বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৪
০০০০০০০০০০ বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার ভবিষ্যত্ নিয়ে আমরা সন্দিহান অতীতই যদি হয় বর্তমানের ভিত্তি তবে বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ এখন পর্যন্ত অনুজ্জ্বল বলা চলে। আজকে যারা ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের অনেকেই হয়তো ভবিষ্যত্ বাংলাদেশের রাজনীতির নেতৃত্ব দেবেন। আজ ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীরা আসলে ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে ভাল নেতৃত্ব আসবে। আর সঠিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ও মেধাবীদের কাছ থেকে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার আ শা করা যায়। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে যে, দেশের বর্তমান ছাত্র রাজনীতি কি ভবিষ্যতের এমন রাজনীতিবিদদের জন্ম দিতে পারবে যারা উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করতে পারে? প্রশ্নটি দৃষ্টিকোণের রাজনীতি সচেতন শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের কাছে থাকল। আর এ ব্যাপারে আমার মতামত এই, বর্তমানে যারা ছাত্র রাজনীতির ব্যানার বহন করছেন তাদের বেশির ভাগই ছাত্রত্বের সংজ্ঞার বাইরে। তাদের মধ্যে জ্ঞানের চর্চা শূন্যের কোঠায় । রাজনীতি করতে প্রয়োজন সহানুভূতিশীল বড় মনের। বর্তমান ছাত্র রাজনীতি বড় মনের নেতৃত্ব তৈরির ক্ষমতা রাখে না। তাই বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার ভবিষ্যত্ নিয়ে আমি সন্দিহান। ছাত্র রাজনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার জন্য নেতৃস্থানীয় দলগুলোর পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদের দৃষ্টিভঙ্গি যাতে উদার, সহনশীল ও ইতিবাচক হয় এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। তাহলেই কেবল ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ একটি মার্জিত গণতন্ত্র চর্চা দেখতে পারবে। আশফাকুজ্জামান চৌধুরী আইন অনুষদ, আশা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ০০০০০০০০০০ গণতন্ত্রের নামে কোন অবস্থাতেই হানাহানি করতে দেয়া যায় না বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের ভাবতে হবে আমরা নিজেরা কতটুকু গণতান্ত্রিক। তারপর উদারতা। আমাদের দেশের রাজনীতিতে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বলতে তেমন কিছু নেই। এখন গণতন্ত্র মানে নিজের মত করে চলা। অন্যের মতকে উপেক্ষা করা। গণতন্ত্রের নামে যা ইচ্ছা তা করা বা তা বলা। জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর ফাঁসির আদেশ দেবার পর এখানে আমারা দেখছি হানাহানি, মারামারি, খুন হত্যা। একটি রায় হলো। রায়ের বিরুদ্ধে আপীলের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু জামায়াত শিবির কর্মীরা গণতন্ত্রের নামে দেশের নৈরাজ্য সৃষ্টি করা শুরু করলো। এটাকে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলা যায় না। উদার গণতন্ত্রের নামে কোন অবস্থাতেই হানাহানি করতে দেয়া যায় না। এতে করে রাজনীতি কুলষিত হয়। বাংলাদেশের রাজনীতি কখনো ভাল ছিল না। তাই গণতন্ত্রে উদারতা দেখাতে হলে আমাদের মনমানসিকতাকে সেইভাবে গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের আচরণের এ পরিবর্তন করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চা করতে হবে। রাজনীতিতে সহনশীলতা থাকতে হবে। তাহলে বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ ভাল হতে পারে। সরকার, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সংবাদ পত্রসহ প্রতিটি ব্যক্তিকে গণতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণায় চলতে হবে। গণতন্ত্রেকে লালন করতে হবে। অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে। গণতন্ত্রের নামে যা ইচ্ছা তা করা যাবে না, এ কথাটাও মনে রাখতে হবে। জাহিদুল ইসলাম হিসাব বিজ্ঞান (তৃতীয় বর্ষ) নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা ০০০০০০০০০ বাংলাদেশের সংকটময় অবস্থায় উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চলতে পারে না সবার মনেই বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রত্যাশা ব্যাকুল। কিন্তু বর্তমানে দেশে যা ঘটছে তাতে কি বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি আদৌ সম্ভব? অবশ্যই না। আমি আজ লিখতে বসেছি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ নিয়ে, এ রাজনীতির ভবিষ্যত্ নিয়ে কি লিখব ভেবে পাচ্ছি না, ভয় পাচ্ছি। কারণ বাংলাদেশের অবস্থা এখন সংকটময় । দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে মানুষ শুনত বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ সংঘাত হয়, মারামারি হয়, খুন হয়। তবে এখন দেখা যাচ্ছে এই বাংলাদেশের শুরু হয়েছে বিভিন্ন সংঘাত, কাটাকাটি, মারামারি, হয়তবা কিছু দিনের মধ্যে গৃহযুদ্ধও শুরু হতে পারে। দিন দিন অবস্থা আরও বেগতিক দেখছি। আর এতে সাধারণ জনগণ পড়েছে বেকায়দায়। কিন্তু এই সংঘাতের কারণে দেশের যে এত ক্ষতি হচ্ছে তা তারা কেন বুঝতে পারছেন না। আর তার মধ্যে আবার বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি তা তো চিন্তাই করা যায় না। দেশে প্রতিনিয়ত যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে অবশেষে এই বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ আছে। তাই শুধুমাত্র সরকারের নয়, সকল মানুষের এই উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবতে হবে এবং এই সংঘাত, হানাহানি, বন্ধ করে বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে হবে। ফারহানা ইয়াসমিন (আঁঁখি) বাংলা বিভাগ অনার্স ২য় বষ গৌরীপুর সরকারী কলেজ, ময়মনসিংহ ০০০০০০০০০০ আমরা গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পেতে চাই গণতন্ত্র হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার। মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করবে, কোন সম্পদহানির আশঙ্কা থাকবে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। শিক্ষা, চিকিত্সা, অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান সব ঠিকঠাক মত নাগরিকের জন্য বরাদ্দ থাকবে। গণতন্ত্র মানে আইনের শাসন বলবত্ থাকবে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র বলতে কোন কিছুই দেখছি না। গণতন্ত্রের শিষ্টাচার রক্ষা হয় না বিধায় আজ গণতন্ত্র হুমকির মুখে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে সর্বোচ্চ স্তর থেকে। আজকাল প্রায় দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী অন্য দল সম্পর্কে বিষোদগার করছেন। তেমনি মন্ত্রীরাও। তিনি শুধু আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী নন। তিনি একটি দেশের, একটি জাতির প্রধানমন্ত্রী। দলমত নির্বিশেষে তিনি সবার প্রধানমন্ত্রী। তিনি যতদিন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ততদিন কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দিবেন না। গণতন্ত্রে এটাই শোভা পায়। আর মন্ত্রীরা প্রজাতন্ত্রের এক একটি কাজের দায়িত্বে থাকা জনগণের সেবক। তারাও কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দিবেন না। শুধুমাত্র নিজের উন্নয়নের কথা বলবেন এবং কাজ করবেন। অতীতে কি হয়েছে, না হয়নি সেটাও তোলার দরকার নেই। রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার জন্য নিজের দলের মুখপাত্র তৈরি করতে হবে। রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের দায়িত্বে থাকবে না এমন লোক দিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যদিকে বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আহবান জানাবো- তিনি যদি আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকার গঠন করেন, তবে ঠিক তাই যেন করেন। মন্ত্রিপরিষদে কারা যাবেন আর কারা দল পরিচালনা করবেন তা যেন আগে থেকেই ঠিক করে নেয়। তাহলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী আকার ধারণ করবে। গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পেতে চাই এবং দেশের সবাই যেন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে এই আহবান জানাই। মো. উজ্জ্বল হোসেন জিসান মাস্টার্স শেষপর্ব, সরকারি আজিযুল হক কলেজ, বগুড়া

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন