দেশের ভেতর আরেক দেশ। সরকারের পাশাপাশি আরেক শাসন ব্যবস্থা। লেবানন ও ইরাকে এমন পরিস্থিতির কথা জানা গেলেও এবার মিশরেও তৈরি হয়েছে সেই অবস্থা। মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি বা এফজেপি’র সদস্য। এই এফজেপি আসলে মুসলিম ব্রাদারহুডের পোশাকি নাম। ৮৫ বছর আগে গঠিত হওয়া মুসলিম ব্রাদারহুড বেশিরভাগ সময়ই আত্মগোপনে থেকে কাজ চালিয়ে গেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের সময় দলটি বেশ চাপে ছিল। তাদের অনেক নেতাকে কারাদণ্ডও ভোগ করতে হয়েছে।
২০১১ সালে আরব বসন্তের হাওয়ায় মুবারক সরকারের পতনের পর মুসলিম ব্রাদারহুড জনসম্মুখে আসে। তবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সময় তারা এফজেপি নামে অংশ নেয়। পরবর্তীতে সংসদসহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল জয় পায় এফজেপি তথা মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এখন মিশরের ক্ষমতায় বলতে গেলে এই ব্রাদারহুডই। কিন্তু তারপরও এখনও দলটি গোপনভাবে কিছু কাজ করে যাচ্ছে। যেমন গোয়েন্দাগিরি। যদিও এই বক্তব্যের সপক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ নেই, তবুও কয়েকটি ঘটনা ব্রাদারহুডের গোপন উপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। যেমন প্রেসিডেন্ট মুরসি একসময় বলেছিলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে কে কোথায় বৈঠক করছে সে খবর তাঁর কাছে রয়েছে। আবার আরেকটি ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, ব্রাদারহুডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা খাইরাত এল-শাতের বলছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য করতে তত্কালীন নির্বাচন কমিশন ও সামরিক কাউন্সিলের কর্মকর্তারা টেলিফোনে যে ফন্দি এঁটেছিলেন তার রেকর্ডিং তাঁর কাছে রয়েছে। অর্থাত্ সরকারিভাবে গোয়েন্দা সংস্থা থাকলেও ব্রাদারহুড আলাদাভাবে নিজেদের গোয়েন্দা তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি দেশের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের চেয়ে প্রেসিডেন্ট মুরসি ব্রাদারহুড দলের পরামর্শকদের কথা বেশি শোনেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে কেন ব্রাদারহুড এমন করছে? বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্রাদারহুড মনে করছে তারা ক্ষমতায় থাকলেও সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগে এখনও মুবারক আমলের কর্মকর্তারা রয়েছেন। ব্রাদারহুড দলের ওয়েবসাইটের এক সময়কার সম্পাদক আবদেল জলিল আল শারনোবি, যিনি পরবর্তীতে দল ছেড়ে দিয়েছেন, তিনি বলছেন ব্রাদারহুড সরকারকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ব্রাদারহুডের আরেক সাবেক কর্মী মোহাম্মদ আল গেব্বাহ বলছেন, এই গোষ্ঠীর ছয়টি ছোট ছোট গোয়েন্দা কেন্দ্র রয়েছে। তবে গেব্বাহ তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে আর কিছু জানাননি। ব্রাদারহুড মুখপাত্র মুরাদ আলি অবশ্য গেব্বাহর এই বক্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন।
