দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্নবোধ করিতেছেন কম-বেশি সকলেই। কোনো কোনো মহল ইহার মধ্যে দেখিতে পাইতেছেন গভীর সংকটের আলামত। বোধগম্য কারণেই তাহাদের উদ্বেগের মাত্রাও বেশি। উদ্বিগ্ন হইবার মত পরিস্থিতিই বটে। ব্যবসায়-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়াছে। রফতানি ব্যাহত হইতেছে। হরতাল ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কলে-কারখানায় উত্পাদন হ্রাস পাইয়াছে। জনান্তিকে বলিয়া রাখা ভাল যে, পরিস্থিতি যত খারাপই হউক না কেন, এই দেশের শিল্প-কারখানা কিনিবার জন্য বিদেশি ক্রেতার নাকি অভাব দেখা যাইতেছে না। সে যাহাই হউক, বিদ্যমান সংকট নিরসনকল্পে দুই নেত্রীর বৈঠকের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হইতেছে বিভিন্ন মহল হইতে। কোনো কোনো মহল দুই নেত্রীকে আলোচনার টেবিলে বসাইবার জন্য উদগ্রীব হইয়া পড়িয়াছেন।
কিন্তু দুই নেত্রীর আলোচনায় বসিবার মত কোনো রাজনৈতিক, পরিপ্রেক্ষিত ও প্রাসঙ্গিকতা আছে কিনা, তাহা ভাবিয়া দেখা হইতেছে বলিয়া মনে হয় না। যখন কোনো দেশের রাজনীতিতে নির্মূলের শ্লোগান আসিয়া যায়, তখন আলোচনা-সমঝোতার পথ কতখানি খোলা থাকিতে পারে, সে এক জরুরি প্রশ্ন। যে কোনো স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ম-নীতি নিশ্চিত করিয়া থাকে। প্রতিষ্ঠানসমূহ পক্ষপাতহীনভাবে কর্তব্য পালন করিয়া থাকে নিজ নিজ কর্ম পরিধির মধ্যে থাকিয়া। এমন কিছু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রহিয়াছে, যেইগুলি নিজেদের কর্মসীমার মধ্যে সম্পূর্ণ স্বাধীন। সেইসব প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করিয়া যাইবে, ইহাই স্বাভাবিক। আর এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়াই নিশ্চিত হইয়া থাকে নীতি-ন্যায় ও নাগরিক অধিকার। সেইসব প্রতিষ্ঠান যখন নিরপেক্ষতা হারায়, তখন কি করিয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক সুস্থির থাকিতে পারে! তদুপরি রহিয়াছে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
বলাইবাহুল্য, এই অবস্থাটিকে আরও জটিল করিয়া তুলিয়াছে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। হালফিল এই পরিস্থিতিতে ফুটা পাত্রে পানি ঢালিয়া উহা কখনও পূর্ণ করা যাইবে না, যাইতে পারে না। তাহা হইবে পণ্ডশ্রমমাত্র। আমরা সকলেই বুঝিতেছি যে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনীতির সমূহ ক্ষতি হইয়া যাইতেছে। অতঃপর প্রশ্ন আসিয়া যায়, সকলেই যখন তাহা বুঝিতে পারিতেছেন, তখন সমাধান যাহাদের হাতে বলিয়া আমরা ভাবিতেছি, তাহারা বিষয়টি বুঝেন না, সে কথাই বা বলা যায় কেমন করিয়া! এহেন বাস্তবতায় সংলাপ-সমঝোতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হইবার জন্য কাহারও দৌড়-ঝাঁপের সুযোগ নাই। বরঞ্চ শংকা হয়, গোলমেলে পরিস্থিতির মধ্যে আলোচনা সংলাপের ধুয়া তুলিয়া নেপোয় না মারিয়া যায় দই! আসল কথা হইল, বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক এবং দেশীয় বাস্তবতায় যাহা ঘটিবার তাহাই ঘটিয়া চলিয়াছে। ইহার প্রতিকারও হইবে প্রাকৃতিক নিয়মেই। অতীতেও দুই নেত্রীর বৈঠকের কথা বলা হইয়াছে। কিন্তু কখনই তাহা সম্ভব হয় নাই। সমস্যার সমাধান হইয়া গিয়াছে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে।
