স্মার্টফোনের সূচনাটা অ্যাপল’র হাত ধরে হলেও সময়ের সাথে সাথে অ্যাপল’র সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে স্মার্টফোন নির্মাতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই স্যামসাং, এইচটিসি, এলজি, সনির মতো বড় বড় টেক জায়ান্ট নতুন নতুন সব ফিচার যুক্ত করেছে তাদের নিত্যনতুন স্মার্টফোনে। অ্যান্ড্রয়েডের দখলে স্মার্টফোনের বাজার থাকলেও এককভাবে একটি স্মার্টফোন হিসেবে আইফোনকে টেক্কা দিতে কেউ সক্ষম হয়নি এখনও। তবে আইফোনের একাধিপত্যকে এবার প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে স্যামসাংয়ের জনপ্রিয় গ্যালাক্সি সিরিজের সর্বশেষ সংযোজন গ্যালাক্সি এস৪। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অবমুক্ত হয়েছে স্যামাসংয়ের এই স্মার্টফোন, যাকে বলা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোন। নতুন নতুন সব ফিচার নিয়ে এই ফোনটিকে ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা আইফোনের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছেন। গ্যালাক্সি এস৪-এর আকর্ষণীয় কিছু ফিচারের কথা তুলে ধরা হলো এই লেখাতে।
এয়ার জেশ্চার :এই প্রথমবার কোনো স্মার্টফোনে যুক্ত হয়েছে এয়ার জেশ্চার ফিচার। গ্যালাক্সি এস৪-এর ডিসপ্লে’র উপর হাতের নড়াচড়াতেই অনেক কমান্ড দিতে পারবেন এর ব্যবহারকারী। সেটে গান চলাকালে হাতের ইশারাতেই গান বদলানো, ওয়েব ব্রাউজারের ওয়েব পেজ পাল্টানোর মতো কাজগুলো সহজেই করা যাবে এই ফোনে। জেশ্চার ফিচারটির সুবিধা দেওয়ার জন্য স্যামসাং তৈরি করেছে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন।
এয়ার ভিউ :ডিসপ্লে’র যেকোনো কনটেন্টকে না খুলেই আঙ্গুলের একটু ছোঁয়াতেই বড় করে দেখার ফিচারটির নাম এয়ার ভিউ। মনে করুন, আপনার একটি ইমেইল এসেছে। ইমেইলটি না খুলেই তার উপর আঙ্গুল রাখলেই একটু বড় করে ইমেইলটি দেখিয়ে দেবে গ্যালাক্সি এস৪। ঠিক একইভাবে ক্যালেন্ডারের কোনো একটি তারিখে আঙ্গুল রাখলে সেই তারিখের টাস্কগুলোও দেখিয়ে দেবে।
ড্রামা শট :এর ক্যামেরাটি নিমেষেই ১২টি ছবি তুলতে পারে। আর সেগুলো টাইম-ল্যাপস ব্যবহার করেও দেখাতে পারে একটি ছবিতে।
ডুয়াল ক্যামেরা :ডুয়াল ক্যামেরা রয়েছে অনেক ফোনেই। গ্যালাক্সি এস৪-এর বিশেষত্ব হচ্ছে, একইসাথে দুইটি ক্যামেরা চালু রাখা যায়। আর এরপর দুইটি ক্যামেরাকে সমন্বয় করে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহারকারী নিজের ছবিটি তুলতে পারবেন।
ডুয়াল ভিডিও কল :ভিডিও কলের ক্ষেত্রেও দুইটি ক্যামেরাই সক্রিয় রাখা যাবে এবং উভয় ক্যামেরার মাধ্যমেই ব্যবহারকারীর ছবি এবং পরিপার্শ্বের ভিডিও শেয়ার করা যাবে অপরপক্ষের সাথে।
গ্রুপ প্লে :গ্যালাক্সি এস৪ ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নিজেদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে নিতে পারবেন। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেরাই মাল্টিপল প্লে মোডের গেমগুলোও খেলতে পারবেন।
স্যামসাং অ্যাডাপ্ট ডিসপ্লে :গ্যালাক্সি এস৪কে বলা যেতে পারে বুদ্ধিমান একটি ফোন। এর ডিসপ্লেতে আপনি কখন কী দেখছেন, সেটা সে নিজেই বুঝতে পারে, আর সেই অনুযায়ী ডিসপ্লে’র উজ্জ্বলতা কমিয়ে-বাড়িয়ে নিতে পারে। যেমন আপনি যখন কোনো আর্টিকেল পড়বেন, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেবে। এভাবেই সব ধরনের কনটেন্টের জন্যই এটি ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
স্যামসাং অ্যাডাপ্ট সাউন্ড :অ্যাডাপ্ট ডিসপ্লে’র মতোই এই ফিচারটি ফোনে চালানো যেকোনো অডিওকে বুঝতে পারবে এবং অডিওর ধরণ অনুযায়ী এটি ফোনের ইকুয়ালাইজার পরিবর্তন করে দেবে।
এস ভয়েস ড্রাইভ :হ্যান্ডস ফ্রি এই ফাংশনটি সম্পূর্ণ নতুন করে তৈরি করা হয়েছে এই ফোনের জন্য। এই ফাংশনটি ব্যবহার করে কোনো ড্রাইভার ফোনটি না ধরেই তার কণ্ঠস্বরের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এই ফোনের বিভিন্ন ফিচার।
স্মার্ট স্ক্রল :ইমেইল বা কোনো কিছু পড়ার সময়ে স্ক্রল করার প্রয়োজন হয়। স্ক্রল করার জন্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় আঙ্গুল। তবে এই ফোনে কেবল ফোনটিকে সামনের দিকে বা পেছনের দিকে হেলানোর মাধ্যমেই স্ক্রল করার কাজটি করা যাবে সহজেই।
