বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪১
উদার রাজনীতির অর্থ হলো নিজেকে নয় দেশকে নিয়ে চিন্তা করা মায়ের পরে মাটির স্থান। আর সেই মাটি অর্থাত্ দেশকে আমরা যদি মায়ের সাথে তুলনা করি তাহলে আমরা তার অমঙ্গল কামনা করতে পারি না। তবে কিছু নররূপী পশু রয়েছে যারা ‘মা’কেই ভালোবাসে না, তারা দেশকে ভালোবাসবে কোন দুঃখে? তাই আজ দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের দেশের রাজনীতি আজ মুষ্টিমেয় রাজনৈতিক যষ্টিমধুদের হাতের গাঁজার সেই নোংরা গুলিতে পরিণত হয়েছে। সেই গাঁজার গুলিতে হাতের বুড়ো আঙ্গুলের চাপে ঘুরপাক খাচ্ছে হত্যা, গুম আর হরতাল নামক শব্দ কয়টি। যা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদের জনগণের সচেতনতা ও উদার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উপযুক্ত দু’টি ধাপের মধ্যে আমরা একটি ধাপ শুরু করেছি তা হচ্ছে জনসচেতনতা। এখন শুধু ১টি বাকি, তা হল: উদার রাজনীতি। আজ আমাদের দেশের সচেতন তরুণ প্রজন্ম ও সর্বস্তরের মানুষ যে আন্দোলন সৃষ্টি করেছে তা দমিয়ে রাখার মতো কোনো অপশক্তি এদেশে নেই। কোনো রাজনৈতিক দল ইচ্ছে করলেই এই আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারবে না। এ সময়ে প্রমথ চৌধুরীর কথাটি আমার মনে পড়ে গেলো। তিনি বলেছেন- ‘যিনি গড়তে পারেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন।’ আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেমন শাহবাগে আন্দোলন করে যুদ্ধাপরাধীদের পতন ঘটাতে পারে, তেমনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনও ঘটাতে পারে। তাই আমি মনে করি যে জিনিসটা আজ আশু প্রয়োজন তা হচ্ছে উদার রাজনীতি। নিজ স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করে যদি এগিয়ে যান তাহলে আমি হলফ করে বলতে পারি- আপনাদের জয় অবশ্যম্ভাবী। দেবাশীষ চন্দ্র সাহা ১ম বর্ষ (স্নাতক), গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর উদার গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার দায়িত্ব সবার নেপথ্য কাহিনী যাই থাকুক, দিনের আলোয় বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। কিন্তু এখানে গণতন্ত্র আছে শুধু কাগজে-কলমে। গণতন্ত্রের লেবাসে এখানে স্বৈরতন্ত্র কিংবা একনায়কতন্ত্র চলে। ’৯০-এ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের যাঁতাকল থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের মুক্তাকাশের যে স্বপ্ন ছিল, সে স্বপ্ন অংকুরেই বিনষ্ট হয়েছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল— আওয়ামী লীগ-বিএনপি কারো অভ্যন্তরেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই। যার দরুন আমরা দেখতে পাই, শেখ হাসিনা কিংবা বেগম খালেদা জিয়া একচ্ছত্রভাবে দল পরিচালনা করেন। নামেমাত্র কাউন্সিল তারা করেন ঠিকই, কিন্তু জ্বী হুজুর অবস্থায় সব পদ-পদবী ভাগ করার দায়িত্ব সসম্মানে শেখ হাসিনা কিংবা খালেদা জিয়ার হাতে ন্যস্ত করা হয়। বছরের পর বছর ধরে এই দুই নেত্রীই দল দু’টির একচ্ছত্র অধিপতি সেজে বসে আছেন। তবে এটাও স্বীকার্য যে, শেখ হাসিনা কিংবা খালেদা জিয়ার প্রতি জনমানুষের সমর্থন প্রশ্নাতীত। সে সুবাদেই দেশের ক্ষমতায় বারংবার অধিষ্ঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি আর যেহেতু তাদের নিজেদের অভ্যন্তরেই গণতন্ত্রের চর্চা হয় না, সেহেতু রাষ্ট্রেও গণতন্ত্র মলাটবন্দী থাকে ফাইলের ভেতর। ফলে এক দলের প্রতি অপর দলের তীব্র বিতৃষ্ণা, হিংসা এবং জিঘাংসাই প্রতীয়মান হয়। তাছাড়া বিপক্ষ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরকে গালিগালাজ, অপমান, অপদস্থ করাও হয়ে পড়ে অনিবার্য। সেইসাথে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা জন্ম দেয় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ, খুন, গুম, হত্যার। এক কথায় বাংলাদেশের চলমান রাজনীতিতে গণতন্ত্র আছে মুমূর্ষু অবস্থায়। কিন্তু সুন্দর একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। সেজন্য প্রয়োজন রাজনীতি এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় উদার গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির প্রতি মনোযোগী হওয়া। রফিকুল ইসলাম কামাল বিএসএস, ২য় বর্ষ, বিশ্বনাথ কলেজ,বিশ্বনাথ, সিলেট ১৬ কোটি মানুষের দেশে গণতন্ত্র চর্চা শুরু এবং বাস্তবায়ন হোক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। যদিও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশেই দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, এটা সবার জানা যে, গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যদিও আমাদের দেশে স্বাধীনতার ৪২ বছরেও গণতন্ত্র চর্চা শুরুই হয়নি। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা দেখলে মনে হয় না যে, আমরা গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক আর তারা গণতান্ত্রিক দেশের নেতা। দু’দলই ক্ষমতায় টিকে থাকার এবং ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপারে মরিয়া আর জনগণ তাদের কাছে গৌণ। তাদের রাজনৈতিক কোন্দলের বলিদান হচ্ছে বিশ্বজিত্,সাগর-রুনির মত সাধারণ মানুষ। যাই হোক, দুই নেত্রীর প্রতি অনুরোধ- আপনারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচলকরণে, বহির্বিশ্বে নিজ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলকরণে, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, লুটতরাজ এবং গুম, হত্যা ইত্যাদির প্রতি দৃষ্টিপাত দিন, জনগণের জন্য সুকান্তের পৃথিবী তৈরি করুন এবং জনগণের মতামতকে মুখ্য হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করুন গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করবার জন্য। তাহলেই আমরা ১৫ কোটি মানুষ বুঝতে পারব যে, আমরা গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক। গণতন্ত্র চর্চা শুরু হোক, ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকুক এবং পরিশেষে বাস্তবায়িত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। হাবিবা আক্তার রসায়ন বিজ্ঞান, মাস্টার্স শেষ পর্ব, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা হরতাল ও দরিদ্রতা দূর হয় রাজনীতির উন্নয়নের মাধ্যমে প্রথমেই অর্থনীতির কথা বলতে হয়। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অক্সফার্ম বলেছে- গতবছর বিশ্বে ১০০ জন ধনী ব্যক্তির মোট সম্পদ ২৪ হাজার কোটি ডলার। যা দ্বারা চরম দরিদ্রের মধ্যে থাকা লোকের চারবার দরিদ্রতা দূর করা যায়। আবার মো.সবুর খান যিনি ডিসিআই-এর নবনির্বাচিত সভাপতি তিনি গবেষণা করে বলেন, বাংলাদেশে ১ দিনের হরতালে অর্থনীতিতে ২০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়। এখন ১৫ দিনের হরতালে যে ক্ষতি হয় তা দ্বারা অনায়াসে একটি পদ্মা সেতু করা যায়। তাহলে সারাবছর যে আয় হয় বাংলাদেশে, তার দ্বারা চিন্তামুক্তভাবে দরিদ্রতা দূর করা সম্ভব। কারণ বাংলাদেশে এখনো আনাচে-কানাচে অনেক দরিদ্র লোক আছে, যাদের যোগ্যতা আছে, পুঁজি নাই। যার কারণে জাগতে পারে না। তাই একথা সত্য যে, হরতাল ও দরিদ্রতা দূরীকরণ রাজনীতির উন্নয়ন। মো. আতিকুর রহমান সোহাগ একাদশ শ্রেণী, বাণিজ্য, বামনা সারওয়ার জান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বামনা, বরগুনা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন