রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা করা
বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও চলমান রাজনীতি হিংসা-বিদ্বেষের মধ্যে রয়ে গেছে। যা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করা। প্রতি পাঁচ বছর পর পর দেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে থাকে। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন পরিচালনা করে। আর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে। কারণ, যে কোন গণতান্ত্রিক দেশের অন্যতম শর্ত সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু বর্তমানে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মনোভাব গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দলীয় স্বার্থকে তারা প্রাধান্য দিচ্ছে, ফলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে না। রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংবিধানকে তারা নিজের মত করে ব্যবহার করছে। বর্তমানে যে সমস্যা প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে তাহলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে। সরকারি দল বলছে, তাদের অধীনে নির্বাচন করতে, বিরোধী দল বলছে দলীয় কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। যা একটা সংঘাতময় পরিস্থিতির পূর্বাভাস। যার কারণে জনগণের মধ্যে আরেকটি ১/১১-এর আশংকা বিরাজ করছে। কিন্তু দেশের সর্বস্তরের জনগণের একটাই প্রত্যাশা, নির্দিষ্ট সময়ে দেশ পরিচালনার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সার্বজনীন ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। এক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, তবেই উদার ও সহানুভূতির মাধ্যমে সঠিক সময়ে ও যোগ্য নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন সম্ভব।
মো. আকরাম হোসেন
আইন বিভাগ (মাস্টার্স), ৩২৪ মাদার বখ্শ হল,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
গণতন্ত্র রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল ভূমিকা অপরিহার্য
লাখো শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা। স্বাধীন দেশের গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। বর্তমানে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের ভিতরে যেভাবে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির রাজনীতি চলছে, এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই বিগত দিনগুলো থেকে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে শিক্ষা নিতে হবে। যাতে করে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত না হয়। বর্তমান রাজনীতিতে যে পরিস্থিতি চলছে এমন অবস্থায় গণতন্ত্র হুমকির মুখে। তাই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর জনগণের স্বার্থে গণতন্ত্র রক্ষার্থে সহনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তা না হলে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এই ভুলের মাশুল দিতে হবে। এতে করে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হবে।
মো. খন্দকার শামিরুল ইসলাম (ইফাদ)
বামনা সারওয়ারজান স্কুল এন্ড কলেজ,
বামনা, বরগুনা।
গণতন্ত্র রক্ষার পথ সুগম না হলে দেশে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে
এ বিষয়ে সবাই একমত হবেন যে, গণতন্ত্র চর্চার সূতিকাগার হল ছাত্ররাজনীতি। কেননা আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এ জাতির অধিকার আদায়ের প্রত্যেকটি আন্দোলন-সংগ্রামে এই ছাত্র-জনতাই পালন করেছে অগ্রণী ভূমিকা। যার ফলস্বরূপ অর্জিত হয়েছে মাতৃভাষার সম্মান ও একটি স্বাধীন মাতৃভূমি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, আজকের ছাত্ররাজনীতির দিকে তাকালে কেউই স্বীকার করতে চাইবে না যে আমরা সেই সময়কার ছাত্র-জনতার যোগ্য উত্তরসূরী! কারণ বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির মানেই হল ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় হল দখল, টেন্ডারবাজি আর বড়দের সুদৃষ্টি অর্জনের মিশন বাস্তবায়নে নিজেকে সোপর্দ করা। ফলে সহজেই কলমের স্থানটি দখল করে নিচ্ছে অস্ত্র, উত্তপ্ত হচ্ছে ক্যাম্পাস! দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংসদ অকার্যকর থাকায় মেধাবীরা রাজনীতিতে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এতে অযোগ্য ও অছাত্ররা নেতৃত্বে এসে সৃষ্টি করছে অরাজকতা। এমতাবস্থায় এ ভবিষ্যতের যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম না করা হলে দেশে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।
মো. জিয়াউল হক,
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ,
সরকারি তিতুমীর কলেজ।
উদার গণতন্ত্রের মূল
কথা সহনশীলতা
স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু আজও রক্তপাত বন্ধ হয়নি। পাকিস্তানিদের অনেক রক্তের বিনিময়ে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বিতাড়িত করেছি। শান্তির জন্য, সুখের জন্য। তবে কেন আজ ঝড়ছে অজস্র রক্ত। বিপন্ন হচ্ছে মানুষের জীবন। ভেবে দেখা উচিত। যার প্রধান কারণই হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিহিংসা। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমশ্য তীব্র হয়ে উঠছে। সৃষ্টি হচ্ছে সহিংসতা। বাড়ছে মানুষের মনে আতংক। স্বাধীনতার পর থেকে প্রধান দুটি দলই ক্ষমতায় আসা-যাওয়া করছে। অন্য কোন দলের ক্ষমতায় আসার কোন সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। যার কারণে প্রধান দুটি দল একে অপরকে সুনজরে দেখতে পারছে না এবং কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। উদার গণতন্ত্রের মূল কথা সহনশীলতা আর তা সৃষ্টির জন্য দরকার এই সংশোধন।
মো. রেজাউল করিম
এলএলবি (সম্মান) প্রথম বর্ষ
প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
সুস্থ ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সত্, চরিত্রবান, যোগ্য ও সুশিক্ষিতদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া প্রয়োজন
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দিন যতই যাচ্ছে ততই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে। রাজনীতির অঙ্গনে আসছে অশনিসংকেত, যার কারণে গণতন্ত্র আজ বিপর্যয়ের পথে। স্বাধীন হয়েছে সেই কবে, আজও প্রতিষ্ঠা হয়নি গণতন্ত্র। ৪২ বছর পরও আমরা অপেক্ষা করছি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ কবে উদার হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশে সুস্থ ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সত্, চরিত্রবান, যোগ্য ও সুশিক্ষিতদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া প্রয়োজন। এই নির্বাচন নিয়ে যদি বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ দেখা দেয় তাহলে দেশটা ধ্বংসের মুখে ধাবিত হবে। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে হবে। সুস্থ ও উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য দেশের সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নিয়মিত করা খুব বেশি প্রয়োজন। ছাত্র সংসদের মাধ্যমে যোগ্য, মেধাবী ও সত্, চরিত্রবান নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে।
মো. সবুজ খান
স্নাতক (সম্মান), ব্যবস্থাপনা বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।
