বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৯
রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ভুলে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হচ্ছে একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই থাকে সাধারণ জনের সুনির্দিষ্ট অধিকার এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা। রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনেক ধারাগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা অন্যতম। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুষ্ঠু প্রয়োগ খুবই জরুরি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমাদের এই সোনার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিকমনা রাজনীতিক নেতা-কর্মীরা রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ভুলে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। যার কোন নির্দিষ্ট ভবিষ্যত্ নেই বললেই চলে। ব্যক্তিস্বার্থই খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রত্যেক নেতা-কর্মীদের কাছে। আর এ স্বার্থ রক্ষার্থে সব ধরনের অপকর্ম করতে তাদের বুক একটুও কাঁপে না। তারা ভুলে গেছে দেশের স্বার্থের কথা— এটা আমাদের মত সাধারণ জনগণের যতটা কষ্টের ঠিক ততোটা দুর্ভোগের । এ ব্যবস্থার পরিবর্তন খুব বেশি জরুরি। কিশোয়ার হাছিন সায়মা, ২য় বর্ষ, প্রাণীবিদ্যা বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাবা আর স্বামীর দোহাই বন্ধ করে, নিজ পরিচয়ে রাজনীতি দরকার সব দল নিজেদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া সবসময়। কোন দল এই দেশ নিয়ে ভাবে না। প্রধান দুই বংশধরই এই দেশ তাদের বলে দাবী করে। কেউ বলে আমার বাবার সূত্রে, আবার কেউ বলে আমার স্বামীর সূত্রে এই দেশ আমার। বাবা আর স্বামীর দোহাই দিয়ে স্বাধীন বাংলার কেটে গেল ৪২ বছর। আমার বাবা দেশের জন্য এটা করেছে, আমার স্বামী ঐটা করেছে, এরকম ছাপ না মেরে নিজে কি করছেন তা জনগণকে দেখান। আমরা বিশ্বাস করি আপনার বাবা আর আপনার স্বামীর অবদানে আজকের বাংলাদেশ। তাই বলে কি আপনারা এই দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন? এই অধিকার তো আপনাদের বাবা-স্বামী দেয়নি। যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসে তারা আগামীতে তাদের ক্ষমতা ঠিকে রাখার জন্য জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভুলে নিজেদের আবার ক্ষমতায় আশার পথ খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠে। এই নিয়ে বাঁধে সরকারি দল আর বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত। মাঝখানে বলির পাঁঠা হয় এই স্বাধীন দেশের নিরীহ কিছু মানুষ। এম সাবউদ্দিন রাসেদ বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়িরিং, ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়া, বাংলাদেশ সংঘাতময় রাজনীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক পথে চলুন উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাশে অন্যতম। স্বাধীনতার পর নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজ বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই দেশের শাসন ব্যবস্থা। কিন্তু, দুঃখের বিষয় যে,অপার সম্ভাবনাময় এই দেশে গণতন্ত্রের অপব্যবহার করা হচ্ছে। জনগণ ভোট দিয়ে যে দলকেই শাসন ব্যবস্থার ভার দেয় না কেন তারা দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলেই জড়িয়ে পড়ে। প্রতিবারই জনগণ একটি দলের উপর আস্থা হারিয়ে অপর দলকে নির্বাচিত করে। কিন্তু প্রতিবারাই জনগণ কম-বেশি আশাহত হয়। একটি দেশের গণতান্ত্রিক সুষ্ঠুতা নির্ভর করে সে দেশের আইন ব্যবস্থার উপর। বাংলাদেশে আইন ব্যবস্থা সত্যিকার অর্থেই দুর্বল। যে কোন ফাঁক দিয়েই অপরাধীরা বেরিয়ে আসে এবং অযথাই নিরাপদ ব্যক্তিরা সাজা ভোগ করে। আইন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে সহযোগিতা করা সরকারসহ প্রত্যেকের একান্ত কর্তব্য। এছাড়াও বর্তমান দেশের যে, পরিস্থিতি ধর্মকে পুঁজি করে যে রাজনীতি ব্যবস্থা চলছে, তা দেশের জনগণের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে, এটা দেশ ্ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। তাই জাতির এই সংকটময় ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সকল প্রতিহিংসা ও সহিংসতা এবং অসুস্থ ধারায় রাজনীতির পথ পরিহার করে দেশে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। এভাবেই আমাদের এই সোনার বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। ইসরাত জাহান প্রাণীবিদ্যা, ২য় বর্ষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতভাবে দেশকে ভালোবাসতে পারলে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে স্বাধীনতার ৪২ বছর পার হলেও এদেশের মানুষ এক ধরনের পরাধীন রয়ে গেছে। গণতন্ত্রের নামে কয়েকটি রাজনৈতিক দল যে সমস্ত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তা দেশকে ধ্বংসের কৌশল। ১৯৭১ সালের পূর্বে পশ্চিম পাকিস্তানীরা আমাদের ভূখণ্ডে অত্যাচার, নির্যাতন চালাতো। কিন্তু এর পরে নিজ দেশের কিছু সংখ্যক লোকেই জনসংখ্যার বড় একটি অংশের উপর চরম পর্যায়ে জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে এই ৪২ বছর শুধু দেশে হিংসার রাজনীতির বিস্তার ঘটেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট করছে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যারাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসছে তারা রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট করে ভোগ করছে। এতেই তারা থেমে যায়নি। এর সাথে খুন গুম বেড়ে চলছে। ধর্ষণ বেড়ে চলছে। এদেশের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য। আমাদের দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। মানবসম্পদে পৃথিবীর অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। মো. আরশেদ আলী অনার্স, তৃতীয় বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মহাখালী, ঢাকা চাই উদার গণতন্ত্রের চর্চা এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান খুব ভাল নয়। হত্যা, গুম, ধর্ষণ সবমিলিয়ে অশান্তি বিরাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে হরতাল ডাকছে। সরকারি ও বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে একমত হতে পারছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা হরতালে অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটছে। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এই অপ-রাজনীতির ফলে শত শত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তাই জনসাধারণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে আমাদের এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অবশেষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আম-জনতার পক্ষ থেকে আমাদের আবেদন, দয়া করে আমাদের কথা একটু ভাবুন। আমাদের আম-জনতার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে দেশে উদার গণতন্ত্রের চর্চা করুন। তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে আমাদের অনুরোধ- দয়া করে আমাদের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় মনোযোগ দিন এবং আমাদেরকে একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ উপহার দিন। তা না হলে হয়তোবা আমরা তরুণ প্রজন্মরাই উদার গণতন্ত্র চর্চার প্রতীক হয়ে আপনাদের সামনে আসব। এম এ রহমান হাওলাদার শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ কবি জসীম উদদীন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুলিখন :সানজিদা জিনিয়া