সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর জামায়াত-শিবির সারাদেশে যে তাণ্ডব চালাচ্ছে তাকে এখনই রুখে দিতে হবে। সারাদেশে জামায়াতের যে তাণ্ডব দেখলাম ’৭১-এ এদের তাণ্ডব ছিল আরো ভয়াবহ। আজকের তরুণ প্রজন্ম তা বুঝতে পেরেছে। ওরা আরো ভয়াবহ আক্রমণ চালাতে পারে। এজন্য আমাদের এখনই সজাগ হতে হবে। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু ঘরে ঘরে যে দুর্গ গড়ে তোলার কথা বলেছেন সেই দুর্গ আবার গড়ে তুলতে হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা ও অবিলম্বে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ওদের ভয় পেলে চলবে না। ওরা যে যুদ্ধ শুরু করেছে আজকের তরুণ প্রজন্ম তা চিরতরে রুখে দিবে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এখন আর এর কোন বিকল্প নেই। আমরা স্বাধীনতার চারদশকে যা পারিনি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তা দেখিয়েছে। তারা রাজাকারের ফাঁসির রায় নিশ্চিত করেছে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের এই বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবীর, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আসাদুজ্জামান নূর এমপি, গণঐক্য পরিষদের পংকজ ভট্টাচার্য, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হেলাল মোর্শেদ (বীর বিক্রম), শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশিদ প্রমুখ। জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জোটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। আয়োজনের সঞ্চালন করেন সংগঠনের সম্পাদক হাসান আরিফ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, কাদের মোল্লার রায়ের হতাশা মিটিয়েছে সাঈদীর রায়। এই বিজয় এনেছে আজকের তরুণ প্রজন্ম। তারা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান হয়ে হিমালয়ের মতো দৃঢ়তার সঙ্গে এই রায় নিশ্চিত করেছে। এই রায়ের পর সারাদেশে ৬০ জন জীবন দিয়েছে। এখন সারাদেশে হত্যা, ভাংচুর চলছে। আইন করে এদের নিষিদ্ধ করার এখনই সময়। পরে শহীদ মিনারে আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
