এমনিভাবেই কি দেশ চলবে?

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৩
বর্তমান বিশ্বের একক পরাশক্তির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাত্ বিশ্বের সকল দেশের একরকম অভিভাবক। এই দেশটিও গণতান্ত্রিক দেশ। আবার গণতান্ত্রিক বিশ্বের মধ্যে বৃহত্। আমাদের দেশের মতই দেশটিতে দুইটি দল অর্থাত্ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দীর্ঘ ১৫০ বছর ধরে শাসন করছে। এই দুইটি দলের একটি নির্বাচনে বিজয়ী হলে অপর দল তাদের স্বাগত জানায় এবং মেনে নেয়। আবার দুই দলের মতামতের ভিত্তিতেই যেকোন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। যদিও দেশটির ইলেক্টোরাল কলেজ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তথাপি এই বিতর্ক চরম পর্যায়ে যায়নি। দুই দলের প্রধান দলীয় নেতারা কেউই দুইবারের বেশি ক্ষমতায় থাকেননি, যদিও এটি তাদের সংবিধানের নীতি। কিন্তু আমাদের দেশের প্রধান দুই দলের প্রধান প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখনও ঐ পদে বহাল রয়েছেন। যেটি আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও পরিবর্তিত হচ্ছে। দুই দলেই প্রধান দুই নেত্রী ছাড়া আরও অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ রয়েছেন—যারা দলের প্রধান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। বর্তমানে আমাদের দেশে যে প্রতিহিংসার রাজনীতি বিরাজমান তা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। তাছাড়া দেশে যে সহিংস কার্যক্রম, যেমন সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, তাদের মন্দির-বাড়িতে ভাংচুর, হরতাল, গণহত্যা চলছে তা নিয়ে সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ। এসব কার্যক্রমের জন্য সরকার বিরোধী দলকে আর বিরোধী দল সরকারি দলকে দায়ী করছে। কিন্তু কোন সমাধানই হচ্ছে না। ঐ দায়ী করার মাঝেই থেমে থাকছে। আবার যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দেশে যে ব্লগার সৃষ্টি হয়েছে তাদের কার্যক্রম নিয়েও সাধারণ মুসলমানের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ তারা ইসলাম সম্পর্কে অবমাননাকর উক্তি প্রকাশ করছে। এতে আমাদের সরকার তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অথচ যারা এই উক্তির বিরোধিতা করছে তাদের প্রতিহত করার পুলিশি কার্যক্রম চালাচ্ছে—যা আমাদের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা নয়। বিরোধী দলও মাঠে পড়ে হরতাল ডাকছে অথচ সংসদে যাচ্ছে না। বিরোধী দলেরও উচিত সংসদে গিয়ে যে কোন বিষয় উপস্থাপন করা এবং উভয় দলের মতামতের ভিত্তিতে যে কোন বিল পাস করা। বর্তমানে কয়েকটি বিল কোনরকম বিতর্ক ছাড়াই পাস হয়েছে। তাছাড়া গেল কয়েকদিন হল বিএনপির সমাবেশে যে ঘটনা ঘটেছিল তার সমাধান বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে দেওয়ার পদক্ষেপটা ছিল কি ধরনের তা আমরা সাধারণ জনগণ দেখে হতচকিত হয়ে গেলাম। তাছাড়া দেশের যেকোন একটি দলকে সমর্থন করলে অন্য দল সমর্থনকারীকে দমন করার জন্য মরিয়া। কিন্তু গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন ধরনের সমর্থক থাকতে পারে—যা অস্বাভাবিক নয়। যা হোক আমরা সাধারণ জনগণ পত্র-পত্রিকায় বারবার দেশের সহিংস পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার জন্য বলছি। কিন্তু আমার মনে হয় শুধু শুধু এসব বলে আমাদের ব্যক্তিগত সময় নষ্ট করছি। কারণ এসব বলা মনে হয় শুধু বলার জন্য বলা। তা না হলে কেন দেশে এখন সহিংস কার্যক্রম চলছে। এসবের কি কোন সমাধান আমরা পাব না? বড় দুই দলই মনে হয় নিজেদেরকে নিয়েই ভাবছে। দেশের-দশের কথা ভাবছে না। দুই দলের উচিত দেশের-দশের জন্য কাজ/চিন্তা করা। এ মুহূর্তে দুই দলের সরাসরি শান্তিপূর্ণ আলোচনায় বসা উচিত এবং সমাধান দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রমের জন্য তাদেরকে শুধু আটক করলেই সমাধান হবে না। এর জন্য তাদের আলোচনা করার জন্য আহ্বান করে সহিংসতার সমাধান দেয়া দরকার। প্রথমে যে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলেছিলাম, সেই দেশটি আমাদেরকে অনেকভাবে সাহায্য করছে। আমরাও তাদেরকে সহসাই মেনে নিয়েছি নিজ স্বার্থের জন্য। অথচ রাজনৈতিক নিয়ম-কানুনের বেলায় তা করছি না। আমরা যদি তাদের রাজনৈতিক নিয়ম-কানুন কিছুটা অনুসরণ করতে পারি তাহলে হয়তো আমাদের দেশে বর্তমানের সহিংস-প্রতিহিংসামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে না। লেখক : শিক্ষার্থী ভিক্টোরিয়া গভ. কলেজ, কুমিল্লা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন