সিরিয়ায় সাহায্যপ্রার্থী মানুষের সংখ্যা দ্রুতহারে বাড়ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক কর্মকর্তা ভ্যালেরি আমোস এ কথা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি উন্নয়নে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত বছরের মার্চ মাসে সিরিয়ায় দশ লাখ মানুষের সাহায্য প্রয়োজন ছিল। সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ লাখে। এরপর এ বছরের জানুয়ারিতে সেটা হয়েছে ৪০ লাখ। সাহায্য প্রার্থীর এই সংখ্যা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থার মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা ভ্যালেরি আমোস এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবং এর একটা রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছেন। এছাড়া, সিরিয়ায় ত্রাণ বিতরণে তাদের বেশ সমস্যাও হচ্ছে বলে জানান আমোস।
জেনেভায় বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। আমোস বলেন, গত মাসে তিনি চতুর্থবারের মতো সিরিয়া সফর করেছেন। প্রতিবারই তিনি আগেরবারের চেয়ে খারাপ অবস্থা দেখতে পেয়েছেন। জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে ত্রাণ নিয়ে ঢুকতে দিতে সিরীয় সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা না পাওয়ায় যুদ্ধ চলছে এমন এলাকা দিয়েই তাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণ তত্পরতা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসেবে প্রায় দুই বছর ধরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে প্রায় ৭০ হাজার লোক নিহত হয়েছে। আর ঘরছাড়া হয়েছে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ লোক। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ রাজনৈতিক সমাধানের কথা বললেও সেটা কবে হবে তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সিরিয়া বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
এদিকে, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তা করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সমপ্রতি মার্কিন সিনেটের প্রকাশিত শুনানি থেকে জানা গেছে যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়ন প্যানেটা ও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ-এর চেয়ারম্যান জেনারেল মার্টিন ডেম্পসে বিদ্রোহীদের সহায়তার পক্ষে থাকলেও প্রেসিডেন্ট ওবামা চেয়েছেন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান।
