পরিবারতন্ত্র নয়
চাই গণতন্ত্র
নির্বিচারে দেশে যখন গুম, হত্যা, ধর্ষণ, পবিত্র স্থান মসজিদে ভাংচুর, দুর্নীতি, দুঃশাসন, হামলা-মামলা বেড়েই চলেছে তখন নিঃসন্দেহে বলতে পারি দেশ আজ চরম সংকটে। চলমান রাজনীতি হয়ে উঠেছে সাংঘর্ষিক শিবির। যার ফলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে একের পর এক গণতান্ত্রিক দেশে হরতাল অবরোধের মত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার যে কোন রাজনৈতিক দলেরই আছে। বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট যখন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করছে, ঠিক তখনই সরকার পুলিশকে দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে। যার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে অস্থিরতা। রাজনৈতিক কর্মসূচি সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটাও স্পষ্ট হয়েছে সরকার এবং বিরোধী দল পয়েন্ট অব নো রিটার্ন অবস্থানে পেছনদিকে ফিরে তাকানোর অবকাশ নেই। কথায় আছে- 'Time and tide wait for none'. অর্থাত্ সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। চলমান সময়ে সরকারি এবং বিরোধী দল যেভাবে সময়ের অপব্যবহার করছেন। অথচ একসময় এ সময়ের মূল্য তাদেরকেই দিতে হবে। আবারও সৃষ্টি হবে ১/১১-এর মত ঘটনা। রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ হয়ে উঠবে অন্ধকার। এ অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রয়োজন প্রধান দু’দলের সমঝোতা। কিন্তু এখনও দু’দল সমঝোতার পথ সৃষ্টি করতে পারেননি। গণতান্ত্রিক পথ অবলম্বন না করে অগণতান্ত্রিক পথ অবলম্বন করছেন। মুরগি যেমন ডিম ফুটিয়ে তার বাচ্চাদেরকে পালকের নিচে আগলে রাখার চেষ্টা করে। ঠিক তেমনি রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গেলে দলীয় নেতাদের আগলে ধরে রাখার চেষ্টা করে। জনগণকে নিয়ে ভাবার অবকাশ তাদের নেই।
সুমন আহমেদ
বিবিএ, ফজলুর রহমান হল
সিটি ইউনিভার্সিটি সাভার,
ঢাকা
সংঘাত নয় সমঝোতা
এখন সময়ের দাবি
আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে দিন দিন সহিংসতা বাড়ছে। সেইসাথে বাড়ছে অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা। প্রতিনিয়ত লেগে থাকা সহিংস সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জল্পনা-কল্পনা চলছে তুমুলভাবেই। বিশ্লেষকরা তাদের মতামত দিচ্ছেন। সাধারণ জনগণও তাদের মত প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে সমানভাবেই। সবারই একটাই আশা— দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক, সরকার হোক গণতন্ত্রমনা। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলতে চাই সঠিক গণতন্ত্র চর্চার মাধমেই এই অস্থিতিশীল সহিংস পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হবে। গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে জনগণকে সকল ক্ষমতার উত্স বিবেচনা করে বিরোধী দলের মতামতকে মর্যাদা দিতে হবে। কোনভাবেই সহিংস পন্থা অবলম্বন করা যাবে না। বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা শীর্ষ নেতাদের মনে রাখা উচিত আপনারা যতই গণতন্ত্রের কথা বলুন সঠিক গণতন্ত্র চর্চা কেউই করছেন না। তরুণ প্রজন্ম আপনাদের স্মরণ করবে অবজ্ঞাভরে।
রাকিবুল হাসান রাসেল
অর্থনীতি বিভাগ, ৩য় বর্ষ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা
উদার গণতন্ত্র ও দেশের উন্নতির জন্য সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ভূমিকা অপরিসীম
আজকে নির্বাচন নিয়ে সর্বত্রই হাহাকার আর যত কল্পনা-জল্পনা। সবার মাঝে একটাই আতঙ্ক নির্বাচন আদৌ হবে কি না। কিন্তু একটি দেশ চালানোর জন্য নির্বাচনের ভূমিকা অপরিসীম। আর এ নির্বাচনকে নিয়ে যত হরতাল, মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল আর সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল। আর এজন্য সারা দেশে ব্যাপক ভাংচুর আর সংঘর্ষে প্রাণ হারাচ্ছে শত শত সাধারণ জনগণ। কিন্তু এতে কার ক্ষতি হচ্ছে? প্রকৃত পক্ষে সাধারণ জনগণের ক্ষতি বেশি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার অর্থ সম্পদ। এদিকে সাধারণ জিনিসের দাম বেড়েই যাচ্ছে ক্রমশ আকারে। আর এর একটাই কারণ- দেশে নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা চলছে। আর তাই নির্বাচন নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের একটাই পথ আলোচনা। আর এই আলোচনার মাধ্যমে সঠিক নির্বাচন পদ্ধতি অবলম্বন করে দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই সর্বস্তরের মানুষের একটাই দাবি- দেশের উন্নতির জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরাপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা করা। আর এটাই কোটি কোটি বাঙালির প্রাণের দাবি।
মনিরুল ইসলাম নাঈম
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
মানব সেবার মহান ব্রতই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে
হিংসা-বিদ্বেষ বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে। সাধারণ জনতাকে করেছে আতঙ্কগ্রস্ত। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আজ দেশবাসী প্রতিনিয়ত পরাধীন। ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়। হুমকির মুখে আজ প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকও । কিন্তু ভাবার সময় নেই কারো। কেউ চিন্তায় বিভোর ক্ষমতা ধরে রাখতে, কেউ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে কেউবা আবার বড়কর্তাদের মুক্ত করতে। স্বার্থোদ্ধারে প্রত্যেকেই বেছে নিয়েছে সহিংসতার মত পথকে। যার মূলে রয়েছে উদার রাজনৈতিক চর্চার অভাব এবং কূপমণ্ডুকের মত আঁকড়ে থাকা পরিবর্তন। প্রতিটি দলই ক্ষমতায় এসে মেতে উঠে দলীয়করণের খেলায় । দলীয়করণ ছড়িয়ে পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত। যার ফল রাজনৈতিক বিভক্তি। সম্প্রতি এ ভয়ানক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি। একটি মহল জাতিকে আস্তিক-নাস্তিক দু’ভাগে করতে উঠে-পড়ে লেগেছে। যা উস্কে দিয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন। যুদ্ধাপরাধ বাংলাদেশের কলঙ্কময় অধ্যায়। কিন্তু সরকার দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে গিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধের দায়ে শুধু বিরোধী দলের নেতাদের বিচারের আওতায় আনলেও ক্ষমতাসীন দলের কাউকে গ্রেফতার করেনি। যা বিচার ব্যবস্থাকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। দুই নেত্রীর নারীসুলভ বক্তব্য সাধারণ মানুষকে করছে বিভক্ত। আশার ক্ষীণ আলো কোথাও দেখা যায় না। গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে দেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এর একমাত্র উত্তরণ মানব সেবার মহান ব্রত এবং উদারতার চর্চা ।
রাসেল ওসমান
ইংরেজি বিভাগ
৪র্থ বর্ষ, ঢাকা কলেজ
