দশ দিগন্তে

যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ড দান এবং জামায়াতি তাণ্ডব দমনে সরকার কি নমনীয়?

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৫
গত শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর-বন্দরে জামায়াতি তাণ্ডব, ঢাকায় এক কনেস্টবল হত্যা, শনিবারেও (২৩ ফেব্রুয়ারি) পাবনায় জামায়াতের হরতাল পালনকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির মৃত্যু, রবিবারে আবার সারাদেশে জামায়াতিদের হরতাল ডাকা ইত্যাদি দেখে মনে হয় টিকটিকি মারা গেলেও তার লেজ লাফাবার ক্ষমতা রাখে। জামায়াতিদের লেজ অবশ্য বিপজ্জনকভাবেই লাফাচ্ছে। বাংলাদেশের জামায়াতকে টিকটিকির সঙ্গে তুলনা করেছি বলে কেউ যেন মনে না করেন, আমি তাদের নাশকতামূলক কাজের ক্ষমতাকে ছোট করে দেখছি। বরং এই ক্ষমতা যে তাদের অক্ষুণ্ন তার প্রমাণ তারা এখনো দিয়ে চলেছে। জামায়াত ১৯৭০ সাল থেকেই একটি গণবিচ্ছিন্ন ও জনসমর্থনহীন দল। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় তাদের হাতে স্বজাতি ও স্বদেশবাসীর রক্তের দাগ ছিলো না। মুখে ইসলামের দোহাই আরও জোরেশোরে ছিল। কিন্তু নির্বাচনে আসন লাভ করতে পারেনি একটিও। বাংলাদেশে জনসমর্থিত বড় দু’টি দলের তুলনায় জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকটিকির সঙ্গে তুলনা করা যায়। তথাপি অদ্যাবধি তার লেজের এতো দাপট কেন, এবং সেই দাপটের সামনে আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত আমাদের পুলিশ বাহিনীর এমন লেজেগোবরে অবস্থা কেন, সেই প্রশ্নটি একটি বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। কেউ বলছেন, পুলিশের অস্ত্রশক্তি ও জনশক্তি প্রয়োজনের তুলনায় অল্প। তাই তারা জামায়াতের ট্রেনিংপ্রাপ্ত সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে পেরে উঠছে না। আবার কেউ বলছেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে এমনভাবে পুলিশের দলীয়করণ হয়েছে এবং বাবরের মতো সাবেক দুর্বৃত্ত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে পুলিশের নীতি-নৈতিকতা এমনভাবে নষ্ট করে গেছে যে, তা থেকে এই বাহিনীকে আবার মুক্ত ও সচল করা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে গত চার বছরের বেশি সময়েও সম্ভব হয়নি। দেশের বর্তমান অবস্থা ও পুলিশ বাহিনীর জামায়াতিদের হাতে বারবার মার খাওয়া সম্পর্কে এসবই হচ্ছে দেশের মানুষের জল্পনা-কল্পনা। এর কোনিট সত্য অথবা দু’টিই সত্য কি না তা আমি জানি না। আমি জল্পনা-কল্পনার মধ্যে যেতে চাই না। আমার কাছে বিরাট বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, দেশময় ৭১-এর যুদ্ধাপরাধী, বিশেষ করে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী জামায়াত নেতাদের বিচারে চরম দণ্ডদানের দাবিতে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ ঘটেছে। বলতে গেলে প্রজন্ম চত্বরের নির্দেশে সারা দেশ এখন চলছে। এই গণজাগরণ সরকার বিরোধী নয়, বরং এই আন্দোলন যুদ্ধাপরাধীদের চরম দণ্ডদানে সরকারের হাত শক্তিশালী করতে চায়। আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাও এই গণজাগরণের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তারপরও দেশে এই উত্তাল গণতরঙ্গের মুখে জামায়াত বালির বাঁধ দেওয়ার সাহস কোথায় পায় এবং যে পুলিশের (তাদের ক্ষমতা যত সীমিত হোক) পেছনে রয়েছে বিশাল জনসমর্থন, তারা জামায়াত-শিবিরের হাতে কেমন করে মার খায়, সেটাই আমার বিস্ময়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন, দেশে জনসমর্থনহীন জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত আড্ডা এবং নাশকতামূলক কাজের গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি আগে কোনো তথ্যই সংগ্রহ করতে পারেনি এবং সরকার ও পুলিশকে সতর্ক করতে পারেনি? অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব কিছুকাল আগে বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ব্যাপারে ব্যর্থ হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার প্রতিবাদ করে বলেছেন, না, তারা ব্যর্থ হয়নি। তার কথা যদি সঠিক হয়, তাহলে সরকার এই জামায়াতি তাণ্ডব শুরু হওয়ার আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলো না কেন? নাকি গোয়েন্দা বিভাগগুলো জামায়াত-শিবিরের তত্পরতার রিপোর্ট মন্ত্রীকে জানিয়েছে আগেই, কিন্তু মন্ত্রী সেগুলো সময়মতো পড়ে দেখার সময় পাননি। এমন গুজবও বাজারে রয়েছে। আমি জানি না, এমন বিশাল অভূতপূর্ব গণজাগরণ এবং তারুণ্যের অভ্যুত্থানের সমর্থন বাংলাদেশে আর কোনো সরকার আগে কখনো পেয়েছে কিনা! দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ-শিশু, আশি বছরের বৃদ্ধ থেকে আট বছরের বালক কণ্ঠে জয় বাংলা শ্লোগান এবং ফাঁসি চাই দাবির প্লাকার্ড হাতে রাজপথে নেমে এসেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি এই অবস্থায় কোণঠাসা হয়ে এই দৃশ্য দেখেছে। ব্যারিস্টার মওদুদ ও মির্জা ফখরুলের কিছু চালবাজি ছাড়া এই গণসমাবেশ এবং তরুণ প্রজন্মের দাবির বিরোধিতা করার সাহস তারা দেখায়নি। এই অবস্থায় ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরের পর জামায়াত-শিবিরের পালের গোঁদাদের আত্মগোপন ও দেশ ছেড়ে পলায়নের মতো ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও তো জামায়াত-শিবিরের অধিকাংশ নেতাকর্মীর (যারা ধরা পড়েননি) হয় মূষিকের বিবরে আত্মগোপন অথবা দেশ ছেড়ে আবার পলায়নের কথা। তার বদলে প্রজন্ম চত্বরের সমাবেশ শুরু হওয়ার কিছু আগে থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর পর গত শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে দলবদ্ধ গুণ্ডামির জন্য তারা দেশের বিভিন্ন শহরের রাজপথে বেরিয়ে আসার এবং পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার সাহস পায় কোথা থেকে? তাদের দমন করতে গিয়ে পুলিশের ভূমিকা (টেলিভিশনে যতোটা দেখেছি) অনেক স্থানে ‘লজ্জাবতী বধূর’ ভূমিকার মতো দেখা গেছে। এটা কি জামায়াতি সন্ত্রাস দমনে সরকারের অক্ষমতা, না অনিচ্ছা? বাংলাদেশে কিছু ‘চশমখোর’ বুদ্ধিজীবী আছেন, যারা সবসময় আওয়ামী লীগের সব কাজকেই সন্দেহের চোখে দেখেন এবং সন্দেহ জনমনেও ছড়াতে চেষ্টা করেন। বর্তমানে এদের প্রচার, আওয়ামী লীগ সরকার শাহবাগের অভ্যুত্থান ও জামায়াতিদের সঙ্গে একটা কৌশলের খেলা খেলছে। খেলাটি হচ্ছে, তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে সমর্থন দেওয়া এবং অন্যদিকে জামায়াতকে কৌশলের খেলায় নিয়ন্ত্রণে রেখে আগামী নির্বাচনে টেনে আনা এবং নিজেদের অনুকূলে ব্যবহার করা। এই কৌশলের খেলার ফাঁকে যুদ্ধাপরাধীদের কেউ কেউ চরমদণ্ডের বদলে লঘুদণ্ড পেয়ে পার পেতে পারে। আওয়ামী লীগ সরকার এজন্যেই জামায়াতি তাণ্ডবকে কঠোর হাতে দমনের গণইচ্ছা পূরণ করছে না। আমি একশ্রেণীর মিডিয়া ও সন্দেহবাদী বুদ্ধিজীবীর এই প্রচারে বিশ্বাস করি না। কারণ গত ৫০ বছর যাবত্ই দেখেছি, আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ সরকারের ভালোমন্দ সকল কাজ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ এবং তা প্রচার করে জনমনকে বিভ্রান্ত করা এই শ্রেণীর মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীদের একমাত্র কাজ। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর বিজয়ী আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্নে সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়ার সঙ্গে বেঠকে বসতে রাজি হন, তখন বর্তমানের সন্দেহবাদীদের মতো তখনকার সন্দেহবাদীদের প্রচারণা ছিলো, শেখ মুজিব তো ছয় দফার দুই দফা ছেড়ে দিয়ে ইয়াহিয়ার সঙ্গে আপস করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন এবং ঢাকার রাজপথে যে বিশাল জনতা ‘আপসের মুখে লাথি মারো, স্বাধীনতা ঘোষণা করো’ শ্লোগান দিচ্ছে তারা প্রতারিত হবে। সন্দেহবাদীদের এই প্রচারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিলো। বর্তমানেও শাহবাগ অভ্যুত্থানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সহাবস্থান সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য একই প্রচারণা চালানো হচ্ছে—অর্থাত্ আওয়ামী লীগ আপসপন্থি। তারা যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দান ও জামায়াতের দৌরাত্ম্য দমনের কাজে আন্তরিক নয়। এজন্যেই জামায়াতিরা শুক্রবারে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এবং শনিবারে পাবনা, বরিশালসহ অন্যান্য দু’একটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামতে সাহস পেয়েছে। আওয়ামী লীগ বর্তমান জনজাগরণের সঙ্গে প্রতারণা করবে কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বা জামায়াতিদের ব্যাপারে নমনীয় হবে এমন ভাবার কোনো কারণ আমি দেখি না। বিভিন্ন দেশের গণজাগরণের ইতিহাসে দেখা গেছে, জনতা যখন জাগে এবং রাজনৈতিক দলের হাত থেকে নেতৃত্ব জনতার হাতে চলে যায়, তখন অত্যন্ত দোদুল্যমান নেতাও জনতার বিরুদ্ধাচরণে সাহসী হন না। বর্তমান আওয়ামী লীগে ডানপন্থিদের প্রভাব যতোই থাকুক, বর্তমান মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু-কন্যাকে প্রভাবিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং সেই সঙ্গে এও তারা জানেন, বর্তমান আন্দোলনের দাবি পূরণে প্রকাশ্য গড়িমসির অর্থ হবে আওয়ামী লীগের জন্য শুধু নির্বাচনে ভরাডুবি নয়, রাজনৈতিক মৃত্যু ডেকে আনা। বিএনপির বর্তমান অবস্থা দেখে আওয়ামী লীগের শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত। জামায়াতি সঙ্গদোষে বিএনপির ‘ফান্দে পড়া বগার’ অবস্থা। তবে আওয়ামী লীগের মতো একটি বিশাল এবং প্রাচীন গণতান্ত্রিক দলে গণ-আন্দোলন বিমুখ কৌশলী খেলোয়াড়েরা যে নেই, তা নয়। তারা ছয় দফার আন্দোলনের সময় ছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়েও ছিলেন। নইলে কখনো পিডিএমপন্থি আওয়ামী লীগ, কখনো দলের ভেতরেই মোশতাক গ্রুপের আবির্ভাব হয় কেমন করে? গত এক এগারোর সময় দলের ভেতরে তথাকথিত সংস্কারপন্থিদের ভূমিকাই বা কী ছিল? শেখ হাসিনা জানেন, বর্তমান প্রজন্ম চত্বরের গণ-জোয়ারের সময়েও তার নৌকায় প্লাবনের সময়ের নূহ নবীর নৌকার মতো সিংহ ও বাঘের সঙ্গে ইঁদুর এবং ছুঁচোরও সহাবস্থান রয়েছে। এই ইঁদুর এবং ছুঁচোদের পরামর্শে তিনি কান দেবেন তা আমি বিশ্বাস করি না এবং অন্যদেরও কান না দিতে অনুরোধ করি। এই ধরনের সন্দেহ এবং প্রচারণার একটাই উদ্দেশ্য, বর্তমান আন্দোলনে বিভেদ সৃষ্টি করা, দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের ক্ষতি করা। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের দণ্ডদানের মতো ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ডদানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু তার উপর এই ব্যাপারে নমনীয় হওয়ার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় বিরাট চাপ আছে। প্রচণ্ড বাধা আছে। তার জীবনের উপর হুমকিও আছে। এই সকল বাধা-বিপত্তি এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখেই তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার অদম্য সাহস দেখিয়েছেন এবং এই বিচারে অপরাধীরা যাতে যথাযোগ্য দণ্ড পায়, তার নিশ্চয়তা বিধানেও তিনি আগ্রহী। জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় নানা চাপের মুখে তার সরকারকে অবশ্যই কৌশলী হতে হবে। বিশ্ববাসীকে এই মর্মে আশ্বস্ত করতে হবে যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পক্ষপাতহীন হচ্ছে এবং অপরাধীরা ন্যায় বিচার পাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের চরম দণ্ড দানে দেশি-বিদেশি প্রচণ্ড চাপ ও বাধা অতিক্রমণে সরকারের জন্য বিরাট সহায়ক শক্তি প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন। এই আন্দোলনের অনুপস্থিতিতে জামায়াতিরা যতোই গণবিচ্ছিন্ন ও গণসমর্থনহীন হোক, তাদের অর্থবল, অস্ত্রবল ও সশস্ত্র ক্যাডারদের সাহায্যে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু করার হুমকি যে এতোদিনে বাস্তবায়িত করতে এগিয়ে যেতে পারতো তাতে সন্দেহ নেই। সরকারের এখন উচিত, নিজেদের ইচ্ছা ও শক্তিকে সংহত করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিযুক্ত বাহিনীগুলোকে শক্তিশালী করা, জামায়াতি তাণ্ডব দমনে এই বাহিনীর যে অক্ষমতা বর্তমানে দৃশ্যমান, তার কারণ খুঁজে বের করা ও তার প্রতিকার। এই ব্যাপারে সর্ষের ভেতরেই ভূত লুকিয়ে আছে কিনা সরকারকে তা জানতে হবে এবং ভূত তাড়াতে হবে। সরকারের বর্তমান ভূমিকা সম্পর্কে উদ্দেশ্যপরায়ণ সন্দেহবাদীদের যে প্রচারণা তা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আরও একটু তত্পর হতে হবে এবং সরকারের প্রচার যন্ত্রগুলোর ত্রুটি ও দুর্বলতা দূর করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও উচিত জনগণকে জানানো, তার পুলিশ বাহিনী কেন টিকটিকির লেজের দৌরাত্ম্য আশানুরূপভাবে মোকাবিলা করতে পারছে না। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যে বিশাল জনসমর্থন ও সুযোগের অধিকারী হয়েছেন, অতীতের কোনো সরকার তা পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে কিনা সন্দেহ। এর সদ্ব্যবহার করে বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে স্বাধীনতার শত্রুদের কবলমুক্ত করা এবং দেশের সেক্যুলার, গণতান্ত্রিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার এটাই সবচাইতে উত্তম সময়। যেকোনো কারণে আওয়ামী লীগ সরকার এই সুযোগ হারালে শুধু আওয়ামী লীগই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে না, দেশকেও আবার আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। লন্ডন, ২৩ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ২০১৩

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন