[ রা জ নী তি ]

ক্ষমতার খেলায় বলি দেশ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২০:৩২
শকুন খামচে ধরেছে জাতির অস্তিত্বকে। মানুষের মুখে মুখে এখন সরব জিজ্ঞাসা, সংঘাত ও অচলাবস্থার যে ভয়ার্ত পরিস্থিতি দেশকে আজ গ্রাস করেছে তা থেকে পরিত্রাণের পথ কী? এ দুশ্চিন্তাই এখন মানুষের বড় মাথা ব্যথা। দেশ আজ সত্যিই গুরুতর বিপদের মুখে। চলছে ভয়াবহ সংঘাত। এক পক্ষে রয়েছে আপামর জনগণ। তাদের প্রতিপক্ষে রয়েছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সংগঠন জামায়াত-শিবির। পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজনটি খুব স্পষ্ট। কিন্তু, এই বিভাজন রেখাটি যাতে তার প্রকৃত চেহারার বদলে ভিন্নতর জটিল মেরুকরণের রূপ নেয় সেজন্য এই ইস্যুর সাথে অন্যান্য ইস্যুকে সুবিধামতো সংযুক্ত করে জামায়াত তার দল ভারি করতে পেরেছে। বিএনপি তাদের সেই ফাঁদে আটকা পড়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু পদক্ষেপ এ ধরনের নাজুক শক্তি-ভারসাম্য সৃষ্টির পথকে সুগম করেছে। উভয় বুর্জোয়া দলের (কারো হয়তো কম, আর কারোবা অনেক বেশি হলেও) ত্রুটি, অপরাধ ও দেউলিয়াপনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামাত সহিংস তাণ্ডবের অভিযান চালিয়ে সারা দেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ ও প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনীকে সাথে নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। জামাতের পরিচালনায় সারাদেশে এখন চলছে হত্যা, গুপ্তহত্যা, বোমাবাজি, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ইত্যাদি নৃশংস বর্বরতা। তারা গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ হত্যা, থানা আক্রমণ, মন্ত্রীর গাড়ি বহরে হামলা, বিজিবির গাড়ি আক্রমণ, রেল গাড়িতে-রেল স্টেশনে ভাংচুর ও আগুন লাগানো, রেল লাইন উপড়ে ফেলা, রাস্তা কাটা, ব্রিজ ধ্বংস করা, বিদ্যুত্ কেন্দ্রে হামলা করে তা বন্ধ করে দেয়া—হেন কোনো দেশদ্রোহী অন্তর্ঘাতমূলক অপরাধ নেই যাতে জামাত-শিবির লিপ্ত হয়নি। এসবই হল সামরিক কায়দায় পরিচালিত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত যুদ্ধাভিযান। এই অপশক্তির ঔদ্ধত্যের জবাব দিতে আত্মশক্তির উত্থান ঘটিয়ে জন্ম নিয়েছে শাহবাগের ‘গণজাগরণ মঞ্চ’। যুদ্ধাপরাধী জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার পাশাপাশি, এই অপশক্তিকে শায়েস্তা করতে সরকারের আন্তরিকতা সম্পর্কে সন্দেহ অবিশ্বাস— এই উভয় উপলব্ধির ফসল হলো ‘গণজাগরণ মঞ্চের’ অভূতপূর্ব আন্দোলন। এই আন্দোলনের বিভাজন রেখার একদিকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, আর অন্যদিকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী। একদিকে তারুণ্য ও মুক্তিযুদ্ধের নব উত্থান, আর অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট জঙ্গি শক্তি। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চ যে বিভাজন রেখা নির্ণয় করে দিয়েছে তাকে ভিত্তি করে যদি লড়াই হয় তাহলে জামাত-শিবিরকে এক ফুত্কারে পরাভূত করা সম্ভব। এই বাস্তবতা বুঝতে পেরে জামাত আগে থেকেই এমন কৌশল নিয়েছে যাতে এই সহজ রেখাটির ভিত্তিতে মেরুকরণের বদলে ভিন্নতর মেরুকরণের ভিত্তি তৈরি করে রাখা যায়। তাই জামাত কায়দা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুর সাথে অন্যান্য ইস্যু সংযুক্ত করার ব্যবস্থা করেছে। মুক্তিযুদ্ধ বনাম যুদ্ধাপরাধী—এই ভিত্তিতে মেরুকরণ যেন কোনভাবে সৃষ্টি না হতে পারে সেজন্য আগে থেকেই তারা উস্কে দিয়ে রেখেছে ইসলামপন্থি-ইসলামবিরোধী, ভারতপন্থি-ভারতবিরোধী, সরকারপন্থি-সরকারবিরোধী ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ। তার সাথে তারা যুক্ত করে রেখেছে গণজীবনের সমস্যা-সংকট, সরকারের ব্যর্থতা ত্রুটি-বিচ্যুতি ইত্যাদি ইস্যুগুলো। তাছাড়া, সব ইস্যুকেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের খেলার ‘এক দফার’ এজেন্ডার অধীনস্থ করে রাখতে তারা সক্ষম হয়েছে। শেষোক্ত এই বিষয়ে ‘কৃতিত্ব’ অবশ্য যতোটা জামাতের, তার চেয়ে বেশি তা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—এই দুই বড় বুর্জোয়া দলের। বহুলাংশেই এই দু’টি বুর্জোয়া দলের কল্যাণে রাজনীতি থেকে নীতি-আদর্শ অনেকটাই নির্বাসিত হয়ে তা স্রেফ ‘গদি দখলের খেলায়’ পরিণত হয়েছে। রাজনীতির বাণিজ্যিকীকরণ ও দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে। চলতি রাজনীতি এখন প্রদর্শনবাদ, ক্যাটারিং সার্ভিস, প্রমোটারের প্রজেক্ট, কর্পোরেট সার্ভিসের ঢং-এ পরিচালিত ‘ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের’ রূপ নিয়েছে। বুর্জোয়া রাজনীতির ও বড় দল দু’টির এই দেউলিয়াপনার সুযোগ নিয়ে জামাত-শিবির আজ জাতীয় অঙ্গনে ভয়ংকর এক বিপজ্জনক শক্তি হিসেবে নিজের স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে (বামপন্থিদের জন্য তা সম্ভব ছিল কি না এবং সম্ভব থেকে থাকলে তা করতে তারা কেন সমর্থ হয়নি—সেটি স্বতন্ত্র একটি আলোচনার বিষয়)। ক্ষমতার খেলার সমীকরণ ও পাটিগণিত দ্বারাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বুর্জোয়া দলগুলোর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হয়ে থাকে। নীতি-আদর্শের বালাই না করে, কি করলে ক্ষমতায় থাকা যাবে অথবা ক্ষমতায় যাওয়া যাবে—এটিই হয়ে উঠেছে তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। জামাতকে স্বাধীনতাবিরোধী ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী শক্তি হিসেবে না দেখে তার ৪% (মতান্তরে ৬%) ‘ইসলামী ভোট’ হাত করতে, কিম্বা সেই ভোট প্রতিপক্ষের দিক থেকে সরিয়ে আনতে হলে কি কৌশল নেয়া উচিত—সে সবই হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই সাথে জামাতের আমেরিকান-সাউদি-পাকিস্তানি কানেকশনকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এভাবে জামাত হয়ে উঠেছে বুর্জোয়া দলগুলোর নীতি-কৌশলের মূল্যবান এবং ক্ষেত্রবিশেষে নির্ধারক উপাদান। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে সরকার গঠনের জন্য নির্বাচনী কার্যক্রমে নানা কূটকৌশল ও ম্যানিপুলেশনের সুযোগ আছে। টাকার খেলা, পেশীশক্তির দাপট, সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি প্রদান ও প্রশাসনিক কারসাজির দ্বারা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সুযোগ এখনও বিদ্যমান। এসব ‘কার্যকর’ প্রভাবক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারার ওপরই নির্ভর করে ক্ষমতার খেলায় কার জয় হবে। সে কারণে, প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক শক্তির আশীর্বাদ হাত করতে সক্ষম হবে কে এবং কোন সরকারের অধীনে ও কোন ব্যবস্থার আওতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—সেসবই অনেকটা পরিমাণে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে থাকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে ব্যবস্থা এক সময় প্রচলন করা হয়েছিল তার প্রাসঙ্গিকতা এই পরিপ্রেক্ষিতেই এখনো বিদ্যমান রয়েছে। উচ্চ আদালতের একটি রায়ের একমুখীন উদ্ধৃতি দিয়ে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করা হয়েছে। মহাজোট সরকার এভাবে আগামী নির্বাচনে নিজের জন্য একতরফা সুবিধার ব্যবস্থা করে নিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটিকে সে একটি এ্যাজিটেশনের ইস্যু হিসেবে বিএনপির হাতে তুলে দিয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা থেকে তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটি বিএনপির কাছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার ইস্যুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় বুর্জোয়া দলই ক্ষমতার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে পরস্পর বিরোধী হ্যাঁ-না অবস্থান গ্রহণ করে অনড় হয়ে বসে আছে। ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনিশ্চয়তামুক্ত দলীয় আধিপত্য সম্পন্ন সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পথে অগ্রসর হতে চেষ্টা করছে। একতরফাভাবে এবং এমনকি নিজের দলে বা জোটে প্রয়োজনীয় আলোচনা ব্যতিরেকেই, পার্লামেন্টে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এমনটা করলে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলে অথবা বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করা যাবে, সেকথা জেনে-বুঝেই আওয়ামী লীগ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচন করতে পারলে তার ‘বিজয়’ আটকায় কে, তাই এতসব ট্রিক্স! এক্ষেত্রে, একতরফা নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করাটাই তার জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে থেকে গেছে। এরশাদকে ‘বিরোধী দল’ সাজিয়ে ও জামাতকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে আনতে পারলে এবং সেই সাথে বিএনপিকে ভাগ করে একাংশকে দিয়ে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে ভোট করাতে পারলে, গ্রহণযোগ্যতার সমস্যাও দূর করা যাবে বলে তারা হিসেব করেছে। এসব থেকেই জন্ম নিয়েছে জামাতের প্রতি আওয়ামী লীগের সন্দেহজনক ও আত্মঘাতি নরম-গরম নীতি অনুসরণের দৃশ্যপট। ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি বিএনপির জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে লেভেল প্লেইং ফিল্ডের প্রয়োজনে এবং নৈতিক বিজয় নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুবিধা নেয়ার জন্য বিএনপির কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটি এখন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকারকে চরমভাবে নাজেহাল করে অচল করে দেয়ার অবস্থা তৈরি ছাড়া তাদের এই দাবি আদায় সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে জামাতের নিজস্ব এজেন্ডা এবং দেশব্যাপী সহিংস তাণ্ডব সৃষ্টির ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা বিএনপির কাছে একটি রেডিমেইড শক্তি হিসেবে হাজির হয়েছে। সে শক্তিকে সে লুফে নিয়েছে। ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দিয়ে বিএনপি তার উদ্দেশ্য হাসিলে নেমেছে। যুদ্ধাপরাধী নেতাদের বাঁচানোর মরিয়া প্রচেষ্টা জামাত-শিবির বুর্জোয়া দলগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্নে প্রতিযোগিতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু, নানা নির্বাচনী ইস্যু ইত্যাদি বিষয়কে এক সাথে জট পাকিয়ে রাজনীতিতে এক জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এর সাথে আছে সাম্রাজ্যবাদসহ বিদেশি শক্তির স্বার্থ। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে জাল ফেলে রেখেছে। আমেরিকা বঙ্গোপসাগরে তার নৌ উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে, দেশের তেল-গ্যাস-প্রাকৃতিক সম্পদ হাত করতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। জামাতের তাণ্ডবকে তারা নানাভাবে উস্কে দিচ্ছে। এজন্য তারা এদেশে নিয়ন্ত্রিত-নৈরাজ্য, দুর্বল সরকার ইত্যাদি দেখতে আগ্রহী। একাকার হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের ইস্যুর জট খুলে সেগুলোকে যার যার ক্ষেত্রে স্থাপন করতে পারলে বর্তমান অচলাবস্থা ও মুখোমুখি অবস্থান, অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও নৈরাজ্য থেকে বের হওয়ার পথ করা সম্ভব। এ কথা বুঝতে হবে যে, আমাদের সামনে তিন ধরনের ইস্যু রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামাত-শিবির নিষিদ্ধকরণ এগুলো হল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মৌলিক বিষয়ের সাথে জড়িত। এসব ক্ষেত্রে আপোষের কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। অন্যান্য ধরনের ইস্যুর সাথে এসব বিষয়কে শর্তবদ্ধ করা বা মিলিয়ে ফেলা বা মিলিয়ে ফেলার সুযোগ করে দেয়াটা হবে গুরুতর অপরাধ। এসব বিষয় বাদ দিয়ে সরকারের দুঃশাসন বা সুশাসন নিয়ে অসংখ্য ইস্যু রয়েছে। এগুলো ন্যায্য গণআন্দোলনের বিষয় হতে পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য সেগুলোকে নির্বাচনী ইস্যু করে জনগণের মতামতের দ্বারস্থ হতে হবে। এই প্রক্রিয়াতেই ক্ষমতায় কে থাকবে না থাকবে সে প্রশ্নের মীমাংসা হবে। কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমে এসব বিষয় ফয়সালা করতে হলে নির্বাচনকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। সে বিবেচনাতেই প্রাসঙ্গিক হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ইস্যুটি। অন্য বিষয়গুলোকে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে গণ্য করলেও, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ কোন্ ব্যবস্থায় নির্বাচন হবে সে বিষয়টি একটি প্রাক নির্বাচনী ইস্যু। প্রাক নির্বাচনী ইস্যুতে সমঝোতা না হলে নির্বাচন ও নির্বাচনের মাধ্যমে যাবতীয় ইস্যুগুলো ফয়সালার প্রসঙ্গটি অর্থহীন হয়ে পড়বে। এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই হুমকিতে পড়বে। দেশে ওয়ান-ইলেভেন বা টু-টুয়েন্টি টু’র পটভূমি জন্ম নেবে। এভাবে বিবেচনা করে অগ্রসর হতে না পারলে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মৌলিক বিষয়গুলো অপরাপর ইস্যুর সাথে মিলে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ইস্যুর জটে যুক্ত হয়ে পড়বে। বর্তমানে দেশে সেরূপ এক অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে এক ধরনের ইস্যুর সাথে ভিন্ন ধরনের ইস্যুর জগাখিচুড়ি করে যে ‘ইস্যুর জট’ সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করতে হবে। যে ইস্যুটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মৌলিক বিষয়ের সাথে জড়িত, তথা যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও জামাত-শিবির নিষিদ্ধকরণের ইস্যু, তা নিয়ে ‘রাজনৈতিক খেলার’ চেষ্টা বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে বন্ধ করতে হবে। বিএনপিকে এখনই জামাত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে, প্রাক নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা সম্পর্কে সমঝোতায় উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগকে অবিলম্বে বিএনপির সাথে ফলপ্রসু আলোচনার সূত্রপাত করতে হবে। আর, অপরাপর সব ইস্যুকে নির্বাচনী মেনিফেস্টোর বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সেসব নিয়ে জনগণের দরবারে উপস্থিত হবে হবে। বুর্জোয়া দল দু’টির শুভবুদ্ধি উদয় হবে, সেটাই দেশবাসী আশা করছে। কিন্তু ন্যূনতম বিচার বুদ্ধি হারিয়ে তারা যদি এক্ষেত্রে দেউলিয়াপনার প্রমাণ দেয় তাহলে বুঝতে হবে দেশ মার্কিন নীল নকশার ফাঁদে ষোল আনা বন্দী হতে আর বাকি নেই। লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি E-mail : [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন