কৃষি

বেকারত্ব নিরসনে কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠা প্রয়োজন

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৩, ২১:৩২
মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিকল্প ব্যবস্থা নেই। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা গতি দেশের অভ্যন্তরীণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়েই আসছে না বরং কাজে নিয়োজিত মানুষেরাও কাজ হারাচ্ছে। কৃষিভিত্তিক পরিবারগুলোতে অধিক জনসংখ্যার কারণে বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে গ্রামীণ বেকারত্ব। যা কৃষি পরিবারের পক্ষে ধারণ করা সম্ভব নয়। অর্থনীতির ভাষায় ছদ্মবেশি বেকারত্বের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যা সামষ্টিক অর্থনীতিকে আঘাত করছে। সাথে সাথে বাড়ছে মৌসুমী বেকারত্ব। মৌসুমী বেকারত্বের ফলে গ্রামীণ কর্মহারা মানুষগুলো এসে থাকেন শহরে। বাস্তবিক অর্থেই বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার রয়েছে উল্লেখযোগ্য সুযোগ। বিষয়টি যদি ধরে ধরে বলার চেষ্টা করা হয় তা হলে এভাবে বলা যায় যে, বিভিন্ন মৌসুমে আমাদের দেশে যে পরিমাণ ফল উপার্জিত হয় সেগুলোর রস প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্যে যদি সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত করা যায় তাহলে বিরাজমান বিশাল বেকারত্বের একটি উল্লেখযোগ্য কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। যেমন গ্রীষ্মকালে দেশের চরাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে তরমুজ উত্পাদন হয়। মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, ১২-১৫ কেজি ওজনের ১টি তরমুজ স্থানীয় বাজারে ২০০-২৫০ টাকায় (পাইকারী বিক্রির সময় আরও দাম কম হবে) বিক্রি হয়। অনেক সময় সংরক্ষণাগারের অভাবে ক্ষেতে পচেও যায়। কৃষক মাঠ পর্যায়ে উল্লেখিত মূল্যের কমই পায়। চর এলাকায় তরমুজের মৌসুমে যদি তরমুজ সংরক্ষণাগার করে তরমুজের জুস প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ২০০-২৫০ টাকার বিক্রীত পণ্যটি থেকে প্রাপ্ত রস কত দামে বিক্রি হতে পারে তা সচেতন পাঠক মাত্রই বুঝতে পারেন। একই কথা আনারসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমাদের পাহাড়ী অঞ্চলে যে পরিমাণ আনারস উত্পাদিত হয়, যদি ঐ অঞ্চলে আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই খাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। প্রসংগত উল্লেখ করা যায় যে, ভারতের কোটি কোটি মানুষ সরিষার তেল ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশে রবিশস্যের আওতাধীন মাঠের পর মাঠ এক সময়ে সরিষা চাষাবাদ করা হতো। আশির দশকে আকস্মিকভাবেই সয়াবিন তেল সরিষার স্থান দখল করলো। বন্ধ হয়ে গেলো তেলের চাতালগুলো। বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষায় সরিষার চাষ বৃদ্ধি করে গ্রামের তেলের চাতালগুলো চালু করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। একইভাবে আখের গুড় তৈরির আখের চাতালের কথা উল্লেখ করা যায়। পাশাপাশি কেএফসিসহ বহুজাতিক কোম্পানির প্রস্তুতকৃত ভোগ্য পণ্যের বাজারের বিপরীতে আমাদের বাঙালি খাবারের বহুমুখীকরণ প্রকল্প হাতে নিলে কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে যে, কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যদি মূলধন নিবিড় উত্পাদন কৌশলকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় তা’হলে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে আনবে না। প্রয়োজন শ্রমনিবিড় উত্পাদন কৌশল প্রতিষ্ঠা। লেখক: চেয়ারম্যান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বনানী, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন