স্কুলবাসের ব্যবস্থা করা বাঞ্ছনীয়

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২১:১৫
পুনরায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে রবিবার প্রাণ হারাইলো ৮ জন স্কুল শিক্ষার্থী। এই ক্ষেত্রে পুরানো ঘাতক ট্রাকই দুর্ঘটনা ঘটাইয়াছে। স্কুলভ্যানে করিয়া বাচ্চারা ঘরে ফিরিতেছিল, এই দুর্ঘটনায় স্কুলভ্যানে থাকা বাচ্চাদের দুইজন বাদে সকলেই নিহত হইয়াছে। দুপুরে কুমিল্লার লালমাই-নোয়াখালী মহাসড়কে মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়ার হাতিমারা নামক স্থানে নোয়াখালীগামী মালবাহী ট্রাক বিপরীত দিক হইতে আসা নাথেরপেটুয়া মডেল স্কুলের একটি ভ্যানকে চাপা দিলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সড়কপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি একটি নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হইয়াছে। ইহা রীতিমতো মহামারীর রূপ ধারণ করিয়াছে সামপ্রতিক বত্সরগুলিতে। এই মৃত্যুমিছিলে বিখ্যাত-অখ্যাত কেহই রেহাই পাইতেছে না। ডিভাইডারবিহীন অপ্রশস্ত রাস্তা, রাস্তায় অত্যধিক যানবাহনের উপস্থিতি, গাড়ির ড্রাইভারদের ট্রেনিং ও দায়িত্ববোধের অভাব, পথচারীদের অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতেছে। যানবাহনের সংখ্যা যেইভাবে বৃদ্ধি পাইয়া চলিয়াছে, সেই তুলনায় আমাদের মহাসড়কগুলি যথেষ্ট প্রশস্ত নয়। যখন এইগুলি নির্মিত হইয়াছিল, তখন হয়তো ঠিকই ছিল। কিন্তু, এখন দুই লেইনের রাস্তা যানবাহনের চাপ সামলাইতে পারিতেছে না। তদুপরি, ডিভাইডার না থাকায় রাজপথে যানবাহন প্রায়ই মুখোমুখি পড়িয়া যায়; ফলে আঁকিয়া-বাঁকিয়া দ্রুতগামী বাস-ট্রাক প্রতিদিন গন্তব্যে পৌঁছাইতেছে। ডিভাইডারসহ প্রতিটি মহাসড়কে যদি লেনের সংখ্যা বাড়ান সম্ভব হইতো, তবে দুর্ঘটনা এমনিতেই কমিয়া আসিতো। তাহা হয়তো একদিন হইবেও। কিন্তু সহসাই সেইরূপ করিয়া ফেলা যে সম্ভব নহে, তাহা সহজেই অনুমেয়। সেমতাবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনা এড়াইতে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজটিই এই ক্ষেত্রে জরুরি। ড্রাইভিং লাইসেন্স দিবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও অনিয়ম এড়ানোও এই ক্ষেত্রের অন্যতম একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। সড়ক দুর্ঘটনায় নানা পেশার পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রায়ই নিহত হইতেছেন, কিন্তু স্কুলফেরতা আটজন নিষ্পাপ বাচ্চার মৃত্যু মানিয়া লওয়া কঠিন। কেবল বাচ্চাদের পিতামাতা-আত্মীয় নহে, যেকোনো সংবেদনশীল মানুষের কাছেই এই মৃত্যু অসহনীয় ঠেকিবে। তাই বলিতে হয়, এইরকম মৃত্যু আমরা আর চাই না। স্কুলের বাচ্চারা যাহাতে নিরাপদে স্কুলে যাইতে ও ফিরিতে পারে, তাহার উদ্যোগ অবশ্যই লইতে হইবে। প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলে না হইলেও শহরে এবং ব্যস্ত সড়কপথের পাশের স্কুলগুলির জন্য স্কুলবাসের ব্যবস্থা করিতে হইবে। সরকার শিক্ষা খাতে যথেষ্ট ব্যয় করিতেছে, আজ এই উদ্যোগটি লওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। জাতীয় পর্যায়ে এই উদ্যোগ লইয়া যেই কাজটি করিতে হইবে তাহা হইলো, সকল বাসের রঙ বা ডিজাইন একই রকম করিতে হইবে। তাহাতে সড়কপথের অন্য যানবাহন স্কুলবাসগুলিকে সহজেই চিনিতে পারিবে এবং স্কুলের শিশুদের সুরক্ষার জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করিবে। ক্ষেত্রবিশেষে এই বাসগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়া ও দূরত্ব রক্ষা করিয়া অন্য গাড়িগুলি চলিবে। পৃথিবীর নানান দেশেই স্কুলবাসের নিরাপত্তার জন্য সচেতন উদ্যোগের নিদর্শন রহিয়াছে। স্কুলের বাচ্চাদের পরিবহনের জন্য ছোট ছোট ভ্যান খুব কার্যকর ব্যবস্থা নহে। কুমিল্লার এই দুর্ঘটনাটি তাহারই সাক্ষ্য বহন করিতেছে। আবার সব বাচ্চা ভ্যানে আসা-যাওয়া করেও না। স্কুলবাসের ব্যবস্থা করিতে পারিলে পিতা-মাতার উপরেও সন্তানকে স্কুলে আনা-নেওয়ার চাপ কমিয়া আসিতো। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ উপহার দেওয়াই আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন