তরুণদের প্রতি

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৬
বলা হচ্ছে, আমাদের তরুণ সমাজ জেগেছে। তাদের উত্থাপিত দাবি ও শপথের দৃশ্য প্রতিদিন দেখছি প্রচার মাধ্যমে। তাহলে তো আমরা এবার আশা করতে পারি, তারা গাড়িতে বয়োজ্যেষ্ঠদের সিট ছেড়ে দিতে কার্পণ্য করবে না। সর্বত্র দলবাজির ফলে মানবতার সে চরম লঙ্ঘন হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। অযোগ্যের আস্ফাালনে যোগ্যদের যে অসহায়ত্ব নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে সেদিকটায় তীক্ষ দৃষ্টি রাখবে; মহাসমাবেশ ঘটাবে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে। অশ্লীলতামুক্ত মার্জিত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাবে। আরো আশা করতে পারি, বিশ্বজিেক নির্মমভাবে পিটিয়ে মারার দৃশ্যটি বুকে ধারণ করে ঘাতকদের প্রতি ঘৃণা উত্সারিত করবে ও তাদের শাস্তি দাবি করবে। ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে উত্সব পালনকারী সেঞ্চুরিয়ানকে শতবার ফাঁসি দেয়া হোক এই দাবি উচ্চারণ করবে লাখ কণ্ঠে। যেসব শিক্ষার্থী শিক্ষক পিটানোর মত ক্ষমার অযোগ্য কাজটি করে চলেছে তাদের সেই দানবাধিকারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করবে; খাবারে ও ওষুধে ভেজাল দানকারীদের ফাঁসির দাবি করবে। আরো আশা করতে পারি, নিজের কর্তব্য কর্ম আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। গার্মেন্টসসহ কলে-কারখানায় যে লাখ লাখ তরুণ কাজ করছে, অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে এবং জীবন সংগ্রামে ব্যাপৃত রয়েছে তাদেরকেও ‘তরুণ’ বলে স্বীকার করতে দ্বিধা করবে না; আর ঐ তরুণ গোষ্ঠী কাদের অদক্ষতা ও অক্ষমতার কারণে সুবিধা বঞ্চিত হয়ে সামান্য ক’টা টাকার জন্য সারাদিন খেটে মরছে তা খুঁজে বের করে দোষীদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। আরো আশা করতে পারি, যারা বন ও পাহাড় কেটে টাকার পাহাড় গড়ছে তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করবে। কোন ঘুষখোর, চোরাকারবারি, ঋণখেলাপি, মিথ্যাবাদি, খুনি, ধর্ষককে কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি ব্যবহারে ঘোর আপত্তি জানাবে। যে কোন সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতি দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কারণ মুক্তিযুদ্ধটা যে হয়েছিল শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি তারাই যারা দলাদলির ঊর্ধ্বে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে টিকিয়ে রেখেছে— একথা জাতিকে বোঝাতে সক্ষম হবে। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অর্থাত্ ন্যায়ভিত্তিক শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের শপথ যা হবে বলে আশা করতে পারি তাহলো: আমি কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করবো না; কোন ক্ষেত্রে থেকেই অন্যায় সুবিধা নেবো না এবং কাউকে তা দেবোও না; অবৈধ পন্থায় চাকরি নেবো না এবং দেবোও না; ঘুষ খাবো না-দেবোও না; মদ, সিগারেট পান করবো না। মাদক ব্যবসায় জড়িত হবো না। নারীর সম্ভ্রমহানি করবো না। বিজ্ঞানের অনৈতিক ব্যবহার করবো না। জবাবদিহিতার চর্চা করবো ঊর্ধ্ব থেকে নিম্ন, নিম্ন থেকে ঊর্ধ্ব এবং প্যারালাল পদ্ধতিতে নিজ ধর্মকে মেনে চলবো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সম্মান করবো। প্রতিদিন আত্মসমালোচনা করে নিজের ভুল শুধরে নেবো। হে তরুণ সমাজ, এ চাওয়া আমার একার নয়, এদেশের অগণিত মানুষের। তরুণদের জাগরণ বলতে তারা এগুলোকেই বোঝে। আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে তো?  লেখক :শিক্ষক কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন