শিগগিরই ভারতের সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হবে। চুক্তি হলে ভারতও ইইউভুক্ত ২৭ দেশে রফতানিতে বাংলাদেশের মতোই জিএসপি বা শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পাবে। ফলে দেশের সবচেয়ে বড় এ বাজারে ব্যবসা করা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে পোশাক রফতানিতে বড় ধরনের সমস্যা হবে বলে মনে আশঙ্কা করেছেন এ সংক্রান্ত এক সেমিনারের বক্তারা। তাই এ বিষয়ে সরকারকে এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া দরকার।
তবে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের বলেছেন, ‘এখনই এ বিষয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। আমরা ভারত এবং ইইউর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবো।’ ‘ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশে অভিঘাতের আশঙ্কা’ শীর্ষক এ সেমিনার গতকাল বুধবার রাজধানীর চেম্বার ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইন্সটিটিউট (বিএফটিআই) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। এমসিসিআই সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমানের সভাপত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক, বিএফটিআই’র প্রধান নির্বাহী ড. মজিবুর রহমান, সিপিডি’র অতিরিক্ত পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ। বিএফটিআই গবেষণা সহকারী তোফায়েল আহমেদ এতে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইইউ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক চুক্তির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তবে ভারতের মধ্যে কবে নাগাদ এফটিএ হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এফটিএ হলেও বাংলাদেশ কী ধরনের ক্ষতির শিকার হবে তা এখনই বলার সুযোগ নেই। এ নিয়ে অনুমাননির্ভর আশঙ্কার কথাই বলা হচ্ছে। আলোচিত এফটিএ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়ার লক্ষ্যে এখন আর শুল্কমুক্ত সুবিধার দিকে না তাকিয়ে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়নোর কথা বলেন তিনি।
বিএফটিআই’র প্রধান নির্বাহী বলেন, রফতানি বাণিজ্যে ভারত আমাদের শীর্ষ ৫ প্রতিযোগির অন্যতম। রফতানি পণ্য পৌঁছাতে ভারতের যেখানে লাগে ১৬ দিন বাংলাদেশের তাতে লাগে ২৫ দিন। এ রকম অনেক সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের তুলনায় রফতানি বাণিজ্যে এগিয়ে আছে ভারত। শুধু পোশাক খাত নয়, এর সঙ্গে সব রফতানি পণ্যের সমস্যা বিবেচনায় এনে করণীয় নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।
ফজলুল হক বলেন, আলোচিত এফটিএ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি। কারণ সব ধরনের কাঁচামাল, সর্বাধুনিক মেশিনারিজ এবং সহনীয় ব্যাক সুদের হার- এসব দিক থেকে রফতানিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ভারত। এতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়বে বাংলাদেশ। শিল্প ও রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আধুনিক রফতানি বাণিজ্য উন্নয়নে শুল্কমুক্ত সুবিধাই বড় মাপকাঠি নয়। তবে আলোচিত এফটিএর সম্ভাব্য অভিঘাত সম্পর্কে ইইউ এবং ভারতকে অবহিত করা উচিত। এ বিষয়ে একটি পলিসি পেপার এবং পজিশন পেপার করার পরামর্শ দিয়ে এতে অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি।
মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, ২০১১ সালে বিনা শুল্কে বাংলাদেশ ইইউতে রফতানি করে ১৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার অথচ ১২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ভারত রফতানি করেছে ৫৭ বিলিয়ন ডলার। শুল্কমুক্তভাবে রফতানি করলে ভারতের রফতানি অস্বভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। তাই ইইউ-ভারত এফটিএ হলেও ভারতের পোশাক খাতকে এর আওতামুক্ত রাখা অথবা কোটা বেঁধে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
