ভারতের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৮
রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের আমন্ত্রণে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তিনদিনের সফরে আজ ঢাকা আসিতেছেন। বাংলাদেশে তিনি আগেও আসিয়াছেন, তবে রাষ্ট্রপতি হিসাবে ইহাই তাঁহার প্রথম সফর। ঢাকায় অবস্থানকালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অনন্য সমর্থন ও অসাধারণ অবদানের জন্য তাঁহাকে স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হইবে। সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি প্রদান করিবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সম্মাননা গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত্সহ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি সস্ত্রীক নড়াইলের সদর উপজেলার ভদ্রবিলা গ্রামে সহধর্মিণী শুভ্রা মুখার্জির জন্মস্থানও পরিদর্শন করিবেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ভারতের প্রথম এই বাঙালি রাষ্ট্রপতির জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় হইলেও তাঁহার শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশের নড়াইলে। জন্মলগ্ন হইতে বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রভাবশালী ও বিদগ্ধ এই রাজনীতিবিদের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি সুবিদিত। এই আত্মীয়তার বন্ধন নিঃসন্দেহে তাহাতে নূতন মাত্রা যুক্ত করিয়াছে। প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার পর এ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশও লক্ষ্য করা গিয়াছে। অনন্য এই রাজনীতিবিদের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন কিছুদিন। কিন্তু থিতু হন নাই। তাঁহার পিতা ছিলেন কংগ্রেসের রাজনীতির সাথে যুক্ত নিবেদিতপ্রাণ একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। সেই আদর্শের টানে প্রণব মুখার্জিও পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেন ১৯৬৯ সালে। ইহার পর তাঁহাকে আর পিছনে তাকাইতে হয় নাই। গত বত্সরের ২৫শে জুলাই ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বপর্যন্ত পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও অর্থসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব পালন করিয়াছেন বিভিন্ন সময়ে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হইয়াছেন পাঁচবার আর নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হইয়াছেন দুইবার। উভয়কক্ষের নেতৃত্বের আসনেও সমাসীন হইয়াছেন। প্রায় দুইযুগ যাবত্ কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থার সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। কী রাজনীতিতে কী প্রশাসনে—সর্বত্রই মেধা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার ছাপ রাখিয়াছেন। প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার বিচারেও ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁহার তুলনা মেলা ভার। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হইতে শুরু করিয়া বর্তমান কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী পর্যন্ত সকলেই ভরসা রাখিয়াছেন তাঁহার উপর। অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বিরোধী মহলের শ্রদ্ধা অর্জনেও সক্ষম হইয়াছেন তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী নিরহঙ্কার ও নির্বিরোধ এই মানুষটি গণতন্ত্রপ্রিয় প্রতিটি মানুষের নিকট অনুপ্রেরণার উত্স হিসাবে বিবেচিত হইতে পারে। ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁহার বাংলাদেশ সফরকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন