দিরাইয়ের পিয়াইন নদীর স্লুইস গেট এখন মরণফাঁদ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৩, ২১:০৪
দিরাই-শা্ল্লার পিয়াইন নদী তীরবর্তী কালিগুটা হাওরের কলকলিয়া স্লুইস গেট এখন কৃষকের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে পাউবো এ স্লুইস গেট নির্মাণ করলেও তা কোন কাজেই আসছে না। পাউবোর কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব স্লুইসগেট মেরামত না করায় অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে তারা ৫০ হাজার টাকা খরচ করেও গেটের আটটি ঢাকনার মধ্যে দু’টি ওঠালেও এগুলো এখন নামানো যাচ্ছে না। ঢাকনা দু’টি বন্ধ করা না হলে যে কোন মুহূর্তে পাহাড়ী ঢলের পানি হাওরে প্রবেশ করে বোরো ফসল তলিয়ে যেতে পারে। পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, স্লুইস গেটটি সচল করতে এক সপ্তাহ আগে ঢাকা থেকে টিম এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গেছে। শিগগিরই তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। গত বুধবার কলকলিয়া স্লুইস গেট পরিদর্শন করে দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, যে কোন মুহূর্তে পাহাড়ী ঢলের পানি পিয়াইন নদীতে প্রবেশ করলে সু্লইস গেট দিয়ে তা কালিকুটা হাওরে ঢুকে বোরো ফসল তলিয়ে যাবে। হাওর পারের কৃষক আমিরুদ্দিন, জুয়েল তালুকদার, নবজয় কুমার সরকার, রনধীর সরকার ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজুয়ান খান বলেন, দু’মাস আগে হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকাবাসী মিলে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে স্লুইস গেটের দু’টি ঢাকনা তুলেছিলেন। এখন পাউবো কোন উদ্যোগ না নিলে আবারও তাদের অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। জেলা পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুসলেহ্উদ্দিন জানান, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ১৬টি নদী ও হাওরের সংযোগস্থলে ২৭ হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী ও হাওরের উত্সমুখে ৫৭ স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয় নব্বই দশকে। এগুলো পাউবোর মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট মেইন্টেন্যান্স করতো। দীর্ঘদিন ধরে স্লুইসগেটগুলোতে পাউবোর কোন অপারেটর না থাকায় স্থানীয় লোকজন তাদের সুবিধার্থে যেনতেনভাবে এগুলো পরিচালনা করছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে ।