বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা হরতালের কারণে চট্টগ্রামের রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হরতালে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সময়মত তৈরি পোশাক শিপমেন্ট করতে পারছেন না রফতানিকারকরা। আবার গার্মেন্টস ও সহায়ক শিল্পের (ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ) আমদানি করা কাঁচামাল ছাড়িয়ে নিতে না পারায় ইতিমধ্যেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
হরতালের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ডেলিভারির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় তিন-চতুর্থাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে বাড়ছে কনটেইনারের স্তূপ। দেশে অব্যাহতভাবে খুন, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লাগাতার হরতালের মতো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে বিদেশি ক্রেতারা নিরাপত্তার অভাবে তাদের নির্ধারিত সফর বাতিল করছেন। ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের ইমেজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া যানবাহন সংকট ও নিরাপত্তার কারণে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে চট্টগ্রামের অনেক কারখানার উত্পাদন কমে গেছে। অনেক গার্মেন্টস মালিক জানিয়েছেন, সময়মত শিপমেন্ট না হওয়ায় সঙ্গত কারণে ক্রেতারাও পেমেন্ট দিতে দেরি করবেন। এ কারণে শ্রমিকদের বেতন সময়মত পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক সংকট প্রলম্বিত হলে গার্মেন্টস শিল্পে ভয়াবহ শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী ‘ইত্তেফাক’কে জানান, লাগাতার হরতালের কারণে সময়মত শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না। গার্মেন্টসের জন্য আমদানি করা কাঁচামালও ছাড়িয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে গার্মেন্টস শিল্পে ভয়াবহ অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন গার্মেন্টসে অনেক কর্মী অনুপস্থিত থাকছেন। এর ফলে গার্মেন্টসগুলোতে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রিন্টার্স এসোসিয়েশনের (বিজিপিএ) প্রথম সহ-সভাপতি কায়সার রিজভী জানান, হরতালের কারণে গার্মেন্টস কারখানাগুলোর পাশাপাশি প্রিন্টিং, ওয়াশিংসহ বিভিন্ন সহায়ক শিল্পেও সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কারখানায় উত্পাদন স্বাভাবিক থাকলেও তা সময়মত কাস্টমারদের কাছে ডেলিভারি করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক গার্মেন্টস মালিক স্টক লটের (অবিক্রীত মজুদ) মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদউদ্দিন জানান, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ কনটেইনার দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেলিভারি করা হয়। হরতালের কারণে কনটেইনার ডেলিভারি উল্লেখযোগ্যহারে কমে গেছে। ২ দিনব্যাপী হরতালের প্রথমদিনে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ২৫০টি কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে বলে জানান তিনি। চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৩০ হাজার টিইইউএস। গতকাল পর্যন্ত ইয়ার্ডগুলোতে মজুদ কনটেইনারের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার। লাগাতার হরতাল অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
