বাংলা
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
‘একুশের গল্প’
জহির রায়হান
৫. নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
বর্তমানে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ রাত বারোটা বাজার পর থেকে শহিদ মিনারের দিকে পদযাত্রা করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত হয়ে যায় শহিদ মিনারের মূল প্রাঙ্গণ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শহিদ মিনারের আকারে পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু পরিবর্তন হয় নি মানুষের চেতনা। মানুষের মনের চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে স্বাধীন ভাস্কর্যের মতো। আজকের এই নিবেদনের প্রকৃতি অনুপস্থিত ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্ব আমলে।
ক. ‘একুশের গল্প’-এ তপুর প্ল¬্যাকার্ডে কী লেখা ছিল? ১
খ. রাহাত রেণুর ওপর রেগে উঠল কেন? ২
গ. ‘শহিদ মিনার যেন তপুর স্কেলিটন’ উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ভাষাশহিদদের অমরত্বের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। ৪
৫ নম্বর প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর
তপুর প্ল¬্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।
৫ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর
মিছিল থেকে তপুকে তার স্ত্রী নিয়ে যেতে চাইলে রাহাত তার উপর রাগ করে উঠে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পুরোভাগে ছিল ঢাকা মহানগরীর সচেতন ছাত্র-জনতা। তপু, রাহাত ও গল্পের কথক সে মিছিলে যোগ দেয়। তারা মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চরম মুহূর্তে হঠাত্ বন্ধু তপুর স্ত্রী রেণু এসে তপুকে মিছিল থেকে ফিরিয়ে নিতে চাইলে রেণুকেও রাহাত মিছিলে যেতে বলে। রেণু তা উপেক্ষা করে আবারও তপুকে ফিরিয়ে নিতে চাইলে রাহাত রেণুর ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
৫ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর
‘একুশের গল্প’-তে তপুর আত্মত্যাগ শত শহিদের প্রতীক রূপে অম্লান হয়ে আছে যা উদ্দীপকেও শহিদদের আত্মত্যাগের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
একুশের গল্পে আমরা দেখি, চার বছর পূর্বে হাইকোর্টের মোড়ে ভাষার মিছিলে যে তপু নিহত হয়েছিল, সে আবার ফিরে এসেছে সহপাঠীদের আবাসিক কক্ষে নরকঙ্কাল রূপে। দীর্ঘদিন পরে এ যেন তপুর কঙ্কাল ফিরে আসা নয়, সে যে মহান আদর্শের জন্যে জীবন দিয়েছে তারই ফিরে আসা।
উদ্দীপকেও আমরা এ চেতনার প্রতিফলন দেখি। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ত্যাগস্বীকারের প্রশ্ন যখনই আসে, তখনই একুশের চেতনা এসে আমাদের স্বার্থবাদী চিন্তাকে পরাভূত করে। একুশের পুনঃপুন আগমনকে লেখক তাঁর গল্পের মূল উপজীব্য করেছেন। একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই প্রতি বছর যেন আমরা নিজেদের মাঝে ফিরে পাই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারকে। ‘একুশের গল্প’-এর তপুর কঙ্কাল যেন এ শহিদদেরই প্রতিনিধিত্ব করে। বাঙালি চেতনার সবচেয়ে স্পর্ধিত লড়াকু যুবক তপুর স্কেলিটন শহিদ মিনারের প্রতীকী ব্যঞ্জনায় ভাস্বর।
৫ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’-এর উত্তর
কথাশিল্পী জহির রায়হান-এর অমর সৃষ্টি ‘একুশের গল্প’। এখানে ভাষাশহিদদের মৃত্যুঞ্জয়ী অবস্থানের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। উদ্দীপকে ভাষা শহিদদের অমরত্বের বিষয় উপস্থাপিত না হলেও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদনের বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে।
একুশের গল্পে লেখক ভাষাশহিদদের অবিনশ্বর চেতনার বিষয়টি বাঙ্ময় করে তুলেছেন। কারণ শহিদরা কখনও মরে না, চিরদিন জাতির অন্তরে তাঁরা ভাস্বর থাকে। ১৯৫২-র আন্দোলনে যারা পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন, তাঁরা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছিলেন।
উদ্দীপকে বাঙালির এ বৈশিষ্ট্যের কথাই স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যাঁরা জীবন উত্সর্গ করেন, তাঁদের শুধু শারীরিকভাবে মৃত্যু ঘটে, তাঁদের প্রতিষ্ঠিত চেতনার কোনো মৃত্যু নেই। তাদের জন্য জাতির সর্বদা কামনা থাকে এবং দেশের জন্য তারা যারা জীবন দিলো তাদেরতো জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
১৯৫২-র ভাষা শহিদেরা মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে জীবন উত্সর্গ করেছিলেন। তাঁদের অস্তিত্বকে স্মরণ করেই প্রতি বছর মানুষ শহিদ মিনারে যায়। আজও বাঙালি জাতি শহিদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে জাতীয় অধিকার আদায়ে অনুপ্রাণিত হয়। ভাষার দাবিতে বাঙালির সংগ্রাম, রক্তদান প্রকৃত প্রস্তাবে নিয়ত সংগ্রামশীল মানবাত্মার জয় ও সত্য প্রতিষ্ঠারই ইতিকথা। ১৯৫২ সালে ভাষা ও সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার দুর্নিবার আত্মপ্রত্যয়ই তাঁদের বাঙালির হূদয়ে চির অমর করে রাখবে। তাই গল্প এবং উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, ভাষা শহিদদের অমরত্বের স্বরূপ বড়ই অহংকারের এবং সবিশেষ শ্রদ্ধার।
