তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্রের
প্রধান অন্তরায়
আমাদের দেশে সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যখন পচন ধরছে তখন এই দুস্থ গণতন্ত্রের জন্য উদার গণতন্ত্রই হতে পারে একমাত্র মহৌষধ। উদার গণতন্ত্রের পথে প্রধান বাধা হলো সর্বস্তরে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন। আমরা আসলে রাজনৈতিকভাবে খুব বেশি বিভাজিত হয়ে পড়েছি। একজন মানুষের দু’চারটা কথা শুনলেই আমরা বলে দিতে পারি, সে কোন দল করে। আর একবার যদি তাকে সনাক্ত করা যায়, তাহলে ঐ দলের যাবতীয় অপকর্মের অংশীদার হিসাবে তাকে গালমন্দ করতে ভুলি না। মিডিয়া থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে এই বিভাজন ছড়িয়ে পড়েছে। এই রাজনৈতিক বিভাজন আমাদের মন থেকে মনের দূরত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই ছোটবেলায় খেলার সাথী, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠি যাদের সাথে গলাগলি করে বড় হয়েছি আজ তারাও পর হয়ে গেছে। হয়তো তারা আমাকে পর করে দিয়েছে, নয়ত আমিই তাদের পর করেছি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে আমরা এভাবে আলাদা হতে পারি না। আমরা সবাইতো এই বাংলা মায়ের সন্তান। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান,পাহাড়ী-বাঙালি আমরা সবাই ভাই ভাই। আমাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা আদর্শ ভিন্ন হতে পারে। তাই বলে আমরা একে অন্যের শত্রু নই। আমরা যদি পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধকে আরো জাগ্রত করতে না পারি, তাহলে এই রাজনৈতিক বিভাজন আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকেও বিভাজিত করে দেবে। আমরা যদি উদার গণতন্ত্রের কথা বলি, তাহলে অবশ্যই পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও স্নেহের সম্পর্ক উন্নত করে একটা পরমতসহিষ্ণু পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্রের পথ সুগম হবে।
মো. শহিদুল আলম
বিবিএম অনার্স (হিসাববিজ্ঞান), ৪র্থ বর্ষ
সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা।
বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি কবে আসবে কেউ বলতে পারে না
বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত দেখলে আমাদের সামনে ভেসে আসে মাওলানা ভাসানী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ জিয়াউর রহমানের মত গরীব, দুঃখী, মেহনতি মানুষের পাশে থাকা কিছু অবিসংবাদিত ও বিদগ্ধ নেতা। পরবর্তীতে এরকম নেতার আবির্ভাব হয়নি বলা চলে। পরিবর্তে আমরা পেয়েছি প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী আত্মসাত্কারীর মত সাংসদ। ’৫২’র দিকে আমাদের ছিল ভাষা, মা, মাটি ও মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে জীবন উত্সর্গকারী রফিক, সালাম, জব্বারের মত নিঃস্বার্থ ত্যাগী ছাত্রনেতা। আমাদের বর্তমান ছাত্র-রাজনীতি কি পেরেছে সেই ত্যাগী ছাত্রনেতাদের আদর্শ ধারণ করতে? পরিবর্তে আদর্শহীন পেশীশক্তি নির্ভর ছাত্র-রাজনীতির উন্মেষ ঘটেছে। আজকের ছাত্র-ছাত্রীরাই যেহেতু ভবিষ্যত্ রাজনীতির কাণ্ডারি কাজেই তাদেরকে দিয়েই বিচার করতে হবে যে, আমাদের ভবিষ্যত্ রাজনীতি উদার গণতান্ত্রিক হবে নাকি অন্যকিছু। বর্তমান ছাত্র-রাজনীতি সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি এবং পেশীশক্তি নির্ভর। ছাত্র-রাজনীতির সেই স্বর্ণযুগ আর নেই। মেধাবীদের পরিবর্তে দলে জায়গা হয় তাদের যারা অস্ত্র হাতে বিরোধীদের মোকাবেলা করতে পারে। