ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এক আন্তর্জাতিক আলোচনায় বসেছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর ছয়টি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জার্মানী, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স। কাজাখাস্তানের আলমাতি শহরে এই আলোচনার লক্ষ্য হলো ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের উপযোগী ইউরেনিয়াম তৈরির চেষ্টা বাদ দিতে রাজি করানো । এতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমিয়ে আনার বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। পশ্চিমা বিশ্ব পরমাণু কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা সীমিতকরণের যে প্রস্তাব দিয়েছে তার প্রতিক্রিয়া দেখতে চাচ্ছে এখন ইরানের কাছ থেকে। পশ্চিমা বিশ্বের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইরান। ইরানি কূটনীতিবিদদের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানও অপরপক্ষের ন্যায় একটি প্রস্তাবনা পেশ করেছে। প্রথমদিনের আলোচনাকে পশ্চিমা কর্মকর্তারা ফলপ্রসূ বলেছেন। এদিন উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েকঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।—খবর আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও ডনের।
আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া উভয়েই এ হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে এ সমস্যার মীমাংসা করার সময় পার হয়ে যাচ্ছে। আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন এবং ইরানের সাইদ জলিল। এর আগে বিভিন্ন দফা আলোচনায় বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থামানো এবং এজন্য কোম শহরের কাছে তৈরি করা একটি ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র বন্ধ করে দেবার কথা বলেছে। তবে ইরান তা এখনো করেনি। ক্যাথরিন এ্যাশটনের মুখপাত্র মাইকেল ম্যান বলেন, ইরানকে বুঝতে হবে যে এই আলোচনার সাফল্য তাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ।
“আমরা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত সমস্যার একটা কূটনৈতিক সমাধান পেতে চাইছি। ইরানকে এটা বুঝতে হবে যে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়াটা একটা জরুরি প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আলমাটির এই বৈঠক একটা বড় সুযোগ—যার মাধ্যমে এর একটা দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যাপকভিত্তিক ঐকমত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া যেতে পারে।” ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা বলছেন, এবারের আলোচনায় ৬ দেশের গ্রুপের পক্ষ থেকে ইরানের সামনে একটি সংশোধিত প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। এ প্রস্তাবের বিস্তারিত অবশ্য এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।
ইরান বলছে, তারা কোন রকম ছাড় দেবার কথা বিবেচনা করার আগে পশ্চিমা দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলতে হবে। ইরানের একজন কর্মকর্তা সোমবার বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এটা মেনে নিতে হবে যে ইরানের নিজস্ব পারমাণবিক সম্পদ গড়ে তোলার অধিকার রয়েছে।
