ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় ঘর চাপা পড়ে আনোয়ারা খাতুন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাতে উপজেলা চরআলগি ইউনিয়নের রব রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঝড়ের সময় তিনি বসত ঘরে বসে ছিলেন। এ সময় প্রচণ্ড ঝড়ে কাঁচাঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে তার গায়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০জন বাসিন্দা। আহতদের মাঝে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে রামগতি উপজেলার চরআলগি, চরগজারিয়া, তেলিরচর, বয়ারচর, চর আবদুল্লাহ এলাকায় প্রায় পাঁচতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলা বিভিন্ন স্থানে বহু গাছপালা ভেঙে পড়েছে, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ফণী তাণ্ডব চালায় এই উপজেলায়। কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় নদীর তীর রক্ষা বেড়িবাঁধের প্রায় ১শ মিটার বাঁধ নদীতে ধ্বসে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো বাঁধ। অপরদিকে মেঘনায় অস্বাভাবিক জোয়ার ও প্রবল ঢেউয়ে নিমাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এতে করে আতংকে রয়েছেন নদী পাড়ের কয়েক লাখ মানুষ।
রায়পুর উপজেলার টুনুর চর, কানি বগার চর, মিয়ার হাট ও চরলক্ষ্মী গ্রামের ঘরবাড়ি, পাকা সয়াবিন ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছে। গাছপালা ভেঙে লোকজনের গায়ে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৭জন। প্রায় দুইশতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় এলাকার ৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল হক একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঝড়ে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী রায় জানান, ঝড়ে অনেক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ১৫০ থেকে ২০০টির মতো কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ইউনুসের বাড়িতে শোকের মাতম
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর হাত থেকে রক্ষা পেতে জেলার ১০০টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ ২শতাধিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২০হাজার মানুষ। ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাতের ক্ষতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তারা নিরাপদে সরে এসেছেন। এসব মানুষদের শুকনো খাবার ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৩৭৫ মে. টন চাল, ২হাজার ৫শ বস্তা বিস্কুট ও নগদ ৮লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌ-রুটের সকল নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
