রাজনীতির শেকড় থেকেই উদার, সাম্যনীতির জলসিঞ্চন করতে হবে
রাজনীতির শেকড় থেকেই উদার সাম্যনীতির জলসেচন করতে হবে। তবেই অবারিত হবে গণতন্ত্রের সুমিষ্ট ফুল, ফল, কাণ্ড, ডালপালা। প্রতিহিংসা-পরায়ণতা কখনোই গণতান্ত্রিক চর্চায় সুফল বয়ে আনে না। ছাড় এবং ত্যাগের নীতিই হতে পারে গণতান্ত্রিক রাজনীতির মঙ্গলবাহী উপলক্ষ। এজন্য রাজনীতির শেকড় থেকেই উদার, সাম্যনীতির জলসিঞ্চন করতে হবে। তবেই অবারিত হবে গণতন্ত্রের সুমিষ্ট ফুল, ফল, কাণ্ড, ডালপালা। আজ যারা ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত, তারাই অনাগত দিনের ঝাণ্ডাধারী। সুতরাং বর্তমান ছাত্র রাজনীতিকদের চোখ, কান, অন্তরাত্ম খোলা রাখা বাঞ্ছনীয়। স্ববাঞ্ছা মেটানো, আত্মগরিমায় ভেসে যাওয়া, অন্যের অধিকার হরণ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য কিন্তু ভবিষ্যত্ গণতন্ত্রের জয়যাত্রায় প্রধান অন্তরায়। জনমনের আকুতি, চাহিদা মেটানো, তাদের নিষ্কণ্টক পথচলা- এসবের ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় উদার গণতন্ত্রের দ্বার। মনে রাখতে হবে, সহিংসতা বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্ম দেয়। তা গণতন্ত্র পরিপন্থি। আর জন জানমাল নিয়ে খেলা করার অধিকার কারো নেই।
খাইরুল ইসলাম তাজ
আইন বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০০০০০
উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিই পারে সকল রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে
গণতন্ত্র মানবমুক্তির হাতিয়ার। কেননা গণতন্ত্র যেখানে অনুপস্থিত মানবকল্যাণ সেখানে কাল্পনিক এবং মানবশান্তিও সেখানে অসম্ভব। তাই বলতে বাধা নেই যে, সকল সুখ-শান্তির মূলে ‘গণতন্ত্র’ আবশ্যক। অন্যদিকে ‘উদার গণতন্ত্র’ মানবকল্যাণ তথা মানবমুক্তির মূল চালিকাশক্তি। কারণ যে ‘গণতন্ত্রে’ উদারতা থাকে না সে ‘গণতন্ত্র’ কখনো জনগণের কল্যাণ করতে পারে না। তাই আমি এই মুহূর্তে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ঠিক ততটাই জরুরি যতটা জরুরি মাছের জন্য পানি। কেননা ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিই’ পারে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক সংকট দূর করতে এবং দূর করতে পারে জাতির মধ্যে স্থান করে নেয়া সকল আতঙ্ক। পাশাপাশি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে। আপনাদের হয়তোবা প্রশ্ন হতে পারে যে, বাংলাদেশে কি বর্তমানে ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ নেই? জবাব হবে—না, বাংলাদেশে ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ নেই। কেননা আমাদের দেশে ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ থাকলে তো আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের গালিচায় আগুন জ্বলতো না। পাশাপাশি ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকায় অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটতো না এবং সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের উপাসনালয়ে তাণ্ডব চলতো না আর প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বন্ধ থাকতো না মুখ দর্শন। তাইতো শেষ কথায় আবারো বলতে হয় যে, ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতেই লুক্কায়িত আছে সকল রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার হাতিয়ার।
তারেক রহমান
স্নাতক সম্মান (বাংলা)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ
০০০০০০০০০
সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, কে করছে, কেন করছে
গত কয়েকদিনে সংখ্যালঘু হিন্দু সমপ্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। সরকার বলছে বিরোধীদের কাজ আবার বিরোধী দল বলছে সরকারদলীয়দের কাজ। এখন কথা হচ্ছে, এটা থামানোর উদ্যোগ কিন্তু কেউই নিচ্ছে না। এ ওর উপর দোষ চাপিয়েই যাচ্ছে। মাঝখান থেকে বিপাকে পড়েছে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়। সামপ্রদায়িক দাঙ্গা বাংলাদেশে কোনোকালেই এত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেনি বর্তমান পরিস্থিতির মতো। প্রশ্ন হলো, কেন হচ্ছে এই সামপ্রদায়িক দাঙ্গা? কেন সরকার এটি বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে না? কারণটা খুবই স্পষ্ট। বর্তমানে জামায়াতের যে অবস্থা সেই অবস্থায় থেকে তারা সামপ্রদায়িক দাঙ্গায় জড়াবে এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। কারণ জামায়াতকে এমনিতে সবাই খুব একটা ভালো চোখে দেখে না। তাই তাদের পক্ষে এই দাঙ্গা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। যদিও সরকার একতরফাভাবে তাদের দোষ দিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে সামপ্রদায়িক দাঙ্গা কোনোকালেই লাগেনি। তাহলে এই দাঙ্গা সৃষ্টি করছে কারা?
মো. আব্দুল মতিন
মহাখালী, ঢাকা
০০০০০০০০০০
বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ প্রায় অনিশ্চিত
বর্তমানে দেশ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। আর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী হচ্ছে আমাদের দেশের মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। তাদের রাজনীতি করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের স্বার্থরক্ষা ও চরিতার্থ হাসিল করা। তবে রাজনীতিতে বর্তমানে আর একটি মজার বিষয় লক্ষণীয় হলো- রাজনীতিতে পদ বা মনোনীত প্রার্থীদের মুখ নতুন। যারা কিনা কখনো রাজনীতিতে তেমন কোন পদ বা ভূমিকা রাখেনি অথচ অর্থ কিংবা পেশিশক্তির বলে তারাই হয়ে যান দলের মহান নেতা। এদের মতো নেতারা দেশের জন্য করবে কি? গণতন্ত্রেরই বুঝবে কি? ওদের ই বা কি দোষ? দোষ তো হচ্ছে যারা এদের ঢুকতে সুযোগ করে দেয় কোনো এক স্বার্থ হাসিলের জন্য। আমাদের দেশের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে চিন্তা করতে বড়ই কষ্ট হয়। সত্যিকার অর্থে তারা কেউই দেশের কথা ভাবে বলে মনে হয় না। তাদের কর্মকাণ্ড এবং কথাবার্তা শুনলে মনে হয় যেন তারা তাদের চেয়ারের সম্পর্কেও জ্ঞান রাখে না। সব দলেই বিরাজমান এইরকম নেতাদের অবস্থান।
বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ প্রায় অনিশ্চিত। রাজনীতি করেন, তবুও যেন বুঝেন না রাজনীতি কিংবা রাজনীতির ভাষা। তাদের মধ্যে যেন একটাই চিন্তা—শুধু ক্ষমতায় থাকা। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের পরিসর থেকে বলছি, সরকার দলের লোকরা যেন রয়েছে কোনো এক ঘোরে। তারা যেন তাদের মাঠ পরিস্থিতি নিয়ে করে না কোন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ। করবেইবা কি! তারা তো দলের বসন্তের কোকিল। আসলে কি বলবো, সরকার দলের প্রধানও কি....? ভূতে আছর করলে ভূত ছাড়ায় সরিষা দিয়ে। কিন্তু সরিষায় যদি ভূত থাকে সেই ভূত ছাড়াবে কি দিয়ে? এর উত্তর জানে জনগণ। এই সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষার জন্য সকল দলের উদার হওয়া প্রয়োজন। নিজেদের স্বার্থ কিংবা ব্যক্তিগত রোষানল থেকে বেরিয়ে যদি এখন সদয় না হওয়া যায় তাহলে দেশের গণতন্ত্র অন্ধকারে ডুবে যাবে।
রবিউল আউয়াল দুঃখ
এম বি এস (হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ)
তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা
