উদার গণতান্ত্রিক
রাজনীতির ভবিষ্যত্
অনাকাঙ্ক্ষিত
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির আদর্শ উদার, নিঃস্বার্থ এবং নিষ্কলুষ ছিল। তাই একজন আদর্শ নেতা হিসাবে সকলেই তাঁকে সম্মান এবং শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি পদ্মা-মেঘনা-যমুনার মত উদার মনের মানুষ ছিলেন। তিনি রাজনীতির ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং দৃষ্টান্তস্বরূপ। বর্তমান বাঙালি যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত হয়ে রাজনীতি করেন তাহলে বাংলাদেশে আবার শান্তি ফিরে আসবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায় যারা রাজনীতি করেন তাদের মধ্যে প্রায়ই কথার সঙ্গে কাজের মিল পাওয়া যায় না, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এ করুণ অবস্থা থেকে আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বের হয়ে আসতে হবে। উদার রাজনীতি করার মন-মানসিকতা তৈরি করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের করুণ পরিণতি শেষ হবার নয়। তাছাড়া এভাবে চলতে থাকলে সমাজে দেশের উন্নতির পথে বিরাট বাধার সৃষ্টি হবে, যা স্বাধীন বাংলাদেশ, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে— তার সমাধান কে দিবে? বলুন রাজনৈতিক বন্ধুগণ। আপনারা সবাই তো চান দেশের কল্যাণ, জনগণের কল্যাণ, দুর্নীতির অবসান, ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণ, ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কল্যাণ, আপনাদের হূদয়ের মধ্যমণি নবজাতকের কল্যাণ। তাই আসুন জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভুলে নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি করি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই কল্পনার রাজ্যে, স্বর্গময় স্থানে, শান্তির মডেল হিসেবে যেন উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ অনাকাঙ্ক্ষিত না হয়।
খাজা মাহদী
ফটোগ্রাফি কোর্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
উদার গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই দিতে পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ
১৯৭১ সালে স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য বাঙালি জাতি যে বিজয় অর্জন করেছিল তারই স্মৃতি বহন করছে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু দুঃখের বিষয়- আমাদের গণতান্ত্রিক ধারা বর্তমানে রাজতন্ত্রের অন্তরালে প্রবাহিত হচ্ছে। মাত্র দুই নেত্রী পালাক্রমে বার বার ক্ষমতায় আসছে। পরিবারভিত্তিক রাজনীতি চলছে। উল্লেখ্য যে, পরিবারের সকল সদস্য সমান যোগ্যতাসম্পন্ন হতে পারে না। ফলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অযোগ্য ও অদক্ষের হাতে গিয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত। দুই নেত্রীর দেশপ্রেম নিয়েও সন্দেহ হচ্ছে। তারা দেশের উন্নতি-অগ্রগতি পিছিয়ে দিচ্ছে। নির্দোষ, নিরপরাধ স্বাধীন বাঙালি জাতি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। বাবা-মা তাদের প্রিয় সন্তানদেরকে উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়, কিন্তু রাজনৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় অনেক বাবা-মা’র কোল খালি করে দেয়। পারস্পরিক দলীয় কোন্দলে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী নিহত হয় যা দেশকে মেধাশূন্যের দিকে ধাবিত করছে। অথচ এই বিষয়গুলোকে প্রতিহত না করে কেবল নিজেদের স্বার্থ নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন বর্তমান রজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উপরন্তু উভয় দলের সহনশীলতার অভাবে দেশ ও জাতি উদার গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব খুঁজছে। উদার গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই দিতে পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুখী সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ।
মো. কবিরুল ইসলাম
অর্থনীতি বিভাগ, ২য় বর্ষ,
দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর।
শাহবাগ চত্বর
হতে পারে উদার
গণতন্ত্রের স্বচ্ছ পথ
গণতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, একটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার ব্যবস্থা গঠনে যে কয়টি পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে গণতন্ত্র অন্যতম একটি পদ্ধতি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক অবদান সর্বজনবিদিত। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে এ দেশ বরাবরই সোচ্চার ছিল। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অবস্থানে অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের দু’টি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের মধ্যে আগামী দশক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরতিহীন কোন্দল চলছে। একদিকে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সারাদেশ যখন উত্তাল, অন্যদিকে তখন উত্তাল জনসমুদ্র এটা প্রতিহত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। নোংরা রাজনীতিতে লালিত একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী স্বাধীনতা-পরবর্তী থেকে এদেশে গণতন্ত্রের স্বপ্ন চর্চা হয়েছে বহুবার। কিন্তু প্রায়শই স্বপ্নে দেখা সে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে। বর্তমান সময়ে কিছু রাজনৈতিক দলের নিকট গণতন্ত্র কুক্ষিগত হয়ে আছে। তারা গণতন্ত্রকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছে।
ফারহানা খান
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, মাস্টার্স, ১ম বর্ষ
সরকারি বরিশাল কলেজ, বরিশাল।
উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিই হচ্ছে দেশের সকল উন্নয়নের চাবিকাঠি
গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সরকার এবং বিরোধী দল কার্যকরি ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে অগ্রগতি লাভ করতে পারেনি। আর এর জন্য দায়ী হচ্ছে, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিবিদের অভাব। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা উদার রাজনীতিবিদ নন; তারা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উন্নয়ন, নিজের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি, উচ্চাভিলাসী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত। দলীয় নেতা-নেত্রীরা তাদের স্বার্থ রক্ষায় দলের নেতা-কর্মীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন। এর ফলে গণতন্ত্র বিকশিত হওয়ার কোন সুযোগ পাচ্ছে না। সর্বোপরি রাজনীতিবিদদের সহনশীলতার অভাব, অদক্ষতা, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি উদার গণতান্ত্রিক ধারাকে বিকশিত করতে দেয়নি। আমরা যদি লক্ষ্য করি, বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশ তাদের দেশের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এক সাথে কাজ করছে। কিন্তু আমাদের খুবই দুর্ভাগ্য যে, বাংলাদেশে তা সম্ভব হচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিবিদের অভাব। রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণেই ১/১১-এর আবির্ভাব হয়। এর প্রধান কারণ উদার গণতন্ত্রের অভাব। বাংলাদেশের মানুষ আর কোন ১/১১ দেখতে চায় না। কেননা এত গণতন্ত্রের প্রতি কুত্সা করা হয়। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর উদার গণতান্ত্রিক চর্চা। যা দেশকে পরিণত করবে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে।
মো. সফিউল আলম (টিপু)
পল্লবী ডিগ্রি কলেজ, ঢাকা।
