ঝালে ঝোলে অম্বলে

অগ্নিগর্ভ দেশ, শঙ্কিত দেশবাসী

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২১:০১
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সারাদেশে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবির দেশজুড়ে যেভাবে সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, যে তাণ্ডব চালিয়েছে, সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় এত প্রাণহানির ঘটনায় দেশে আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। জামায়াত-শিবিরের একদিনের সহিংসতায় পুলিশের চার সদস্যসহ প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। জামায়াত-শিবিরের এই সহিংস তাণ্ডব এবং পুলিশি তত্পরতা জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করেছে। রাজধানীসহ সারাদেশে এখন থমথমে পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে দেশের প্রধান দল বিএনপির ভূমিকা ও অবস্থান। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার ও সোমবার জামায়াতে ইসলামীর হরতালের সঙ্গে একদিন যোগ করে মঙ্গলবারও হরতালের ডাক দিয়েছেন তিনি। তার এই আহ্বান ও হরতালের ডাক জামায়াতের প্রতি সুস্পষ্ট সংহতি প্রকাশ। বিএনপির এই অবস্থান জামায়াত-শিবিরকে আরও মরিয়া হতে উত্সাহ যোগাবে নিঃসন্দেহে। আর বিএনপির সমর্থন নিয়ে জামায়াত যদি তাদের তাণ্ডব অব্যাহত রাখে তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে। এর পরিণতি হবে—আরও বেশি রক্তপাত, আরও বেশি হানাহানি। বেগম জিয়া বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একতরফা পুলিশ ও সরকারকে দোষারোপ করেছেন। সরকারের আচরণকে বলেছেন ‘ফ্যাসিবাদ’, পুলিশের ভূমিকাকে বলেছেন ‘গণহত্যা’। কিন্তু তিনি তার রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত-শিবিরের আচরণ নিয়ে টু শব্দটি করেননি। ক্ষুব্ধ অনেকে তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ প্রশ্ন তুলেছেন, বেগম জিয়া পুলিশ বাহিনীকে উপদেশ দিয়েছেন গুলি না ছোঁড়ার জন্য; কিন্তু তিনি তার রাজনৈতিক মিত্রদের উপদেশ দেননি ভাংচুর বন্ধ করতে, মসজিদে আগুন না দিতে, নামাজরত অবস্থায় ইমামের মাইক কেড়ে না নিতে, হিন্দুদের বাড়িতে আগুন না লাগাতে, শহীদ মিনার না ভাংতে, জাতীয় পতাকা না পোড়াতে...। বেগম জিয়া ‘ফ্যাসিবাদী’ তত্পরতা বন্ধ করতে সরকার এবং পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির দায় সত্যি কি শুধুই সরকারের? যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে আদালতে। আদালত সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছে। এই রায় ঘোষণার পরপরই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সারাদেশে হিংস্র হয়ে উঠেছে। তারা সরাসরি পুলিশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করছে। গাইবান্ধায় পুলিশের উপর হঠাত্ আক্রমণ করে বেদম পিটিয়ে দুই পুলিশকে হত্যা করার পর অন্য পুলিশরা গুলি ছোঁড়ে। চট্টগ্রামে একজন পুলিশকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেদম পিটিয়ে মাথায় রড ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের গুলি করা ছাড়া আর কোন পথ কি থাকে? জামায়াত-শিবির পুলিশের উপর সশস্ত্র হামলা চালাবে, জানমাল ধ্বংস করবে, রাস্তাঘাট অবরোধ করবে, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর-উপাসনালয় জ্বালিয়ে দেবে আর পুলিশ বসে বসে তামাশা দেখবে? অকাতরে প্রাণ দেবে? বেগম জিয়া কি তাই চান? তবে কি আমরা বলব— জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ‘শান্তিপূর্ণ’ভাবে বাপ-দাদার গাড়ি ভাংচুর করছিল? পুলিশ কেন এই শান্তিপূর্ণ ভাংচুরে বাধা দিল ? জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়েছে, মন্দির ভেঙ্গেছে, মেরেছে এসবই ‘শান্তিপূর্ণ’ভাবে করছিল, মরার পুলিশ কেন বাধা দিতে এলো ? জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশ মেরে দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মহান দায়িত্ব পালন করছিল, সেখানে পুলিশ অকাতরে প্রাণ না দিয়ে কেন প্রাণ নিতে গেল? প্রাণ নেয়ার অধিকার তো শুধু জামায়াত-শিবিরেরই! সব দোষ আসলে পুলিশের! সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর জামায়াত-শিবির মাঠে নেমেছে। এখন সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপিও নামার কথা বলেছে। বেগম জিয়া দেশবাসীকেও মাঠে নামার আহবান জানিয়েছেন। সবাই মাঠে নামলে ঘরে কে থাকবে? পরিস্থিতিইবা কে সামলাবে? তাহলে কি সরকার সাঈদীর ফাঁসির আদেশ ফিরিয়ে নেবে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেবে? সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদ হচ্ছে, দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, বাড়িঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের নামে ছড়ানো হচ্ছে নানা ধরনের কুত্সা। হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ক্ষেপিয়ে তোলা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক যথার্থই প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কি হিন্দুরা দিয়েছে? রায় কি বৌদ্ধরা দিয়েছে? রায় কি সাধারণ জনগণ দিয়েছে? তা হলে তাদের উপর হামলা কেন? হামলাকারী এ স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী সম্পর্কে সবাই সতর্ক থাকুন। আমরা আমাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জনগণের পাশে থাকবো। পুলিশের একজন কর্মকর্তা যে কথাগুলো বলেছেন আমরা আশা করেছিলাম বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুখ থেকে এই কথাগুলো বের হবে। কিন্তু না, সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির বৃত্তে আটকে থেকে তিনি তার মহত্ত্ব ও মানবিক সত্তাকেই যেন বিসর্জন দিলেন! আসলে আমাদের মধ্যে সততা নেই। আমরা বুদ্ধিমানও নই। তবে আমরা অবশ্যই চালাক। নিজের চামড়া বাঁচাতে, অপকর্মের দায় এড়াতে, অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাতে আমাদের জুড়ি নেই। এ ব্যাপারে আমরা ভীষণ দক্ষ। কীভাবে আরেকজনকে ফাঁসানো যায়, জব্দ করা যায় এ কৌশল আমরা সহজেই আয়ত্ত করি। এজন্য আমাদের বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষারও দরকার হয় না। চতুর ও ধূর্ত হওয়ার জন্য আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ লাগে না, কোনো বিশেষ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন হয় না। জন্মসূত্রেই আমরা এই গুণ অর্জন করি। আমাদের দেশে কমবেশি সবার মধ্যেই এসব গুণ থাকলেও রাজনীতিবিদরা এর চর্চা করেন বেশি। রাজনীতিবিদদের কথা শুনলে মনে হয় তারা প্রত্যেকেই একেকজন ফেরেশতা, কারো কোনো দোষ বা সীমাবদ্ধতা নেই, জীবনে কেউ কোনো অন্যায় বা অপকর্মের ধারে-কাছেও ঘেঁষেননি, কারো মধ্যে কোনোরকম লোভ-মোহ-কাম-ক্রোধ নেই, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ কামনা ছাড়া। যদিও আমরা জানি, কিছু ব্যতিক্রম বাদে স্বার্থপরতা, সংকীর্ণতা, হিংসা, প্রতিপক্ষের অনিষ্ট কামনা আর মিথ্যাচার ছাড়া তাদের জীবনে অন্য কোনো ব্রত নেই। তারা সব বাস্তব ঘটনাকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেন। নিজেদের ধোয়া তুলসী পাতা হিসেবে উপস্থাপন করেন। পক্ষান্তরে সব অপকর্মের দায়ভার চাপান প্রতিক্ষের ওপর। প্রতিপক্ষকে ভিলেন আর নিজেদের মহানায়ক হিসেবে উপস্থাপনের এই ধারা চলছে তো চলছেই। আমাদের দেশের রাজনীতি পরিণত হয়েছে একদল চতুর ও ধূর্ত ব্যক্তির ভণ্ডামি আর মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ারে। যদিও রাজনীতিবিদরা তা স্বীকার করেন না। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জাতীয় জীবনের একটা বড় ট্রাজেডি! বেঁচে থাকার জন্য রাজনীতি চাই। এ রাজনীতি যেনতেন উপায়ে ক্ষমতায় গিয়ে আখের গোছানোর রাজনীতি নয়, জনমানুষের কল্যাণের রাজনীতি, সমাজকে এগিয়ে নেয়ার রাজনীতি। এজন্য রাজনীতিতে নীতি-আদর্শ-নৈতিকতার চর্চা প্রয়োজন। প্রয়োজন ত্যাগ-তিতিক্ষা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, সততা ও আন্তরিকতা। কিন্তু আমাদের দেশে ভিন্ন নিয়ম। এখানে রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতা চর্চার কোনো বালাই নেই। প্রতিশ্রুতি পূরণ ও প্রতিশ্রুতি রক্ষারও কোনো দায় নেই। শঠতা-ভণ্ডামি-মিথ্যাচারকেই রাজনীতিবিদরা শ্রেয় মনে করেন। রাজনীতি পরিণত হয়েছে স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে। পুরোনো মূল্যবোধ ভেঙ্গে গেছে। আমরা ভেঙ্গে ফেলেছি। গজিয়ে উঠেছে নতুন মূল্যবোধ। একটি নতুন জীবন দর্শনে তালিম দেয়া হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। সমাজ নয়, স্রেফ নিজের কথা ভাবো। নিজের আখের গোছাও। চুরি করে হোক, ডাকাতি করে হোক, কাউকে ঠকিয়ে, মেরে যেভাবে হোক। যদি কোনো কেরামতিতে অনেক টাকা তুমি করতে পারো তাহলেই তুমি নমস্য। এক্ষেত্রে রাজনীতি হচ্ছে সবচেয়ে বড় সহায় এবং হাতিয়ার। রাতারাতি বড়লোক হবার এরচেয়ে কার্যকর কোনো উপায় আমাদের দেশে এখনও আবিষ্কৃৃত হয়নি। আপনি যত বড় চোর-জোচ্চর, খুনি-লম্পট-অসাধু-ভণ্ড- সমাজবিরোধী যাই হোন কেন শুধু একবার ক্ষমতাসীন অথবা ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন কোনো রাজনৈতিক দলে নাম লেখান, তাহলেই সাত খুন মাপ। সব সমস্যার সমাধান। অর্থ-বিত্ত-সম্মান-প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভের আশ্চর্য জাদুর চেরাগ আপনি পেয়ে যাবেন। আইন সমীহ করবে, প্রশাসন স্যালুট জানাবে, অর্থ-বিত্ত-টাকা-কড়ি পায়ের কাছে এসে গড়াগড়ি যাবে। আপনি যে কোনো ব্যবসা করতে পারবেন, এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের অবাধ অধিকার পাবেন, কমিশন আদায়ের সুযোগ পাবেন, অন্যের সম্পত্তি দখল, সরকারি জমি নামমাত্র দামে লিজ নেয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থ উপার্জনের আরো অনেক অজ্ঞাত উত্স আপনার সামনে এসে ধরা দেবে। সুতরাং যে কোনো উপায়ে রাজনীতিতে ঢুকে পড়লেই ‘কেল্লা ফতে বাজিমাত’। রাজনীতির বর্তমান সূত্র হচ্ছে— দেশের চেয়ে দল বড়। দলের চেয়ে নেতা বড়। সবার চেয়ে স্বার্থ বড়। এখন জীবন মানে হচ্ছে স্বার্থ, দল, রাজনীতি। এই বৃত্তেই যেন আমাদের জীবন আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। যদিও এ জীবন নিয়ে আমাদের বড় বেশি খেদ বা অভিযোগ আছে বলে মনে হয় না। সবাই দিব্যি খাচ্ছি-দাচ্ছি ঘুরে বেড়াচ্ছি। যেখানে যতটুকু পরচর্চা আর আঁতলামি করা দরকার অকৃপণভাবে তা করছি। দিন দিন দেশের রাজনীতির আকাশ ও ভবিষ্যত্ অত্যন্ত মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। মানুষ মরছে, হিংসা, উত্তেজনা বাড়ছে। যেভাবে চললে, যে কর্মসূচি গ্রহণ করলে দেশে শান্তি বিরাজ করবে তেমন কর্মসূচি নেই। সরকারি দল ও বিরোধী দল একে অপরকে দেখে নেয়ার প্রতিযোগিতায় মত্ত। কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দিতে রাজি নয়। এই পারস্পরিক যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে চরম অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। অগণতান্ত্রিক শক্তির রাজনীতির মঞ্চে আবির্ভাবের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের তাতে হুঁশ নেই। খেয়োখেয়ি, হানাহানি, মৃত্যুর মিছিল, তারপর অগণতান্ত্রিক শক্তির আগমন—তারপর একটা নির্বাচন, আবার ক্ষমতায় ফেরা, আবার খেয়োখেয়ি ...এই ধারাই যেন আমাদের রাজনীতির নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মধ্যে পুঞ্জীভূত হচ্ছে ক্ষোভ ও হতাশা। তারপরও কেউ কারো পরোয়া করছে না, ধারও ধারছে না। সবাই নিজ নিজ বিশ্বাস ও কর্মসূচি নিয়ে পথ চলছে। এদিকে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। আমাদের ভাগ্যের চাকা অদৃশ্য নিয়তির হাতেই ঘুরছে। অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারকে আমরা মানতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের রাজনীতিবিদরাও আত্মশুদ্ধি ঘটিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথ থেকে সরে আসছেন না। সমস্যা ক্রমেই সংকটে পরিণত হলেও কারো কোনো হুঁশ নেই। সবাই নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে চলেছেন। জনগণ তাদের পক্ষে রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করছেন। তাতে অবশ্য অনিশ্চয়তা কাটছে না। এ অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থা কবে কাটবে, কীভাবে কাটবে, আদৌ কাটবে কিনা তা কেউ বলতে পারছেন না। দেশনায়কদের হাত ধরে আমরা উল্টো পথের যাত্রী হয়ে বসে আছি। একবার এক ভদ্রলোক তীর্থযাত্রায় বের হয়ে উল্টো পথে হাঁটছিলেন। পথে একজন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে পথিক, এমন গেরুয়া বেশে তুমি কোথায় চলেছ ? পথিক জবাব দিলেন, দেখে বুঝছ না আমি তীর্থে চলেছি? কিন্তু এদিকে তো কোনো তীর্থ নেই। আমার জানা মতে তুমি যেদিক থেকে এসেছ তীর্থ তো সেদিকেই। এবার তীর্থযাত্রীর ভুল ভাংলো। তিনি বললেন, ভাই দয়া করে আমাকে ঘুরিয়ে দাও। আমরাও বর্তমানে ওই তীর্থযাত্রীর মতো উল্টো পথে চলেছি। কিন্তু হায়, কে আমাদের ঘুরিয়ে দেবে ? লেখক : কলামিস্ট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন