উদার গণতন্ত্রের জন্য
সরকার ও বিরোধীদলের অবস্থান ও করণীয়
স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়েছে বাংলাদেশ। ৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছে এই গণতাস্ত্রিক রাষ্ট্র। একটি গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন দল থাকবে বিভিন্ন গোষ্ঠী থাকবে। একদল জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসে, আর অন্য দল হয় বিরোধীদল। সরকারি দল হোক আর বিরোধীদল হোক জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব আছে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দনীয় দলকে ক্ষমতায় বসায়। যেন তারা তাদের ন্যায্য অধিকারগুলো পায়। সরকার সবসময় জনগণের কাছে জবাবদিহিতার চিন্তা মাথায় রেখে দেশ পরিচালনা করবে। সরকারি দল ক্ষমতায় বলে বিরোধীদলের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানোও সরকারের কাজ নয়। সরকারের কাজই হচ্ছে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। অপরদিকে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে সরকার ও বিরোধীদলের যে ভূমিকা বা করণীয়, বর্তমানে তা পুরো ভিন্ন। বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি এতে জনগণের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। জনগণ ভোগে নিরাপত্তাহীনতায়। সরকারি দল একের পর এক পন্থায় বিরোধীদলের উপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। নতুন নতুন আইনের মাধ্যমে বিরোধীদল দমনে সোচ্চার। বিরোধীদলের কাজ হচ্ছে সরকারের ভাল কাজের প্রশংসা করা এবং খারাপ কাজের সমালোচনা করা। অথচ বাংলাদেশের বিরোধীদল বিরোধিতা করছে সরকারি দলের প্রতিটি কাজে। যা এদেশের সুষ্ঠু রাজনীতিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিরোধীদল কর্মসূচির নাম করে একের পর এক হরতাল পালনে মরিয়া। হরতাল যে দেশ ও জনগণের ক্ষতি তা তাদের ভাবার বিষয় নয়। বিরোধীদল মনে করে হরতাল দিলেই তাদের দাবি আদায় হবে। অথচ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে সরকার ও বিরোধীদলের আচরণ হওয়া দরকার সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক। একে অপরকে সহযোগিতা করে দেশের উন্নয়ন তরান্বিত করা।
আমানুল্লাহ আবির,
বিএ অনার্স ১ম বর্ষ,
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্প্রীতির বন্ধনে, ৭১-এর চেতনা ও মননে
আমাদের দেশটা নাকি গণতান্ত্রিক দেশ? আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রের সাথে গণতান্ত্রের চারিত্রিক কোন মিল নেই না আছে দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাথে গণতন্ত্রের চারিত্রিক মিল। সবমিলিয়ে ভারতের গণতন্ত্র, ইরানের গণতন্ত্রের সাথে আমাদের দেশের গণতন্ত্রের রয়েছে বিস্তর ফারাক। বর্তমান সময় সরকার ও বিরোধীদল নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি করে জনজীবনে বয়ে আনছে ব্যাপক দুর্ভোগ ও হতাশা। যা কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলের কাছে কাম্য হতে পারে না। শত্রুতা নয় বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আলোচনায় বসে দেশের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব আন্দোলন করে নয়। তাই আসুন মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতির বন্ধনে ৭১-এর চেতনা ও মননে জাতির জনকের সোনার বাংলা বিনির্মাণে দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ হই।
মো. সাইফউদ্দিন আবির,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,
৪১তম ব্যাচ,
ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ।
সংঘাত নয় প্রয়োজন সহযোগিতা
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক হালচাল দেখে তরুণ প্রজন্ম হতাশ। রাজনীতি হয়ে উঠেছে বিভীষিকাময়। যে নীতির ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সেই রাজনীতি সম্পর্কে সবার সচেতন থাকা বাঞ্ছনীয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে, পিতামাতা তার সন্তানকে রাজনীতিতে জড়িত হওয়াতো দূরের কথা বরং এ থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে তাগিদ দেয়। ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক চেক করলেও দেখা যায় ফেবু ব্যবহারকারীরা রাজনীতিতে কোন আগ্রহ নেই বলে অভিপ্রায় প্রকাশ করছে। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।
বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যে পরস্পর সাংঘর্ষিক অবস্থানে রয়েছেন তা দেশ ও জাতির জন্য অশনি সঙ্কেত। এ অবস্থা চলতে থাকলে রাজনীতি অঙ্গনে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে সংঘাত নয় বরং পরস্পরের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা দলীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। সরকার ও বিরোধীদলকে হতে হবে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। থাকতে হবে অঢেল আস্থা ও বিশ্বাস। আইনের শাসন নিশ্চিত করে সহজ সরল মানুষের অধিকার এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেন বিশ্বের বুকে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।
মো. শামীমুল ইসলাম,
আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, কে করছে, কেন করছে
গত কয়েকদিনে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। সরকার বলছে বিরোধীদের কাজ আবার বিরোধী দল বলছে সরকার দলীয়দের কাজ। এখন কথা হচ্ছে এটা থামানোর উদ্যোগ কিন্তু কেউই নিচ্ছে না। এ ওর ওপর দোষ চাপিয়েই যাচ্ছে। মাঝখান থেকে বিপাকে পড়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাংলাদেশে কোনকালেই এত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি বর্তমান পরিস্থিতির মত। প্রশ্ন হল কেন হচ্ছে এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা? কেন সরকার এটি বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে না? কারণটা খুবই স্পষ্ট। বর্তমানে জামায়াতের যে অবস্থা সেই অবস্থায় থেকে তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জড়াবে এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। কারণ জামায়াতকে এমনিতেই সবাই খুব একটা ভাল চোখে দেখে না। তাই তাদের পক্ষে এই দাঙ্গা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। যদিও সরকার একতরফাভাবে তাদের দোষ দিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কোনকালেই লাগেনি। তাহলে এই দাঙ্গা সৃষ্টি করছে কারা? নিশ্চই সরকার। যেটা প্রমাণ হয়েছে ছাত্রলীগ কর্মীর শহীদ মিনার ভাঙচুরের ঘটনায়। কেন করছে সরকার? কারণ এই দাঙ্গা সৃষ্টিতে তাদের লাভের পরিমাণ যথেষ্টই। সরকার যদি গোপনে এসব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় তাহলে সবাইকে দেখিয়ে হৈ হৈ রৈ রৈ করে বলতে পারবে ঐ দেখ মুসলমান নামে জামায়াত/বিএনপি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করছে। তাতে বরং জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে সরকার। কারণ সরকার ইতিমধ্যেই জনগণের আস্থা হারিয়ে বসে আছে। তাই যদি না হবে কেন শহীদ মিনার ভাঙবে ছাত্রলীগ? কেনই বা সরকার এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না বা নিচ্ছে না?
মো. আব্দুল মতিন,
মহাখালী, ঢাকা।
