শক্তি নয় বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল দিয়েই সুস্থ গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা সম্ভব

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৩, ২২:০১
সারাবিশ্ব গণতন্ত্রের জোয়ারে উদ্ভাসিত। সেই জোয়ারের স্রোতে উদ্ভাসিত হয়ে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে সে গণতন্ত্র আজ লক্ষ্যযোগ্যভাবে বিকশিত হচ্ছে না। গণতন্ত্র একটি দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা। এ শাসন ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার জনগণের কাছে দায়ী থাকে এবং জবাবদিহি করে। কারণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স। এ জন্যই গণতন্ত্র সম্পর্কে আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন-Democracy is the government of the people by the people and for the people. দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে সমান বিবেচনা করা হয় এবং সুযোগ-সুবিধা সমভাবে বন্টন করা হয়। গণতন্ত্রে স্বাধীনভাবে দল গঠন ও মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা বিদ্যমান। নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারকে স্বীকার করে আইনের শাসনকে প্রাধান্য দেয়া গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে আজ এই বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাচ্ছে, যার কারণেই দেশ আজ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গণতন্ত্রের যে মৌলিক উপাদানগুলো আমরা দেখতে পাই যেমন-বাক-স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নিয়মতান্ত্রিক শক্তিশালী বিরোধী দল, পরমত ও পরের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, ব্যক্তির অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা, সুষ্ঠু নির্বাচন পদ্ধতি ও সংবাদপত্র তথা প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারে না। গণতন্ত্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শাসন ব্যবস্থা হলেও বর্তমান বাংলাদেশ তার বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করেছে। তাই প্রাচীন চিন্তাবিদদের (প্লেটো, এরিস্টটল, লেকী ও হেনরী মেইনের) সেই কথাগুলো আজ মনে পড়ে যায়- তারা গণতন্ত্রকে নিকৃষ্টমানের শাসন ব্যবস্থা বলে মত পোষণ করেছেন। কারণ ভাবাবেগদ্বারা পরিচালিত গণতন্ত্রের গুণের চেয়ে সংখ্যার উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। ফলে জ্ঞানী-গুণী ও উন্নত চরিত্রের সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর নির্বোধ ও অদক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রাধান্য পাচ্ছে। এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা অবাস্তব হয়ে পড়েছে। দলীয় শাসন ব্যবস্থার যাঁতাকলে পড়ে আজ উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্রে আজ স্বার্থ ও শ্রেণি-সংগ্রামকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে, তাই শোষিতের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। সুতরাং এদেশকে উন্নত করতে হলে, দেশের মানুষকে সুখী ও সমৃদ্ধ করতে চাইলে অবশ্যই আমাদের এই প্রতিহিংসাপরায়ণ বা ধ্বংসাত্বক গণতন্ত্র পরিহার করে সবাইকে সুস্থ ও সহনশীল গণতন্ত্রে ফিরে আসতে হবে অন্যথায় দেশ আবার স্বৈরশাসকের হাতে কারাবন্দি হবে, দেশ থেকে গণতন্ত্র আবার বিলীন হয়ে যাবে। লেখক :আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ (স্নাতকোত্তর), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া ই-মেইল:[email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন