বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২০:০৬
সংঘাতের পরিবেশ সুষ্ঠু রাজনীতির অপমৃত্যু ঘটায় দেশের প্রতিটি মানুষ প্রতিনিয়ত দেশের কল্যাণ কামনায় নিঃশ্বাস ফেলে। গণতন্ত্রের জন্য শুভ কামনা করে। প্রতিহিংসার রাজনীতি, সংঘাত, সংঘর্ষ, দুর্নীতি, লুটপাট, রাহাজানিমুক্ত একটি সুন্দর পরিবেশ চায়। এ হচ্ছে বাস্তবতা, যা বুঝতে হবে রাষ্ট্রনায়কদের, রাজনীতিবিদদের। যারা রাজনীতি করেন তারা যদি জনগণের ভাষা বুঝতে ভুল করেন তবেই ভয়াবহ বিপদ। রাজনীতি তখন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হয় না, পরিণত হয় দলবাজিতে, সন্ত্রাসীদের প্রতিপালনের প্রতিভূ হিসেবে। তখন দেশের পরিবেশ হয় বিষাক্ত। দেশের জনগণ স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা, হূদয়ের টান হারিয়ে ফেলে। ক্যাডার দিয়ে চরম গুণ্ডামি, ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতন, রাতের আঁধারে শ্বাসরোধ করে হত্যা, নিরপরাধ কিশোরকে অপহরণ করে হত্যা—এসব নীতি বন্ধ না হলে প্রতিহিংসা ব্যাপক রূপ ধারণ করবে, রাজনৈতিক পরিবেশ বিপন্ন হবে, যা হবে প্রগতির পথে প্রতিবন্ধক। সংঘাতের পরিবেশ সুষ্ঠু রাজনীতির অপমৃত্যু ঘটায়। রাজনীতিতে মতাদর্শের ভিন্নতা থাকে, চিন্তা-চেতনায় থাকে বৈপরীত্য, দলের মধ্যে থাকে অবস্থানের ভিন্নতা, বিতর্কের অবতারণা, যা হতে পারে জাতীয় সংসদে কিংবা প্রকাশ্য রাজপথে। রাজনীতি জনগণকে দেশের মানুষকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ করে, আচার-আচরণে ভব্যতার শিক্ষা দেয়। রাজনীতিবিদরাই দেশের কর্ণধার, সুশীল সমাজ তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে। তাই সমগ্র বিশ্বে রাজনীতিবিদরাই সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, জনদরদী নেতা। লক্ষ লক্ষ লোক তাদের কথায় হাত তোলে, তাদের ভাষায় কথা বলে। রাজনীতিবিদদের ডাকে মুহূর্তে জীবন বলিদার করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। মোদ্দাকথা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের ও জাতির অগ্রগতির পথনির্দশক। ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করেন, তারা দেশের ও রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করেন। রাজনীতিতে জ্ঞানী-গুণীদের অনুপ্রবেশকে বাধাগ্রস্ত করেন। রাজনীতির সম্মান বিনষ্ট করেন। রাজনীতি যেন রাজনীতিবিদদের হাত থেকে বেহাত হয়ে পরিবেশ নষ্ট না করে, স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে যেন লাল-সবুজের পতাকা না উড়ে, আজকের দিনে এই হবে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে নতুন প্রজন্মের অনুরোধ। খন্দকার মো. রমজান আলী ডিপার্টমেন্ট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। হরতাল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অস্ত্র হলে কখনো উদার গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠিত হবে না নির্যাতিত মানুষের দাবি আদায় হরতালের আদি উদ্দেশ্য হলেও কিন্তু বর্তমানে হরতালের অর্থ, সংজ্ঞা ও উদ্দেশ্য মানব কল্যাণের পরিবর্তে মানব ক্ষতির দিকটারই প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। আজ কথায় কথায় হরতাল ডাকা হয়, তিলকে তাল করে বন্ধ করে দেয়া হয় জনজীবনের সচল অবস্থা। সরকার ও বিরোধী দলকে বলবো, হরতালকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের মানসিকতা পরিহার করতে পারলেই ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কল্যাণ আসতে পারে। একটু চিন্তা করে দেখবেন মূলত বর্তমানে রাজনৈতিক হরতালগুলোর মধ্যে দেশের ও জনগণের উন্নয়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য নেই, নেই দেশ গড়ার সমন্বিত প্রচেষ্টা, তবে রয়েছে ক্ষমতা, লোভ এবং ব্যক্তি উন্নয়নে মানসিকতা। তাই দেশ জাতি তথা মানবতার স্বার্থে ধর্মঘটের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান বের করাই শ্রেয়তর। তা না হলে কখনো উদার গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠিত হবে না। পলাশ পাল অনার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ), জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, গাজীপুর। বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্রের মূল হোতা জনগণ “বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্” কথাটি চিন্তা করলে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। কোন ব্যথা ছাড়াই চোখ দিয়ে অজস্রধারায় বৃষ্টির মতো পানি পড়তে থাকে। মনের মণিকোঠাটা ভূমিকম্পনের মতো কেঁপে উঠে। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক অবস্থা, তা ভবিষ্যতে ভালো হবে কিনা তা একমাত্র মহান আল্লাহ জানেন। অতীতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, কোন সময়ই গণতন্ত্র শব্দটির সঠিক ব্যবহার করা হয়নি। যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতার সিংহাসনে বসেছে সে চিন্তা করে তার আসন কিভাবে রক্ষা করা যায়। আর বিরোধী দলগুলো চিন্তা করে কিভাবে ক্ষমতাসীন দলকে সরিয়ে নিজে সিংহাসনে বসা যায়। প্রতিটি দলই নিজ স্বার্থের কথা চিন্তা করে। তারা জনগণের কথা গভীরভাবে চিন্তা করে না। অথচ জনগণই হচ্ছে সরকারের একমাত্র উত্স। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, আজ অনেক অসহায় মানুষের বুকের তাজা রক্ত রাজপথকে রঙ্গিন করে তুলেছে। অনেক অসহায় ব্যক্তি বিনা চিকিত্সায় মারা যাচ্ছে। অনেকে দু’বেলা খাবারের অভাবে ভিক্ষা করে দিন অতিবাহিত করছে। অনেক বেকার ছেলে চাকরির অভাবে রাজপথে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরছে। যদি এই সমস্ত বিষয় সমাধান না করা যায় তা হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ অমাবস্যা রাতের ন্যায় অন্ধকার। বর্তমানে উদার গণতান্ত্রিক শব্দটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। কেননা, গণতন্ত্রের মালিক শুধু সরকার, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী বা ধনী শ্রেণির মানুষের জন্য নয়। গণতন্ত্র হচ্ছে সর্বসাধারণের জন্য। তাই সাধারণ মানুষকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ চিন্তা করা হবে স্বপ্নের ভিতর সমুদ্রে দৌড়ানোর মতো। তাই আমার আবেদন এই যে, ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে রাজনৈতিক হানাহানি ও সহিংসতা বন্ধ করার জন্য সকলের নিকট প্রার্থনা করছি। মো. আব্দুর রহমান সুমন সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নারায়ণগঞ্জ,বিএসএস। প্রয়োজন প্রকৃত দেশপ্রেম ও ত্যাগের মানসিকতা রাজনৈতিক নোংরামিতে এখানে আঘাত হানা হয় শহীদ মিনারে, অবমাননা করা হয় জাতীয় পতাকা। কারণে-অকারণে সামনে নিয়ে আসা হয় অতিসংবেদশীল ধর্মীয় ইস্যু। আর জাতীয় ব্যক্তিত্বের ছবি ও নামের অবমাননা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। এদেশে আন্দোলনের ভাষা মানে জাতীয় অর্থনীতির দিকে না তাকিয়ে হরতালের নামে ভাংচুর অগ্নিসংযোগ আর ককটেলবাজির মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি। যেখানে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ঝরে যায় নিরীহ শতপ্রাণ। হুজুগেপনায় পুড়ে ছাই হয় দেশের ঐতিহ্য আর সংখ্যালঘুর স্বপ্ন বারবার। দুর্গত মানুষের হাহাকার আমাদের রাজনীতিবিদদের ‘ফরমালিন যুক্ত’ বিবেক বোধকে নাড়া দেয় না। তাইতো চরম উত্কণ্ঠার মধ্যেও ঘোষণা আসে স্বাভাবিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির। ফলে আমরা দেখতে পাই ধর্মনিরপেক্ষতার নামে নাস্তিকবাদ আর ধর্মীয় মূল্যবোধের নামে মহান মুক্তিযুদ্ধকেও অস্বীকার করার মত ধৃষ্টতার সাহস দেখায় কেউ কেউ! জাতির দুর্ভাগ্য এখানেই যে, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও আমাদের তথাকথিত ৫০-৬০ দলের ভিড়ে এমন দ্বিতীয় নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যার আহ্বানে ’৭১-এর মত আরেকটি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া যায়। যার ত্যাগী ও বিশ্বাসী নেতৃত্বে মাহাথির মুহম্মদ কিংবা হুগো শ্যাভেজের মত জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে সত্যিকারের গণতন্ত্রের সুফল পাওয়া সম্ভব। রাকিবুল হাসান রাসেল হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন