সবার আগে নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন ছিলাম

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ১৭:২৯
শাওন চৌধুরী ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০১২সালে অনুষ্ঠিত জে.এস. সি. পরীক্ষায় মোহাম্মদপুর থানায় টেলেন্টপুলে দ্বিতীয়স্থান অধিকারী। মেধা সবারই আছে । কেউ তা কাজে লাগাতে পারে, আবার কেউ পারে না । আমার মতে যারা মূলত পরিশ্রমী, অধ্যবসায়ী , সময় সচেতন, মনোযোগী, শিক্ষকদের সম্মান করে,তাদের কথা অনুযায়ী চলে তারাই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয় । আমার ভাল ফলাফলের কারণটা আসলে এগুলোই । শিক্ষকরা সবসময় তাঁদের স্নেহের হাত ছাত্রদের উদ্দেশে বাড়িয়ে রাখেন।তাই আমাদের কর্তব্য হচ্ছে শিক্ষকের গাইড লাইন অনুযায়ী চলা । সৃজনশীল প্রশ্নের মোকাবেলার জন্য শ্রেণিতে শিক্ষকের কথার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেই।আর শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে আরডিএস,ডিআরএমসি সাইন্স ক্লাব এর সাহায্যে বিতর্ক,সাধারন জ্ঞান,বিজ্ঞান মেলা ইত্যাদি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে আমাদের কলেজে।ফলে বর্তমান ঘটনা প্রবাহ(out knowledge) সম্পর্কে ভাল ধারণা লাভ করি।ফলে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ভালভাবে বর্তমান ঘটনা প্রবাহের আলোকে দিতে পারতাম।আবাসিক ছাত্র হওয়ার কারণে কলেজের মনোরম ক্যাম্পাস এর মধ্যেই থাকতাম। এত সুন্দর পরিবেশে থাকলে যে কারোর পড়ার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ বসবে।পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভাল ফলাফলের জন্য বলতে হয় ;নেপোলিয়ন বলেছিলেন,”সবার আগে নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে অবহিত হও।”কাজেই যে বিষয়ে দুর্বল, বত্সরের প্রথম থেকেই সে বিষয়ের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে দেই । আর মনে রাখি “Only practice makes a man perfect.”বিষয় ভিত্তিক চিন্তা করলে মোট ৯ টি বিষয়ের উপর আমাদের JSC পরীক্ষা হয় । প্রথমেই বাংলার কথা বলি; অভিজ্ঞতায় দেখি, ভাল ফলাফলের জন্য হাতের লেখা এমন হতে হবে যেন পরীক্ষকের বুঝতে অসুবিধা না হয়। সুন্দর হাতের লেখা পরীক্ষাতেও অধিক নাম্বার নিশ্চিত করে। বাংলা বই এর গদ্য ও পদ্যের প্রতিটি লাইন বুঝে বুঝে পড়ি। ব্যাকরণের কোন কিছু না বুঝে মুখস্ত করি নাই। আমি উত্তর লেখার সময় কবিতা,মনীষীর বানী ব্যবহার করেছিলাম।English for Today বই যত বেশি পারা যায় রিডিং পড়ি। ইংরেজি ২য় পত্রের সকল বিষয় গুলো জানার চেষ্টা করি।বিজ্ঞান ও অংক বারবার চর্চায় রাখি।জ্যামিতিক চিত্র বেশি করে আঁঁকি।আমার কলেজে শিক্ষকদের সহযোগিতায় উপপাদ্য ও সম্পাদ্য বুঝে পড়তে কোন সমস্যা হয় নি ।এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতাম, যেন ১০০ নাম্বার গনিতে নিশ্চিত করা যায়। বিজ্ঞানের কোন অধ্যায় বাদ দেই নাই।পরীক্ষার খাতায় সৃজনশীল প্রশ্ন গ ও ঘ এর উত্তর লেখার সময় চিত্র দিতে হয় । তাই বেশি করে চিত্র অঙ্কনের অনুশীলন করি। না বুঝে কোনকিছু মুখস্ত করি নাই। ইসলাম এর জন্য আমি যত পেরেছিলাম আরবি আয়াত মুখস্ত করেছিলাম।এর জন্য আলাদা খাতাও বানিয়ে ছিলাম । কৃষি শিক্ষার জন্য বইয়ের সবগুলো সারের চার্ট অঙ্ক সহ পড়েছিলাম। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এর জন্য উত্তর লেখার সময় বেশি করে সাল,ঘটনা,চার্ট ব্যবহার করেছি । MCQ এর জন্য বইয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লাইন আন্ডারলাইন করে বুঝে বুঝে পড়েছি। ফলে পরীক্ষাতে MCQ নিয়ে কোন সমস্যা হয় নি। এর সাথে আমাদের কলেজে যে পরিমাণ Model Test নেয়া হয়েছে শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে। আবার আবাসিক ছাত্র হওয়ার কারণে রুটিনের মধ্যে ছিলাম। যার কারণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসতাম। যা আমার পড়া এগিয়ে নিতে কাজে লেগেছিল। আমার অভিজ্ঞতা বলে জেএসসিতে ভালো ফলাফলের জন্যে ক্লাস শেষে প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘন্টা পড়তে হয়। পরীক্ষার সময় তা বাড়াতে হয় । তবে রাত জাগি নাই। সর্বোপরি নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রেখেছিলাম।