাগলপুর লেন, ঢাকা। তারুণ্য বা তরুণরাই আগামী দিনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাদের দিয়েই অনেক কিছু সম্ভব। শাহবাগে তারুণ্য প্রজন্ম চত্বরে যে আন্দোলন চলছে তাকে স্বাগত জানাই। স্বপন, নোয়াখালী। শাহবাগের তারুণ্য চত্বরের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখান থেকে সব বিষয়ের আন্দোলন সম্ভব। এটাকে নতুন প্রজন্মের একটি মাত্রা বলা যায়। নাসরিন সুলতানা, স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক অভূতপূর্ব মাত্রা যোগ হয়েছে শাহবাগ চত্বর। সম্প্রতি মোমবাতির প্রজ্বলনে সারাদেশে এক সংগে জ্বলে ওঠে অসংখ্য মোমবাতি। মোমবাতির আলোক ছটায় অন্ধকার দূর করায় এই নতুন ধরনের আন্দোলন এক অসম্ভব শক্তি ধারণ করেছে নিঃসন্দেহে। এস.কে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার। বর্তমান সময়ের অসাধারণ এবং বিস্ময়কর ঘটনা শাহবাগ চত্বরে তারুণ্যের তেজদ্বীপ্ত সংগ্রামি অবস্থান। যে যত কথাই বলুক সত্য এবং ইতিহাস কেউ কখনো দাবিয়ে রাখতে পারে না। তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর। যে বিষয়টি রাজনৈতিক নেতারা বহু চেষ্টা করেও সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছাতে পারেননি সেই বিষয়টি তরুণ সমাজ অত্যন্ত সহজে এবং হূদয়গ্রাহীভাবে সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং ফেস বুকের কল্যাণে দেশব্যাপী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়টি দ্রুত জনগণের কাছে চলে যায়। সত্য কথা বলতে কি লিও টলস্টটয়ের অসাধারণ গল্প চিলড্রেন মে বি ওয়াইজার দ্যা দেয়ার ইল্ডার এর বক্তব্য সরাসরি আমাদের প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে। বড়রা অনেক বিষয় সমাধান করতে পারে না কিন্তু তরুণরা পারে। এই বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে বলতে চাই যে সমস্ত বাচ্চারা শাহবাগ চত্বরে অবস্থান করে হাত উত্তোলিত করে বজ কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছে তাদের অবশ্যই মানসিক পরিবর্তন আসবে। ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এরা দেখেনি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন এরা দেখেনি, কিন্তু প্রজ্বলিত শাহবাগে যা দেখেছে তা এক কথায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই ধারাটির ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সূক্ষ্ম একটি মুক্তবুদ্ধির পরিচয় এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গায়ক, কলামিস্ট, আলোচক এবং সব শিক্ষিত বৌদ্ধরা যেসব মতামত রেখেছেন তার ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও একটি সুবাতাস বইবে। নাট্যজনের নাটক লিখে প্রজন্মকে ধর্মের কুসংস্কার থেকে বের করে নিয়ে আসবেন। এইসব ঘটনা কিছুই ঘটতো যদি না তারুণ্য শাহবাগে জমায়েত হতো। এ প্রসঙ্গে বিপ্লবের একটি সুনির্দিষ্ট চাহিদা মানুষকে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করা। আমরা মনে করি শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর সেই পরিবর্তনের সূচনা করেছে। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক। ওয়াহিদ মুরাদ স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর। আন্দোলন সৃষ্টির ইতিহাসে বিজ্ঞান ভিত্তিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তারুণ্য কর্মক্ষমতা অর্জনের সময় এবং বিকাশের সময়। পর্যবেক্ষক মহলের পর্যবেক্ষণ তারুণ্যের আন্দোলনে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বহন করে, এটিকে আমি মনে করি একটি পূর্বাভাস। এক্ষেত্রে আমার সুচিন্তিত মতামত তারুণ্য পারে সকল প্রকার আন্দোলনকে বেগবান ও সফল করতে। এক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক বিবেচনা থাকতে হবে যে আন্দোলনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলির গতিবিধি আমাদের জন্য কতটুকু সংগতিপূর্ণ ও যৌক্তিক। ফলাফল যদিও সকল সময় নির্ধারণ করা যায় না তবুও আমাদের অভিজ্ঞমহলকে সতর্ক থাকতে হবে যেন তরুণরা লক্ষ্যচ্যুত না হয়। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে আন্দোলন সংগঠিত ও সঠিক নেতৃত্ব না পেলে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। আন্দোলনের সুফল যেন বিশ্ববাসী ও বাংলাদেশ দেখতে পায়। মো. কাবিউল ইসলাম সহকারী শিক্ষক আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা। তারুণ্যের আজকের আন্দোলন সত্যিকার অর্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত্। সুতরাং শাহবাগের মানবতাবিরোধী যে আন্দোলন চলছে সেটাকে শুধু যুদ্ধোপরাধীদের ইস্যুতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক আন্দোলনের মধ্যেও এগিয়ে নেয়া দরকার। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদুল্লাহ মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬।