আমাদের স্কুল-দিনগুলোতে বিশেষত এসএসসি লেভেলে অনুবাদ করতে হতো। বাংলা থেকে ইংরেজিতে। ইংরেজি থেকে বাংলা। তার মধ্যে গতানুগতিক কিছু ‘প্যাসেজ’-এর কথা এখনো মনে আছে। একটি প্যাসেজ ছিল এরকম ঃ ‘একদা এক পুকুর পাড়ে কিছু বালক খেলা করিতেছিল। সেই পুকুরে একদল ব্যাঙ সাঁতার কাটিতেছিল। বালকেরা ব্যাঙ দেখিয়া মজা পাইল। তাহারা খেলার ছলে ব্যাঙগুলোর দিকে ঢিল ছুঁড়িতেছিল। ঢিলের আঘাতে একটির পর একটি ব্যাঙ মৃত্যুবরণ করিতে লাগিল। বালকেরা ব্যাঙগুলিকে দেখিয়া বড়ই আনন্দ লাভ করিতেছিল। অবশেষে একটি বৃদ্ধ ব্যাঙ সাহস করিয়া মাথা জাগাইল। সে বালকদের উদ্দেশে বলিল ঃ হে বালকগণ, তোমরা খেলা মনে করিয়া যাহা করিতেছ তাহা আমাদের মৃত্যুর কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সুতরাং বন্ধ কর তোমাদের বিপজ্জনক এই খেলা।’ পাঠকগণ আমি নিশ্চিত যে, ৪৩ বছর আগের স্মৃতি সে রকম আর জাগরিত হয়নি। তবে যে কারণে এই উদ্ধৃতিটি তার কারণ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ। সংবাদটি নিম্নরূপ—নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় কাদের মোল্লার প্রতীকী ফাঁসির অভিনয় করতে গিয়ে গলায় ফাঁস লেগে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নাম আব্দুর রহমান সাকিল। সে বসুরহাট পৌরসভার বেপারি বাড়ির মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে। সূত্র জানায়, মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাদের মোল্লার প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ সাজিয়ে রবিবার রাতে শিশু-কিশোরদের ফাঁসি ফাঁসি খেলা উপভোগ করতে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ কিছু লোকজন। এক পর্যায়ে রাত ৮টায় ফাঁসির অভিনয় করতে গিয়ে আকস্মিক সাকিলের গলায় ফাঁসি লাগে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত লোকজন দ্রুত গলার ফাঁস খুললেও সাকিলকে বাঁচোনো সম্ভব হয়নি। সাকিলের বাবা-মা কেউ নেই। সে নানার বাড়িতে থাকতো। এদিকে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সাকিলের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। তবে এ ব্যাপারে কোম্পানিগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সাকিলের নিকট আত্মীয়রা টেলিভিশনে ফাঁসির মঞ্চের দৃশ্য দেখে সাকিল এ ধরনের অভিনয় করতে উত্সাহিত হয়েছে বলে বিলাপ করছেন। ঘটনাটিকে বিজ্ঞানমনস্করা স্বাভাবিক বলে গ্রহণ করছেন। অপরদিকে কাদের মোল্লার লোকেরা এটিকে আল্লাহর গজব বলে অভিহিত করছেন।
শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই অনুকরণশীল। কৌতুকপ্রিয়। যা দেখে তাই করতে চায়। আমার আর একটি ঘটনা মনে পড়ছে। সত্তর দশকের শেষের দিকে আমি যখন একটি দৈনিকে কর্মরত তখন আমাকে একটি সংবাদ অনুবাদ করতে দেয়া হয়। সংবাদটি এরকম ঃ একটি শিশু বাড়ির ছাদে উঠে পাশের অপর ছাদে উড়ে যাবার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সে টেলিভিশনে প্রদর্শিত ইংরেজি সিরিয়াল ‘সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান’ দেখে ঐভাবে উড়ে যাবার চেষ্টা করে। এটা ঢাকারই ঘটনা। সম্ভবত আজিমপুরে এটা ঘটেছিল। এখন যেমন নোয়াখালীর ঐ কিশোরের জন্য লিখছি, তখনো ওই শিশুর জন্য এমনিভাবে পত্রিকায় লিখেছি। ঐ লেখাটি দৈনিক আজাদে ছাপা হয়েছিল। সেদিন যে যুক্তি দিয়েছিলাম আজও সেই যুক্তি দেবো।
পার্থক্য শুধু দেশ-কাল-পাত্রের। যে শিশুটি ইংরেজি ছবি দেখে নিজের মধ্যে ঐ রকম উড়াল দেবার বাসনা জাগিয়েছিল তার জন্য দায়ী ঐ বিপজ্জজনক চলচ্চিত্র নির্মাতা। দ্বিতীয় আসামি হতে পারে তখনকার টিভি কর্তৃপক্ষ। যারা বাংলাদেশের সমাজ, শিক্ষা এবং পরিবেশ অগ্রাহ্য করে ঐ ছবিটি প্রদর্শন করেছে। নোয়াখালীর ঘটনাটি কোন নির্মিত ছায়াছবি নয়। এটা হচ্ছে একটি নির্মম সত্য। ঐ ছবির উত্স শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর।
শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর কি স্বতঃপ্রণোদিত? নাকি মতাদর্শ প্রণোদিত? অথবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? সে বিতর্কে না গিয়ে আমি ঐ এতিম শিশুর ঘটনার মধ্যেই সীমিত থাকতে চাই। বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মোতাবেক ‘Every action has got its equal and opposite reaction’ প্রতিটি ঘটনারই ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া আছে। আমরা যখন ঘটনা ঘটাই তখন হয়তো খেয়াল করি না এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে? যখন ব্যক্তি ও সমাজে ঐ ঘটনা ঘাত-প্রতিঘাত শুরু করে তখন আমাদের বোধোদয় ঘটে।
সমাজবিজ্ঞানে সামাজিকীকরণ বা Socialization বলে একটি কথা আছে। এ তত্ত্ব অনুসারে একটি প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র তার কাম্য মানস বা Mind set তৈরি করে। একটি শিশু-কিশোর মা-বাবার কাছে, আত্মীয়-স্বজনের কাছে নিজের অজান্তেই শেখে। একটি রাষ্ট্র তার পঠন-পাঠন, গণমাধ্যম, আনন্দ-বিনোদন দ্বারা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক তৈরি করতে চায়। এ সমাজ তার নীতি-নৈতিকতা, শিক্ষা-দীক্ষা, কার্যব্যবস্থা দ্বারা নৈতিক রাজনীতি, নৈতিক রাষ্ট্র এবং নৈতিক সমাজ নির্মাণ করতে চায়। যে রাষ্ট্র বা সমাজ পৃথিবীর যে অঞ্চলে অবস্থিত তার আলো-বাতাস, নদী-সাগর, ধ্যান-ধারণা, বিশ্বাস-বৈশিষ্ট্য সে দেশের জনসাধারণের মধ্যে প্রতিহত হবেই। বাংলাদেশের আবহাওয়া যেমন নাতিশীতোষ্ণ ঠিক সেভাবে মানুষগুলোও ‘ন অতি শীত ন অতি গরম’ অর্থাত্ মধ্যপন্থি। তবে আবেগপ্রবণ, আমোদপ্রবণ এবং কর্মবিমুখ। রাষ্ট্রের কাজ হলো নাগরিকদের ইতিবাচক গুণের বিকাশ এবং নেতিবাচক গুণের নিকাশ। দেশের লোকগুলো যদি চোর হয় রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাকে সত্ বানানো। তারা যদি অলস আমুদে হয় তাদের কর্মচঞ্চল করা। দেশের লোক যদি আইন মানতে না চায় তাহলে রাষ্ট্রের উচিত আইনানুগতা তৈরি করা।
এ সমস্ত নীতিকতার আলোকে আমরা শাহবাগের ঘটনাটির সামাজিক প্রতিক্রিয়া বুঝতে চাই। একটি আবেগপ্রবণ জাতি হিসেবে আমরা যারে দেই তারে ‘ছাপ্পর ফাইড়া দেই’। ১৯৪৭-এর পাকিস্তান আন্দোলন, ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র প্রাদেশিক নির্বাচন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুথান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ সবক্ষেত্রেই আমাদের সবকিছু উজাড় করে দেওয়ারই সাক্ষ্য দেয়। ১৯৯০ পরবর্তী প্রতিটি সংসদ নির্বাচন ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ প্রমাণ করেছে জনসাধারণ সংসদকে নিরঙ্কুশ করতে পছন্দ করে। এক্ষেত্রে শাহবাগের নবপ্রজন্ম ব্যতিক্রমধর্মী। এখানে প্রথমত প্রতিবাদের ভাষা, দ্বিতীয়ত প্রতিক্রিয়ার ভাষা, তৃতীয়ত প্রতিহিংসার ভাষায় পরিণত হয়েছে। বিগত দিনগুলোতে শাহবাগের উপচেপড়া ভিড় ঢাকাকে উত্সবের আমেজ দিয়েছে।
এই আন্দোলনে একটি বড় দিক হলো আগামী প্রজন্মের প্রতি আহ্বান। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়া, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা এবং গণজাগরণের সৃষ্টি করা। সবই ইতিবাচক দিক, তবে নেতিবাচক দিক হচ্ছেঃ আইনের উপর বিশ্বাস ও আস্থার অবসান, নতুন প্রজন্মকে চরম পন্থায় উজ্জীবিত করা এবং চিরশত্রু ও চিরমিত্র চিহ্নিতকরণ। এসব পন্থাকে উত্সাহিত করার জন্য বুদ্ধিজীবীদের সরব ভূমিকা লক্ষণীয়। তবে ‘তৃতীয় মাত্রা’ ঘোষিত হলেও এ নিয়ে ক্রমশ দলীয়করণের অভিযোগ স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেনঃ ‘ফাঁসি চাই, জবাই কর’—শ্লোগান দিয়ে দেশ গড়া যাবে না। তিনি ভালাবাসা, প্রেম, সম্প্রীতি দ্বারা রাজনীতি করার আহ্বান জানান।
অনেকে শাহবাগের নতুন প্রজন্মের এই অভিযাত্রাকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করছেন। আমি মনে করি এই প্রজন্মের পক্ষ থেকে কায়েমি স্বার্থবাদের বিরুদ্ধে অনাগত লড়াই-এর এটি একটি সূত্রপাত। দুই দশক আগে মেডিটেশন-এর মহাগুরু ‘মহাজাতক’ একটি তারুণ্যের বিপ্লবের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন আদর্শসমৃদ্ধ তারুণ্যের বিপ্লব ঘটবে। এটিই কি সেই কাঙ্ক্ষিত বিপ্লব? অথবা আমাদের আরো কি কিছুটা সময় স্থিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে? যে শিশু-কিশোররা একাত্মতার জন্য এসেছিল তারা যখন বড় হবে রক্তের শুদ্ধতা আরো বিস্তৃত হবে তখনকার জন্য কি আমাদের অপেক্ষা করতে হবে? ফাঁসি চাই শ্লোগান দিয়ে, জবাই কর হত্যা কর শ্লোগান শিখে শিখে যখন তারা বড় হবে তখন কি তারা আরো মারমুখো হয়ে সমাজ শুদ্ধাচারে নেমে পড়বে না? কচিকাঁচা সবুজ-অবুঝ সোনামণিদের শাহবাগের নিয়ে আসা, মিডিয়ায় বারবার করে এসব বিষয় প্রদর্শন নিয়ে মিশ্র মতামত সৃষ্টি হয়েছে। টকশো এবং অন্যত্র উত্থিত মতামত দুরকম। একদল বলছে এতে ওরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হবে। অপর দল বলছে তাদের হিংসা-প্রতিহিংসা শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। আর হিংসা-প্রতিহিংসার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। একটি চ্যানেলে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, তিনি দেখলেন কতিপয় ‘পথকলি’ঃ রাস্তার শিশু-কিশোর একটি কুকুরকে মেরে ফাঁসি ফাঁসি খেলছে। অপর একজন মহিলা সংসদ সদস্য একটি বিব্রতকর অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন। নাতি শাহবাগ পরিদর্শনের পর দাড়ি-টুপিওয়ালা নানাকে বলছে ‘তুই রাজাকার’। দাড়ি-টুপিওয়ালা ধর্মভীরু মানুষকে শাহবাগের রাজাকার হিসেবে প্রদর্শন করায় ঐ পরিণতি।
আমাদের রাজনীতির এই দুই ব্যাখ্যার পরিণতি আমরা জানি না। তবে ভবিষ্যত্ যে ভালো নয় তা বুঝতে পারি। আমাদের শাহবাগ প্রজন্মের আন্দোলনে ইতিমধ্যেই পক্ষ-বিপক্ষের বহু জনকে জীবন দিতে হয়েছে। এটি আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফসল। আর পরোক্ষভাবে প্রাণ দিয়ে হয়েছে নোয়াখালীর ঐ কিশোরকে। যে অবুঝ শিশু ফাঁসি ফাঁসি খেলতে গিয়ে সত্যিই ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করলো তার দায় কে নেবে? বিবেকের কাছে এই প্রশ্ন কি কেউ করবে না? নেতিবাচক রাজনীতির পরিণাম কি নির্মম হতে পারে ঐ কিশোরীর মৃত্যু তার সুনির্দিষ্ট উদাহরণ। সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে জানা যায় একটি দলের নেতাকর্মীরা ঐ ফাঁসি ফাঁসি খেলা উপভোগ করছিলেন।
প্রথমেই পুকুরে ভেসে থাকা ব্যাঙগুলোর প্রতি শিশু-কিশোরদের ঢিল মারার গল্প শুনিয়েছিলাম। যারা বাংলাদেশ নামক পুকুর পাড়ে বসে ঢিল মারছেন তারা বুঝতে পারছেন না তাদের রাজনৈতিক খেলায় সিংগাইর-এর মত নিরীহ জনসাধারণ মৃত্যুবরণ করছে। এর ফলাফল কঠিন ও নির্মম হতে বাধ্য।
গল্প দিয়ে শুরু করেছিলাম। গল্প দিয়ে শেষ করি। একজন নিষ্ঠুর পিতা তার বৃদ্ধ বাবাকে সুন্দর প্লেট কেড়ে নিয়ে মাটির বাসনে খেতে দিত। একদিন এই বৃদ্ধ পিতার হাত থেকে বাসনটি পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেল। এটা দেখে বৃদ্ধের নাতি অর্থাত্ ওই নিষ্ঠুর পিতার শিশু পুত্র বলে উঠল ঃ দাদা তুমি এ কি করলে? এখন আমি বাবা বৃদ্ধ হলে তাকে খেতে দিব কিসে? গল্পটি প্রায় সবাই জানেন। তবুও পুনরাবৃত্তি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য। গল্পে পুত্র তার ভুল বুঝতে পেরে পিতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল। নিজেকে শুধরে নিয়েছিল। আমাদের সন্তানরা কি আদৌ তাদের শুধরে নেবে?
রাজনীতিবিদদের জন্য আরেকটি গল্প। একবার একজন লোক মহাজনের কাছ থেকে অনেক টাকা ধার করে ফেলে। কোনমতেই টাকা ফেরত দিতে পারছে না। মহাজনের তাগাদায় জীবন তার অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এক বন্ধুকে বলে বিপদের কথা। ঐ বন্ধু বলে তোমাকে উদ্ধার করতে পারি এক শর্তে। আমার বুদ্ধিমত যদি টাকা দিতে না হয় তাহলে পাওনা টাকার চার ভাগের একভাগ আমাকে দিতে হবে। বন্ধুর বুদ্ধিমত যখন মহাজন আসে তখন সে পাগলের মত আচরণ করে। আর বলে ‘কাপাস কাপাস’। ভাবখানা এই যে, সে একেবারে পাগল হয়ে গেছে। মহাজন বারবার এসে হতাশ হয়ে টাকার তাগাদা দিতে আর আসে না। এভাবে রক্ষা পাওয়ার পর বুদ্ধিদাতা বন্ধু যখন বললো ঃ এবার আমার পাওনা দাও। তখন সে বললো ঃ বন্ধু ‘তুমিও কাপাস’। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে বলেছেন ঃ শাহবাগ প্রজন্ম ফাঁসির দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তারা নতুন সমাজ, নতুন সংস্কৃতির জন্য লড়বে। এই বামপন্থি নেতার উপদেশনা হয়তো ব্যর্থ হবে না। এটা অবাস্তব কিছু নয় যে, রাজনৈতিক বলয় থেকে নতুন প্রজন্ম বেরিয়ে আসবে। তখন বাম ধারার নতুন প্রজন্ম ক্ষমতাসীনদেরও বলবে ‘তোমরাও কাপাস’। আর বিরোধী বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা মওদুদ আহমেদ বলেছেন ঃ সুবিধাজনক সময় তারা গণতন্ত্র মঞ্চের ঘোষণা দেবেন। সুতরাং বুমেরাং হয়ে আসছে শাহবাগের রণকৌশল। সাধু সাবধান।
লেখক :অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
