মানুষ ও পশুর মধ্যে তফাত্ কী? আছে কি আদৌ কোন তফাত্? আপনি তো খুব বড় একটা চ্যাপ্টার আমাকে খুলতে বললেন। অতটা সময় তো আমার হাতে নেই। সময়ের কী হলো এই ছুটির দিনের সকালবেলা? ! আমার শ্রমের জায়গায় দৌড়ুবার সময় হয়েছে। আমার কাজের জায়গায় ঘন্টি বেজেছে।
ছুটির দিনেও আপনাকে কাজে যেতে হয় নাকি?
আরো বেশি। নর্মাল দিনের চেয়ে আরো বেশি।
তারপরও মানুষ ও পশুর মধ্যে দু’চারটি পার্থক্যের কথা অন্তত বলে যান।
সবচেয়ে বড় পার্থক্য পশুর ঘরে শুধু পশু জন্ম নেয়। মানুষের ঘরে মানুষপশু, সর্পসপরীসৃপ, কীট-পতঙ্গ সবকিছুই জন্ম নেয়।
দুই. পশু একবার যে রূপে জন্মায় ও যে বৈশিষ্ট্যে পরিচিত হয়, তা আর পাল্টায় না। মানুষ ক্ষণে ক্ষণে তার বৈশিষ্ট্য ও বর্ণ পাল্টাতে পারে। বর্ণের বেলায় সে স্করাপিঁয়র মত। গিরগিট বৈশিষ্ট্যের তার অধিকার আছে। স্বভাবে সে আরো কয়েক সোপান এগিয়ে থাকে। যেমন: এই সে সর্প, এই সে হায়েনা, এই সে সারমেয়, এই সে মার্জার, এই সে মুষিক, এই সে শাখামৃগ, এই সে বরাহ, এই সে শৃবা, এই সে বায়স, এই সে পেঁচক, এই সে কর্কট, এই সে কুম্ভীলক ইত্যাদি।
তিন. পশু পশুকে পেছন থেকে আঘাত করে না। মানুষ মানুষকে পশ্চাদ্ধাবন করে ও পেছন থেকে আঘাত করা পছন্দ করে।
চার. মানুষ বংশানুক্রমে প্রতিশোধ নেয়, পশু তেমন করে না।
পাঁচ. মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ যেমন করে, স্বাধীনতা অন্যের হাতে বন্ধক রাখার জন্য লড়ালড়িও করে, পশু তেমন করে না।
ছয়. মানুষ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ করে, পশু তেমন করে না।
সাত. মানুষ অমানুষ এবং মানবেতর ও পাশবেতর প্রাণীকে বাঁচাতে চায়, পশু তেমন করে না।
আট. মানুষ পাশবেতর প্রাণীকে অনুকম্পা দেখিয়ে ভুল করে এবং সে ভুলের মহার্ঘ্যমূল্য শোধ করে, পশুর তেমন ভুল হয় না।
নয়. মানুষ সময়ের কাজ সময়ে করে না, পশুরা এ ত্রুটি থেকে মুক্ত।
দশ. মানুষ মানুষকে যথাপ্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে ভুল ও বিলম্ব করে। মানুষ অসূয়াকাতর হয়। মানুষ প্রশংসায় সংযত ও সমালোচনায় কঠোর হয়। এ দোষগুলোর একটিও পশুর নেই।
এগারো. মানুষ যে পাতে খায় সে পাত কানা করে, যে ডালে বসে তার গোড়া কাটে । পশু এমন করে না । বারো. মানুষকে ধর্মের বটিকা গিলিয়ে ধৌতমস্তিষ্ক করে ফেলা যায় এবং একচক্ষু বাইসন-এর মত এসব প্রণীকে দিয়ে পাশবিক কাজ করানো যায়। পশুদের বেলায় এমন কোন রিস্ক নেই।
তেরো. মানুষ গণহত্যা করে, নেতৃহত্যা করে, পিতৃহত্যা করে এবং আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের এমন কোন সম্পর্ক নেই, যেখানে মানুষ হত্যাপরাধে হাত রাঙ্গায় না। পশুদের এমন দুর্নাম-বদনাম নেই।
চোদ্দ. মানুষ পোশাক-পরিচ্ছদ কখনো পড়ে শ্লীলতার জন্য, কখনো নগ্নতাকে প্রকট ইঙ্গিতময় ও কল্পনাশ্রয়ী করার জন্য। এমন কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে বলে পশুরা পোশাকের ধারই ধারে না।
পনেরো. পশুর প্রভুভক্তি আছে, মানুষের নেই।
ষোল. মৃত্যুতে পশুর জীবন শেষ হয়, মানুষের নয়। আপাতত সর্বশেষ, পশুরা সর্ব বিবেচনায় অকৃত্রিম, মানুষ সর্ব মাত্রায় কৃত্রিম।
লেখক : শ্রমজীবী ও রম্যজীবী কথাসাহিত্যিক
