আর্জেন্টিনার জর্জ ম্যারিও বারগোগলিও রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু তথা নূতন পোপ নির্বাচিত হইয়াছেন। তিনি ১৭তম পোপ। অন্যদিকে, ক্যাথলিক চার্চের ২০০০ হাজার বত্সরের ইতিহাসে ২৬৬তম পোপ। মোট ৪৮টি দেশের ১১৫ জন যাজক পোপ দুইদিন ধরিয়া পঞ্চম দফায় ভোটাভুটির মাধ্যমে তাঁহাকে নির্বাচিত করেন। তিনি ‘পোপ ফ্রান্সিস’ হিসাবে পরিচিত হইবেন। ভ্যাটিকান সিস্টাইন চ্যাপেলের চিমনি হইতে সাদা ধোঁয়া বাহির হওয়ার পরই ক্যাথলিক খ্রিস্টান অনুসারীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। এই সাদা ধোঁয়া বাহির হওয়ার অর্থ নির্বাচন সফল ও সুষ্ঠু হইয়াছে। ধারণা করা হইতেছে, ২০০৫ সালে পোপ নির্বাচনের সময় তিনি রানারআপ হইয়াছিলেন। সেসময় চারদফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময়ে নতুন পোপের এই নির্বাচন নানা কারণেই তাত্পর্যপূর্ণ। জর্জ ম্যারিও বারগোগলিও আসলে ষোড়শ পোপ বেনেডিক্টের স্থলাভিষিক্ত হইলেন। বেনেডিক্টের বয়স হইয়াছে ৮২ বত্সর। বলা হইতেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেন। কিন্তু মধ্যযুগের পর আধুনিককালে পোপের এরূপ পদত্যাগের আর কোন দৃষ্টান্ত নাই। সাধারণত মৃত্যুর পরই নূতন পোপের নির্বাচন হইয়া আসিতেছে। তবে ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলিতেছেন, পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট নানা কারণে সমালোচিত হইয়াছেন। তাঁহার আমলে ক্যাথলিক চার্চ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিশেষত শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন, পোপের নথি ও দুর্নীতির তথ্য এবং চার্চ কর্তৃপক্ষের প্রতিযোগিতার কথা বাহির হইয়া আসায় রোমান ক্যাথলিকরা দ্বিধান্বিত হইয়া পড়েন। পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হইয়াছেন বলিয়া তাহারা মনে করেন।
এবার নির্বাচনের জন্য সিস্টিন চ্যাপেলের গোপন কক্ষে প্রবেশের আগে গত মঙ্গলবার সকালে যাজক পোপগণ ঈশ্বরের নিকট এমন এক নেতা নির্বাচিত করার জন্য প্রার্থনা করেন, যিনি চার্চকে ঐ সকল কলঙ্ক ও বিভেদমুক্ত করিতে পারিবেন। বর্তমান পোপের বয়স ৭৬ বত্সর। তিনি এই কাজে সফল হইবেন বলিয়া আমরাও কামনা করি। সাধারণ মানুষের সহিত বিশেষত তরুণ সম্প্রদায়ের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রক্ষা ও তাহাদের নিকট মহান যিশুর ধর্মের বাণী পৌঁছাইতে সক্ষম হইবেন বলিয়া আশা করা হইতেছে। তাহাছাড়া ল্যাটিন আমেরিকার অঞ্চল হইতে এই প্রথম একজন প্রধান বিশপ বা যাজক নির্বাচিত হইলেন। ইহাও গুরুত্বপূর্ণ বলিয়া অনেকে মনে করিতেছেন।
পোপ ফ্রান্সিস বারগোগলিও বিশ্বের এক দশমিক দুই বিলিয়ন ক্যাথলিক অনুসারীদের হূদয় জয় করিবেন বলিয়া আমরা প্রত্যাশা রাখি। আন্তঃধর্ম সম্পর্ক উন্নয়নেও তাঁহার ভূমিকা পালন একান্ত কাম্য। ধর্মের নামে অধর্ম ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে পরধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন বন্ধেও ধর্মযাজক ও ধর্মপ্রাণ লোকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমরা পোপ ফ্রান্সিস জে এম বারগোগলিও‘র সাফল্য, দীর্ঘজীবন ও সুস্থতা কামনা করি।