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবর্তে জন্ম হয়েছে প্রতিহিংসার রাজনীতির। প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে বিরোধীদের প্রতিশোধ নিতেই ব্যস্ত থাকে। দেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ভিন্ন মতকে সহ্য করার ক্ষমতা খুবই কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সরকার ও বিরোধী দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের সহাবস্থান নেই। এটা উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবেশ হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হীনস্বার্থে ছাত্রদের ব্যবহার করছেন। ফলে আদর্শের পরিবর্তে স্বার্থের রাজনীতির বিকাশ ঘটছে। পদপ্রাপ্তি এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনগুলোর নিজেদের গ্রুপে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে। সত্য কিন্তু ভিন্ন মতের কারণে কারো স্বার্থে আঘাত লাগলে সেই মতের গলা চিপে ধরা হয়। কাজেই বলা চলে বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্তরায়ের পাল্লাই ভারি। এ থেকে উন্নয়নের পথ অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।
মো. আব্দুর রহিম
বিএসএস (অনার্স) সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
সূর্যসেন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্
অন্ধকার
দুর্নীতির দুষ্টচক্রের জন্য জনজীবন আজ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। দুর্নীতির দুষ্টচক্র হতে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন উদার নীতির অবলম্বন করা। রাজনীতিবিদরা আমাদের জাতীয় জীবনের কর্ণধার মাঝি। বর্তমান রাজনীতি থেকে নবাগতদের জন্য শেখার কোন কিছু নেই। তাই রাজনীতির ধ্যান-ধারণার পরিবর্তন করা দরকার। কারণ যৌবনের বছরগুলোতে মানুষ যে অভিজ্ঞতার বুনিয়াদ গড়ে তোলে ভবিষ্যতে এর জ্ঞানের প্রসাদ তাকেই ঘিরে গড়ে ওঠে। যৌবনের ধ্যান-ধারণাগুলোই ভবিষ্যতের রঙিন ফুল। যদিও এর মধ্যে সৃষ্টির বীজ বোনা থাকে। ভবিষ্যতে যদি মেধাবীদের মধ্য থেকে নেতা বের হয়ে আসে তারা যে কোন পরিস্থিতিতে যে কোন সংকটময় মুহূর্তে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসতে হবে। জানতে হবে রাজনীতির ইতিহাস। কেন রাজনীতি করছি। উদ্দেশ্য ঠিক থাকতে হবে। নেতারা ইচ্ছে করলেই বিবেকের তাড়নায় কষ্টাঘাত হয়ে উদার গণতান্ত্রি ক রাজনীতি শুরু করতে পারেন। বর্তমান রাজনীতির দৃশ্যপট প্রতিদিনই মানুষের চোখে ভেসে উঠছে। এই বিষাক্ত ভাইরাসের কবলে যে না পড়েছে তার পক্ষে বুঝা অসম্ভব যে এর বিষ কতটুকু তীব্র হতে পারে। নিজে ভুক্তভোগী না হলে শুধু আলোচনার স্তরেই থেকে যেতে বাধ্য। এর শিখরে আদৌ পৌঁছানো সম্ভব নয়। দেশে ঠাণ্ডা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এই ঠাণ্ডা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন উদার মন-মানসিকতার। বর্তমানে দু’দলই টালবাহানা শুরু করেছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে। এর সমাধান আদৌ কি সম্ভব? জাতিকে এনিয়ে আর কত দুর্দশা পোহাতে হবে। শেষ পর্যন্ত কিনা সামরিক আইন জারি হয়ে যায়। আমাদের মনে হয় রাজনীতির গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করার আগে নিজেকে শুধরিয়ে আসা উচিত। ব্যক্তির চেয়ে জাতি ও দলের চেয়ে রাষ্ট্র বড়— এই মন-মানসিকতা নিয়ে।
মো. জাহাঙ্গীর আলম
ল’ বিভাগ ৩য় বর্ষ,
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।
উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সহিংসতা
বন্ধ করুন
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক সহিংসতার মধ্যদিয়ে চলমান রাজনীতিকে ঠেলে দিচ্ছে চরম বিপর্যয়ের মুখে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষিত সমাজ। উল্লেখ্য, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও অরাজকতার কারণে যদি শিক্ষাক্ষেত্রে তরুণদের উপর বড় ধরনের নাশকতার প্রভাব পড়ে তবে বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ পুরোটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাই সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ থাকবে দেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য একে অপরের প্রতি হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক মনোভাব পরিহার করে সমঝোতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করুন।
মো. সমীর আহমেদ
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
অর্নাস শেষ বর্ষ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
