বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৭
বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে স্বাধীন গণতন্ত্রের দেশ, বাংলাদেশ। সুষ্ঠু রাজনৈতিক দল কর্তৃক দেশ পরিচালিত হওয়াই উদার গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র। কিন্তু গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি এই রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণ আজ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে সন্দিহান। একটু চিন্তা করলেই বলে দেয়া যায় বাংলাদেশের সকল মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ উদার গণতান্ত্রিক দেশ চায়, যেখানে থাকবে পরস্পর সহযোগিতা, সমানাধিকার, স্বাধীনভাবে মাথা তুলে জেগে উঠার সুযোগ। কিন্তু বর্তমানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সত্যিই হতাশাব্যঞ্জক। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হত্যা-গুম, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, কলহ নিত্যদিনই বেড়ে চলছে। কিন্তু এসবের মধ্য দিয়ে উদার গণতন্ত্র গড়ে উঠতে পারে না। গণতন্ত্রের অগ্রগতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো আমাদের সরকার ব্যবস্থারও পুনরাবৃত্তি অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তনে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। আর এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উচিত, জনগণের আস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের একমাত্র চাওয়া— যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের ফাঁসি কার্যকর করা। সেসাথে বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দলসহ অন্য দলগুলোর উচিত দেশে মিছিল-মিটিং, দাঙ্গা-হাঙ্গামা বন্ধ করে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করা। তবেই বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, নতুবা নয়। মো. মাসুদুর রহমান সমাজবিজ্ঞান বিভাগ (২য় বর্ষ), এ.এফ. রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন এলিট প্রভাবমুক্ত শাসন ও বিচার ব্যবস্থা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য জনমতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জনমত ব্যতীত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কল্পনাও করা যায় না। সুষ্ঠু, যুক্তিযুক্ত ও সদা-সতর্ক জনমত গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্যের অন্যতম শর্ত। বাংলাদেশ মূলত একটি এলিট সমাজ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুটি শ্রেণি বিদ্যমান— এক শ্রেণি শাসন করে এবং অন্য শ্রেণি শাসিত হয়। এখানে না আছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, না আছে রাজনৈতিক উন্নয়ন। তদুপরি, জাতি গঠনের মৌল উপাদানগুলো এখানে সুসংহত নয় এবং সুসংহত নয় রাজনৈতিক অবকাঠামোগুলোও। কারণ বাংলাদেশে রয়েছে সুষ্ঠু রাজনৈতিক দলের অভাব, সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাব, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অভাব। যেখানে উন্নয়নশীল দেশে ‘এলিট’ গণরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি গড়ে তোলা, আধুনিকীকরণ, রাজনৈতিক জীবন গড়ে তোলা ইত্যাদি উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশের এলিটগণ মেতে রয়েছেন— নিজের পারিবারিক উন্নয়ন, দুর্নীতি, কালোবাজারি, ক্ষমতার অপব্যবহার, গুম-খুন, অপরাধ মুক্ত করে নিরাপরাধকে শাস্তি প্রদান, হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নিয়ে। উক্ত অবস্থা বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই ‘রুটিন ওয়ার্ক’ হিসেবে চলে আসছে। তাই আমার বক্তব্য হলো— যতক্ষণ পর্যন্ত না বাংলাদেশের শাসন ও বিচার বিভাগ ‘এলিট’ প্রভাবমুক্ত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা আদৌ সম্ভব নয় এবং এটা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রজন্ম মঞ্চের উত্তাল ঢেউ রাজনীতিবিদদের জন্য হুঁশিয়ারি বার্তা। শামীম সুলতানা এল.এল.এম, অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পান্থপথ, ঢাকা উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় উদার মানসিকতার প্রয়োজন বর্তমান সময়ে রাজনীতির যে প্রেক্ষাপট বিরাজ করছে তাতে ভবিষ্যতের সুদূরপ্রসারী রাজনীতির অবস্থান বিলীন হয়ে যাবে। রাজনীতির যে মূল বিষয়বস্তু তা হলো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিকে যারা হাতিয়ার হিসাবে কাজ করছে তাদের সে ধরনের চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা বলে আমার মনে হয় না। রাজনীতির যারা হোতা তারা কেবল নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত আছেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে এই জাতীয় নেতারা দেশ স্বার্থ রাজনীতি নয় বরং ব্যক্তি স্বার্থ রাজনীতি নিয়ে মাতামাতিতে ব্যস্ত আছেন। এই রকম অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক রাজনীতি থাকবে না। প্রতিনিয়ত টেলিভিশনে টক শো, পত্র-পত্রিকায় দেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি তথা বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত উপস্থাপন করছেন কিন্তু সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে সে দিকে কাউকেই নজরদারী করতে দেখা যায় না। কেবলমাত্র হিংসা ও নিন্দার গুণগান করতে দেখা যায়। বর্তমানে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে তার নিজের চিন্তা-ভাবনা ব্যক্ত করে না। অন্য জন কি করলো আমাকে তাই করতে হবে এই চিন্তা ধারায় তারা রাজনীতি করে। এরকম মানসিকতা থাকলে কখনই বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি আসবে না। সকল হিংসা বিদ্বেষ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল হবে। রিপন কুমার দাস এম,এস,সি শেষবর্ষ, সরকারী আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি অন্ধকারে নিমজ্জিত তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। স্থাপিত হয় উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক নজিরবিহীন ঐক্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার পর থেকেই এদেশের রাজনীতিতে বার বার মুখ থুবড়ে পড়েছে সদ্য হাঁটতে শেখা গণতন্ত্র। আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর অতিবাহিত হয়েছে। অসামপ্রদায়িক, উদার চেতনায় গড়া গণতন্ত্র আজ তার শৈশব অতিক্রম করে কৈশোরে উপনীত হওয়ার কথা কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। এখনো আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি, গণতন্ত্রের চর্চা এবং গণতান্ত্রিক অনুভূতিগুলো রয়েছে সদ্য জন্ম নেয়া মাতৃহীন শিশুর মতো দুর্বল। স্বাধীনতার পর থেকে বার বার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে ঠিকই কিন্তু তাতে এক তিলও উন্নয়ন হয়নি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির। যারা যখন ক্ষমতায় এসেছে তারা তখন গণতন্ত্রের ধুয়া তুলে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে, শক্তিশালী করেছে নিজেদের ক্ষমতার ভিত। তাই তরুণ প্রজন্ম আজ পুরাতন ঘুনে ধরা এই গণতান্ত্রিক খোলস থেকে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়তে চায় নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। মো. আইয়ুব আলী এমএস, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন