বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি হযবরল অবস্থা
বর্তমান বিশ্বে রাজনৈতিক উন্নয়ন একটি গতিশীল প্রক্রিয়া। দেশ, কাল, জাতি ভেদে এর সামান্য প্রার্থক্য নিহিত। তবে বর্তমান পেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি হযবরল অবস্থা। সম্প্রতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ খুবই হুমকিস্বরূপ। দেশের সাধারণ জনগণও এ হুমকির বাইরে নয়। রাজনৈতিক সহিংসতা, কোন্দল, দুর্নীতি এগুলো যেন বর্তমানের ফ্যাশান শোতে রূপ নিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের উপর বেপরোয়াভাবে নির্যাতন, লাঠিচার্জ, আইন-শৃংখলা বাহিনী দ্বারা গুলি করা এসব নিশ্চয় স্বাভাবিক বিষয় নয়। গণতান্ত্রিক দেশে যে কোন দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে তাদের ত্রুটিসমূহ ধরে দিবে। তবে বর্তমানে রাজনীতির যে পরিস্থিতি তাতে বিষয়টি সহজেই মেনে নেওয়ার যোগ্য নয়। দেশের সার্বিক বিবেচনার দিকে লক্ষ্য রেখে সংখ্যাগুরু দলটিকে এগোতে হবে এটাই দেশের প্রত্যাশা।
আকাশ আহমেদ (জারসা)
ওল্ড ফার্স্ব ইয়ার-৩২১০ (সমাজবিজ্ঞান অনার্স)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,
কুষ্টিয়া
----
দলের চেয়ে দেশের স্বার্থ সকলের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া প্রয়োজন
সাধারণত আমাদের দেশের পুরো রাজনীতি চলে ভোটের রাজনীতিতে। যখন নির্বাচন সামনে আসবে, সাধারণ মানুষের পায়ে ধরে সালাম করতেও কোন রাজনৈতিক ব্যক্তির বাধে না। ভোটে জয়ী হবার পর সব যেন ভুলে যান। এই স্বাধীন দেশতো শুধু কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আমরা সকল বাঙালির বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে এই বাংলাদেশের প্রতি। যারা বিশেষ করে নোংরা রাজনীতিতে জড়িয়েছে তাদের প্রতি আমাদের এই অনুরোধ, আপনারা নিজের জ্ঞান চক্ষু খুলে, হূদয় প্রসারিত করে একবার ভেনেজুয়েলার প্রয়াত রাষ্ট্রনায়কের কথা ভাবুন। তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়কের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিজে চলে গেলেন আর কাঁদিয়ে গেলেন তার দেশের সকল মানব-মানবীকে। আর আমাদের দেশে যেই দল গদি লাভ করে সর্বদা অন্য দেশের সঙ্গে স্বজনপ্রীতিতে ব্যস্ত থাকে। দেশের গণমানুষের কথা বিবেচনা না করে দেশের অমূল্য সম্পদগুলো অন্য দেশের হাতে তুলে দিতেও কোন দ্বিধাবোধ করে না। নিজের দলের ক্ষমতা, শক্তি আরো বাড়ানোর জন্য নিরীহ বাংলার মানুষের উপরে অত্যাচার চালায়। কেন আমরা কি অন্য রাষ্ট্রের নেতাদের থেকে শিক্ষা নিতে পারি না। তারাতো তাদের দেশের ক্ষতি হয় এমন কোন চুক্তিতে মত দেয় না। বাইরের দেশের সব দলের নেতারা দেশের স্বার্থ কোন অবস্থাতেই অন্য কারো হাতে তুলে দিবে না। বর্তমানে আমাদের দেশে দলে-দলে সংঘাতের শিকার হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী, খেটে খাওয়া দিনমজুর এবং দেশের সংখ্যালঘুদের ঘর, মন্দির, মসজিদ, এমনকি বাদ যায়নি সরকারি অনেক স্থাপনাও। কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, এগুলো কার সম্পদ? অবশ্যই দেশের। এই পরিস্থিতিতে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের প্রয়োজন নিজের দলের স্বার্থের কথা বিবেচনা না করে দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয় এমনভাবে দেশের বর্তমান সংকট সামাল দেয়া।
বিদ্যুত্ দেব
বিএসএস, ২য় বর্ষ,
বাউবি, মহসিন কলেজ,
চট্টগ্রাম
---
মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন রাজনীতিবিদ দ্বারা জনকল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব
যে ব্যক্তি উন্নত পরিবেশে বসবাস করে তার মানসিকতাও উন্নত হয়। মানুষ নোংরা ও কলুষিত পরিবেশে বসবাস করলে হীনমন্যতায় ভোগে। তেমনি আমরা জনসাধারণ কলুষিত, অন্ধকারাচ্ছন্ন, নোংরা রাজনৈতিক পরিবেশে বসবাস করছি। শিক্ষা মানুষকে বিকশিত ও প্রস্ফুটিত করে প্রকৃত মানুষে পরিণত করে। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মাঝে এক ফোঁটা শিক্ষার মনোভাব নেই। আছে শুধু হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার। কলুষিত পরিবেশ দেহ ও মনের বিকাশকে যেমন বাধাগ্রস্ত করে, তেমনি কুলষিত, অহংকার ও হিংসা, বিদ্বেষের রাজনীতি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার অভাবে জনসাধারণ কল্যাণমূলক কোন কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারে না বলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে অশান্তি ও বিশৃংখলা বিরাজ করছে। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মানুষের জীবনে বয়ে আনে অনাবিল শান্তি। কিন্তু আমাদের এই স্বাধীন দেশে নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। জনসাধারণের সামনেই হচ্ছে ছিনতাই, মারামারি-কাটাকাটি, লুটপাট ইত্যাদি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নেই কোন সুস্থ পদক্ষেপ। রাতারাতি সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ গুম হয়ে যাচ্ছেন। সরকারি দল, বিরোধী দলের মধ্যে নেই কোন সমঝোতা। এদেশের রাজনীতিবিদরা উদার মন-মানসিকতা নিয়ে জনকল্যাণে যদি আত্মনিয়োগ করতে পারে তাহলেই হয়তো দেশে শান্তি ফিরে আসবে। মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ তৈরি হলে জনকল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
তরিকুল ইসলাম রাসেল
মানবিক বিভাগ,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
----
উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রত্যাশা সকলের
স্বাধীনতার পরবর্তী ৪১ বছরেও জনগণ সংঘাতের অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়নি। বাংলার জনগণ স্বাধীনতা অর্জন করেছে, কিন্তু তারা কি পেরেছে স্বাধীনভাবে বাঁচতে। তারা কি পেয়েছে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার। দেশের সর্বত্র আজ সংঘাত, প্রতিহিংসা, হানাহানি এমনকি নির্দ্বিধায় মানুষ খুন পর্যন্ত চলছে। জনগণ এসব সংঘাতের পথ থেকে মুক্তি চায়। দেশে রয়েছে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, রয়েছে আইন-কানুন, বিভিন্ন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে কেন এই সংঘাত, কেন এই প্রতিহিংসার রাজনীতি। দেশের রাজনীতিকরা উদার গণতন্ত্রের চর্চা ভুলে গেছে। তারা আজ গণতন্ত্রের নামে প্রতিহিংসায় লিপ্ত। কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, তাদের মাঝে সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে কিন্তু সংঘাত, প্রতিহিংসার লেশমাত্র নেই। পরাজিত দল বিজয়ী দলকে মালা দিয়ে বরণ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন, কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কোন্ সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে জনগণ আজ শংকিত। এক এক রাজনৈতিক দল এক এক মত প্রকাশ করছে। একদল চাচ্ছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আর একদল বলছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। এ নিয়ে দেশ আজ চরম সংকটে। যে দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে সে নির্বাচনকে আমরা গণতান্ত্রিক নির্বাচন বলতে পারি না। একদলীয় নির্বাচন এদেশের মানুষ আশা করে না। জনগণ চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে করে তারা তাদের পছন্দমত দলকে ক্ষমতায় বসাতে পারে। আর তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উদারতা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য আবশ্যক।
আমানুল্ল¬াহ আবির
বিএ অনার্স ১ম বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
